রেডিও তেহরানের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যজনক ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ হামলার দশম বার্ষিকী আজ। দিনটিকে যথাযথভাবে পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে মার্কিন সরকার। এ উপলক্ষে সরকার নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র, মার্কিন সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ায় আলাদা কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এ তিনটি জায়গায় কথিত ছিনতাই করা চারটি বাণিজ্যিক বিমান আঘাত হেনেছিল। তবে, নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রে বিমান হামলায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছিল এবং ভবন ধ্বসে প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো পরিদর্শন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ঠিক যে সময় হামলা হয়েছিল ঠিক সে সময় নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে এক মিনিট নিরবতা পালন করবেন তারা। হামলার বার্ষিকী পালনের প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ১০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আল -কায়েদা পরাজয়ের পথে।
এদিকে, মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ২০০১ সালের ভয়াবহ হামলার পর মার্কিন সরকার ইরাকে সামরিক অভিযানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ইরাকের কাছে গণ-বিধ্বংসী মারণাস্ত্র থাকার কথা বলে যেসব গোয়েন্দা তথ্য দেয়া হয়েছিল তার বেশিরভাগই ভুল ছিল। ইরাক যুদ্ধের বিষয়ে কলিন পাওয়েল বলেছেন, ওই সব তথ্য ছিল তার জীবনে একটা "কলঙ্কজনক ঘটনা"। তিনি জানিয়েছেন, "পরে আমরা জানতে পেরেছি যে, গোয়েন্দা সংস্থার অনেক তথ্যই ভুল ছিল। আমি এর পরিণতি বুঝতে পেরেছিলাম এবং এ জন্য আমি খুবই দুঃখিত ছিলাম। কিন্তু আমার কিছুই করার ছিল না, আমার কথায় কোনো কিছু পরিবর্তন হতো না; বড় জোর আমি এর সবচেয়ে সুন্দর বিশ্লেষণ দিতে পারতাম।"
২০০১ সালের হামলার পর মার্কিন সরকার প্রথমে আফগানিস্তানে ও পরে ইরাকে হামলা চালায়। নিউ ইয়র্কে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকা ও গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র রাখার মিথ্যা অভিযোগে ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এ দু'টি দেশেই হামলা চালানোর জন্য সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার মার্কিন সরকারকে অন্ধ সমর্থন দিয়োছলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ইরাকে একটিও গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল সে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছার মতো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বরং আল-কায়েদা দমনের নামে বিশ্বের কয়েকটি মুসলিম দেশে হামলা চালিয়ে তা দখল করে নিয়েছে এবং এতে লাখ লাখ মুসলমান নিহত হয়েছে। তাছাড়া, কথিত আল-কায়েদার তৎপরতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বৃটেনের কোনো সাধারণ নাগরিক নিহত হচ্ছে না এবং তাদের সরাসরি কোনো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। উল্টো ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো দেশকে প্রতিদিন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।#