ইরানের কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : সৌরবর্ষের প্রথম দিনটি ইরানীদের নিকট খুবই সম্মানিত অত্যন্ত গুরুত্ববহ। যদিও হাজার হাজার বছরের প্রাচীন এ সংস্কৃতিতে কালের আবর্তমানে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে তা সত্ত্বেও এ উৎসবটি এখনো টিকে আছে এবং ইরানে আসা বিভিন্ন ধর্ম ও মাযহাব এর সমর্থন করেছে। আর এভাবেই নওরোজ আজও ইরানী জাতির ঐক্য ও সংহতির চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসলাম আগমনের পূর্বে নওরোজ জারতুশত ধর্মের অনুসারীদের বছরের প্রথম দিন হিসেবে বিবেচিত হত বলে জানা গেছে। আর ইরানীরা প্রাচীনকাল হতে এদিনটিকে বিভিন্ন দোয়া ও উপাসনার মাধ্যমে পালন করতো।
এ সম্পর্কে ইসলামের প্রাথমিক যুগের উপর রচিত ইতিহাস গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত হয়েছে যে, ইরান ভূমিতে ইসলাম আগমনের পর নওরোজের সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার সম্ভবনা ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে ইতিহাসের সাক্ষ্য অনুযায়ী ইসলাম আগমনের সাথে সাথে নওরোজ তথা ইরানী নববর্ষের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং মুসলমানরা এর সমর্থন করে।
আর এভাবেই নওরোজ এমন একটি ঈদ যা মুসলমান এবং যারতুশতদের যৌথ একটি ঈদ বলে বিবেচিত হতে শুরু করে এবং যারতুশতরা তাদের বিশেষ দোয়া ও উপাসনার মাধ্যমে এবং মুসলমানরা বিভিন্ন ইসলামী দোয়া, কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
অন্য দৃষ্টিতে নওরোজ শব্দটি প্রাচীন কাল হতে বর্তমান যুগ অবধি ইরানীদের একটি ঈদ হিসেবে বিবেচিত। এ ঈদের সাথে সাথে গাছ গাছালী শীতের আড়ামোড়া ছেড়ে নতুন সবুজ পাতা ধারণ করে, ফুলের বাগানগুলো ফুলে ফুলে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
যদি চাই নওরোজকে কোরআনের দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করতে তবে সর্বপ্রথম যে জিনিষটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে তা হচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া বৃক্ষরাজির নতুনভাবে জন্মলাভ করা। আর এটাই হচ্ছে ইরানীদের দৃষ্টিতে বসন্ত ও নওরোজের উৎসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা বসন্তের আগমনের সাথে সাথে শীতের মৌসুমের বিদায়ঘন্টা বাজে। আর যা কিছু শীতের কনকনে ঠাণ্ডা ও তুষারের ছোঁয়ায় মৃত্যুর দারে পৌছে ছিল তা নতুনভাবে জীবন লাভ করে। আর এ বিষয়টি মানুষের পূনঃউত্থানের ন্যায়।
অতএব, নওরোজের প্রথা টিকে থাকার পিছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রকৃতির নতুনভাবে জন্মলাভের বিষয়টি, আর প্রকৃতি নতুনভাবে জন্মলাভের বিষয়টিকে কোরআন মানুষের পূণঃউত্থানের সাথে তুলনা করেছে।
অপর যে কারণটি এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে তা হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতে যাওয়া এবং নিজেদের মাঝে বিদ্যমান ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে ফেলার বিষয়টি। কেননা ইরানীরা এ দিনে পূর্বেকার সকল কলুষতা, মন-মালিন্যতা দূর করার নিমিত্তে একে অপরের সাথে আলিঙ্গন করে। আর মনের কলুষতা ও ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে ফেলা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও ইসলামী রেওয়ায়েতসমূহে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। # 554392