তিউনিসিয়ার সামাজিক পরিবর্তনের পর মিসর, লিবিয়া, বাহরাইন ও সৌদি আরবের অসংখ্য মানুষের প্রতিবাদের মুখে, মধ্য প্রাচ্যের দেশ সমূহকে এক বৃহৎ পরিবর্তনের সম্মুখীন করে। মানুষের অসন্তুষ্টির সাথে, বেকারত্বের হার বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক শোচনীয় অবস্থা এ সকল আন্দোলনের মূল কারণ। মধ্য প্রাচ্যের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, মধ্য এশিয়া যেখানে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত এবং মানুষের অসন্তুষ্টি সৌদি আরবের দেশ সমূহের মতই। বর্তমান এই পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আন্তর্জাতিক বিষয়ে গবেষণাকারী হাসান বেহেশ্তী পুরের সাথে আলোচনা করি।
ইকনা : মধ্য এশিয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক শর্ত সাপেক্ষে মধ্য প্রাচ্যের আরব দেশ সমূহেও বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে?
মধ্য এশিয়ার অঞ্চল সমূহে তাদের নিজেদের মধ্যে এক বিশেষ জটিলতা রয়েছে এবং এ সব এলাকায় ইসলামী জাগরণের কোন অস্তিত্ব নেই।
ইকনা : যেমন ভাবে সংবাদ মাধ্যম চিহ্নিত করছে যে ইসলামী দল সমূহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কর্ম তৎপর রয়েছে। আপনার দৃষ্টিতে, তাদের দ্বারা এ সকল প্রশাসনের পরিবর্তন ঘটা কি সম্ভব?
সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের পর, মধ্য এশিয়ার নতুন সমস্ত রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিরগিজিস্থানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা দরকার। যেমন ভাবে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সংগ্রামে, কোরবান বেইক বাকিউফ এর পতন হয়েছে।
কিরগিজিস্তানে প্রথম স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে, এ অঞ্চলে নতুন পরিবর্তনের সুসংবাদ দেওয়া হয়। কিন্তু মধ্য এশিয়ার ইসলামী দল সমূহ হয় তাজিকিস্তানের সংগ্রামী ইসলামী দলের মত রয়েছে যা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখে না অথবা উজবেকিস্থানের আলকাইদা বা ওয়াহাবী দল, যারা সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা মধ্য এশিয়ার ইসলামী দল সমূহের ক্ষতিকর দিকগুলোর প্রতি অবশ্যই গুরুত্ব আরোপ করছি যে, তারা যেন এ সমস্ত কোন কোন ঘটনার অথবা সুফিদের সাথে জড়িত না হয়। কারণ তাদের দ্বারা কারো পতন ঘটানো সম্ভব নয় এবং তাদের নিকট হতে কোন ভাবেই এ ধরনে আসা করা ঠিক হবে না।
ইকনা : জনাব বেহেশ্তি পুর, আপনার মতে মধ্য এশিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, কাজাকিস্তানের মানুষের জন্য, সরকারের বিরুদ্ধে একটি ইসলামী সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারে কি?
অসন্তুষ্টি রয়েছে কিন্তু ইসলামী আদর্শ নেই। অল্প সংখ্যক যা রয়েছে তাও আবার পশ্চিমা পন্থি। এ অবস্থায় তুর্কমেনিস্তানের ১.৬% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। কাজাকিস্তানে ‘নাজার বাইফ’ এমন শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে যে, তেল উৎপাদন ও মূল্য বৃদ্ধিতে এবং এ দেশের সংবাদপত্র সমূহে গোত্রীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সফলতা উপভোগ করছে এবং বাইফের মতে শুধু মাত্র একটি নির্বাচনে এ সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে।
এ রূপ পরিস্থিতিতে মধ্য এশিয়ার মানুষেরা যখন কোন খবর ও সংবাদ মাধ্যম হতে এত দূরে, তখন তাদের নিকট হতে কোন ভাবেই ইসলামী জাগরণের মত বড় কোন পরিবর্তনের আশা করা যায় না।
ইকনা : কাজাকস্থানের মত দেশের মানুষদের প্রকৃত জীবনযাত্রার দাবী রয়েছে অথবা একটি বিষয়ের ক্ষেত্রেই দলপতি?
দুটি বিষয়ই পরিলক্ষিত হয়। মধ্য এশিয়ার দেশ সমূহ হতে কোন ভাবে এ দুটিকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
ইকনা : আপনার আলোচনায় কিরগিচিস্তানের সম্পর্কে ইঙ্গিত করেছেন। কাজাকিস্তানের মানুষের দাবী, কিরগিজিস্তানের মানুষদের মত পরিস্থিতি বয়ে নিয়ে আসতে পারবে?
এ বিষয়টি তাদের মাথায় রয়েছে কিন্তু অধিকাংশ মানুষ পশ্চিমা পন্থি বা নাজার বাইফের সাথে একমত। আর এ কারণেই বড় ধরনের কোন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক সময় লাগবে।
ইকনা : অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সংবাদ পরিক্রমার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে মধ্য এশিয়ার মানুষের একটি সামাজিক ব্যাধি। এ অবস্থাতেও কেন এ সব অঞ্চলের মানুষ ইসলামী জাগরণে সাড়া দিচ্ছে না?
কারণ এখনো এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সমাজের বড় কোন পরিবর্তনের জন্য, হয় বিদেশী কোন শক্তি যেমন- রাশিয়া ও আমেরিকার সাহায্য নিতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে রাস্তায় এসে প্রতিবাদ করতে হবে। কিন্তু মধ্য এশিয়ার দেশ সমূহ বিশেষ করে কাজাকস্থানে এ ধরনের কোন পরিস্থিতির অস্তিত্বই নেই।
996944#