IQNA

কুদসকে ইহুদী করণ চক্রান্তের বিপরীতে নিরবতা অবলম্বনের অর্থ দখলদার ইসরাইলকে সমর্থন করা

7:55 - April 05, 2010
সংবাদ: 1902416
আন্তর্জাতিক বিভাগ: ইসলামী ও আরব দেশগুলোর কর্তব্য হচ্ছে কুদসে জায়নবাদী ইসরাইলের অপরাধকর্মের বিপরীতে প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং সকল ক্ষেত্রে মসজিদুল আকসা ও কুদস রক্ষায় ফিলিস্তিনীদের পাশে দাড়ানো। আর কুদসকে ইহুদী শহরে রূপান্তরীত করার চক্রান্তের বিপরীতে নিরবতা অবলম্বন, দখলদার ইসরাইলের সমর্থনের সমতুল্য ।
লেবানন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক জনাব তালাল উতরিসী, ইরানের কোরআন বিষয়কবার্তা সংস্থা ইকনাকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন: কুদস এবং ফিলিস্তিনের বিষয়ে কোনরূপ শৈথিল্য দেখানো উচিত নয়। আরব ও ইসলামী দেশগুলোর উচিত প্রকাশ্য দিবালোকে ফিলিস্তিনীদের অধিকার হরন এবং কুদস ও ইসলামী পবিত্র স্থানসমূহের পরিচিত বদলে দেয়ার লক্ষ্যে দখলদার জায়নবাদী ইসরাইলের অপরাধকর্ম ও চক্রান্ত বিশ্ববাসীর সামনে ফাঁশ করে দেয়া।
তিনি শুধুমাত্র বিবৃতির মাধ্যমে ইসরাইলের অপরাধকর্মের নিন্দা জানালে তা কোন উপকার আসবে না বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: দুঃখজনকভাবে কুদস শহরে যা কিছু ঘটছে এ ব্যাপারে মুসলমান এবং আরবদেশগুলোর অবস্থান নড়বড়ে এবং তারা এ ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। এমনকি ও ইসলামী সম্মেলন সংস্থা বা ও আই সিও এ বিষয় এ পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন: ইসলামী সম্মেলন সংস্থা, ফিলিস্তিন ও কুদসের বিষয়ে এমন আচরণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব সমাজ (যারা জায়নবাদী ইসরাইলের সমর্থক) ধারণা করছে যে, এ সংস্থার কুদসকে ইহুদী করণের বিষয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই। ফলশ্রুতিতে কুদসকে ইহুদী শহরে রূপান্তরীত করতে ইসরাইলীরা তাদের কর্মসূচী অব্যহত রাখার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।
জনাব তালাল উতরিসী এ সাক্ষাতকারে আরো জানান: অভিজ্ঞতা এটা প্রমাণ করেছে যে, বিগত কয়েক বছর ধরে কোন ধরণের সংলাপই ফলপ্রসু হয়নি এবং শুধুমাত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে লেবানন ও গাজার কিছু জমি ইসরাইলের হাত থেকে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। আর প্রতিরোধের মাধ্যমে দখলদার ইসরাইলকে পিছু হটতে এবং কুদসে ইহুদী করণের পথে বাধা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাসী।
তালাল উতরিসী বলেন: কিছু কিছু ইসলামী দেশ নীতি অবলম্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের নীতি দ্বারা প্রভাবিত। আর এ কারণেই তারা ফিলিস্তিনের পক্ষে ও ইসরাইলের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে কোন স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়।
তিনি ‘সম্প্রতি আল খালিলে অবস্থিত হারামে ইব্রাহিমীকে ইহুদী প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মুসলমানরা ইসরায়েলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে পারবে কি না?’ এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন: ইতিহাস সংক্রান্ত ইসরাইলীদের সকল দাবীই মিথ্যা ও ভিত্তি হীন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ক্ষেত্রে যে সমস্যা রয়েছে তা হল আন্তর্জাতিক আইন ন্যায়সঙ্গত নয় এবং আন্তর্জাতিক আদালত জায়নবাদী ইসরাইল ও পশ্চিমাদের সিদ্ধান্তের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে রায় দেয়।
তিনি আরো বলেন: এ পর্যন্ত অনেক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সমাজ এবং জাতিসংঘ ইসরাইলের অমানবিক পদক্ষেপ ও তাদের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে জারী করেছে, কিন্তু দখলদার ইসরাইল এর কোনটার উপরেই আমল করেনি ফলে কোনটাই বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
লেবানন বিশ্ব বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক বলেন: কিছু কিছু ইসলামী দেশ নীতি অবলম্বনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের নীতি দ্বারা প্রভাবিত এবং তারা ফিলিস্তিনের পক্ষে ও ইসরাইলের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে কোন স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়। তারা এ বিষয়ে সদা সন্ত্রস্ত যে, তাদের গৃহিত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবিয়ে না তোলে।
তিনি তার সাক্ষাতকারের শেষাংশে লিবিয়াতে আরব আমিরদের সভায় গৃহিত, কুদস রক্ষায় ৫০ কোটি ডলার প্রদানের সিদ্ধান্তের প্রতি ইশারা করে বলেন: আরব লীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রথমবারের মত গৃহিত হয়নি। এর পূর্বে এহেন সিদ্ধান্ত বেশ কয়েকবার গৃহিত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। কেননা একদিকে কুদসের সমর্থনে দাড়িয়ে কুদসকে ইহুদী করণে দখলদার ইসরাইলীদের চক্রান্তের বিরোধীতা করার কোন দৃঢ় মনোবল আরব লীগের নেই। অপরদিকে আরব লীগের কিছু কিছু দেশ আর্থিক সহযোগিতা করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী নয়। # 556958
captcha