IQNA

জামাতের নামায প্রতিষ্ঠায় শিয়াদেরকে কেউ বাধা দিতে পারবে না

0:26 - April 06, 2010
সংবাদ: 1902920
আন্তর্জাতিক বিভাগ: সৌদি আরবের আল খুবর শহরের প্রখ্যাত শিয়া আলেম হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ বাকের আন নাসের, সেদেশের প্রশাসন কর্তৃক ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের অপরাধে বেশ কয়েকজন শিয়া ব্যক্তিত্ব গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে বলেন: শিয়াদেরকে কেউই জামাতের নামায প্রতিষ্ঠা ও মাযহাব বিষয়ক আচার অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে বাধা প্রদান করতে পারবে না।
রাছেদ নিউজ চ্যানেলের বরাত দিয়ে ইরানের কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ বাকের আন নাসের বলেছেন: নামায, মহান আল্লাহর ইবাদত, আহলে বাইত (আ.) কে ভালবাসা এবং মাযহাব বিষয়ক আচার অনুষ্ঠান পালন আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে। যদি কেউ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এতে বাধা সৃষ্টি করতে চায় তবে শিয়ারা আরো বেশী উদ্যোমে তা পালন করবে।
তিনি সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক, মাযহাব সংক্রান্ত আচার অনুষ্ঠানাদি পালনের অভিযোগে আল খুবর শহরের শিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুল্লাহ ফাহাদ আল মালেকী, মাহদী আহমাদ আল খুযাইর এবং হাসান সালেহ আল মাহনারের গ্রেপ্তারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এ পদক্ষেপ সকল শিয়ার অবমাননার সমতুল্য বলে তিনি আখ্যায়িত করেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ বাকের আন নাসের আরো জানান: সৌদি নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারকৃত এ শিয়া ব্যক্তিত্বদেরকে এক অঙ্গিকার নামায় স্বাক্ষর করতে বলেছে, যাতে ভবিষ্যতে জামাতের নামায প্রতিষ্ঠা ও অন্যান্য মাযহাব সংক্রান্ত আচার অনুষ্ঠানাদি পালন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি আল খুবর শহরে শিয়াদের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: আল খুবর শহরে ৩টি মসজিদ তালাবদ্ধ করে দেয়ার পর থেকে আমরা সন্ত্রস্ত অবস্থায় নিজেদের ব্যক্তিগত বাসভবনে নামায আদায় করছি। বিষয়টি এমন যে, তাদের দৃষ্টিতে আমরা কোন হারাম কাজ সম্পাদন করছি এবং নিরাপত্তা বাহিনী আমাদেরকে সবসময় নজরবন্দী করে রেখেছে।
তিনি বলেন: সৌদি নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা দীর্ঘ দেড় বছর যাবত আল খুবর, রা’সে তানুরাহ, আল খাফজী শহরসমূহে ৯টি মসজিদে তালা ঝুলিয়ে শিয়া ব্যক্তিত্বদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। এমতাবস্থায় সৌদি মানবাধিকার পরিষদ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য যে, সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ শিয়া। আর তাদের বেশিরভাগই সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র প্রধান অঞ্চল আশ শারকিয়াতে বসবাস করেন। #557843
captcha