IQNA

ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষণের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ

19:53 - September 03, 2012
সংবাদ: 2404290
আন্তর্জাতিক বিভাগ : জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ১৬তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসলামি বিপ্লবের মহান রাহবার প্রদত্ত ভাষণের পূর্ণ অনুবাদ ইকনা পাঠকদের জন্য উল্লেখ করা হল।
বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট :
বিস্‌মিল্লাহির্‌ রাহ্‌মানির রাহিম!
আলহাম্‌দু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওয়াস্‌সালাতু ওয়াস্‌সালামু আলার্ রাসুলিল আজামুল আমিন ওয়ালা আলিহিত্ তাহিরিন ওসাহ‌ল্বিহিল মুন্‌তাজিবিন অয়ালা জামিয়িল্ আম্বিয়ায়ি ওয়াল্ি মুর্সা লিন।
সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, ন্যামভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি পরিষদ ও নেতৃবৃন্দ এবং বৃহত এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।
আমরা এখানে সমবেত হয়েছি, আল্লাহর সাহায্যে ছয় দশক আগে কজন দায়িত্বশীল, নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতার সাহসী, সময়োপযোগী ও সচেতন চিন্তার ফলে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, বর্তমান বিশ্বের চাহিদার প্রেক্ষাপটে সে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাতে প্রাণ সঞ্চারের লক্ষ্যে।
আমাদের অতিথিগণ বিশ্ব ভূগোলের দূরের ও কাছের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে সমবেত হয়েছেন। আমাদের মাঝে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যগত ভিন্নতা থাকলেও আমি এ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ‘আহমাদ সুকর্ন’র ভাষায় বলতে চাই : ন্যাম গঠনের উদ্দেশ্য ভৌগোলিক, ধর্মীয় কিংবা বর্ণগত একীভূতকরণ নয় বরং ঐক্যবদ্ধ হওয়াটাই প্রয়োজন। সেদিন ন্যাম বা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্য দেশগুলো বলদর্পী, আধিপত্যকামী, অতৃপ্ত শক্তিগুলোর আধিপত্যবাদী গ্রাস থেকে নিজেদেরকে রক্ষার প্রয়োজন বোধ করেছিল। সাম্রাজ্যবাদী সরঞ্জামাদির ব্যাপক উন্নয়ন ও বিস্তারের ফলে সেই প্রয়োজনীয়তা আজো অক্ষুন্ন রয়েছে।

আমি আরেকটি বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই : ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, মানুষের মাঝে সংস্কৃতি, ভাষা, বর্ণগত সামঞ্জস্য না থাকলেও স্বভাব কিংবা প্রকৃতিগত অভিন্নতা বা সাম্য রয়েছে যা মানুষকে পবিত্রতা, ন্যায়, সমবেদনা এবং সহযোগিতার দিকে আহ্বান জানায়। মানুষের সামগ্রিক একটা স্বভাবই হলো গোমরাহি বা বিচ্যুতিপূর্ণ আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে সুস্থ ও ন্যায়ের পথে ধাবিত হওয়া এবং এ পথে গেলে মানুষ একত্ববাদ, আধ্যাত্মিকতা ও ঐশী সত্ত্বার সন্ধান পায়। এ সমৃদ্ধ বাস্তবতা এমন একটা স্বাধীন সমাজ গঠন করার ভিত্তি রচনা করতে পারে যে সমাজে উন্নয়ন এবং ন্যায় একসাথে বিরাজ করবে। সে সমাজে আধ্যাত্মিকতার আলো জনগণের পার্থিব ও বস্তুতান্ত্রিক- উভয় কর্মততপরতার ওপর প্রভাব বিস্তার করবে। সে আধ্যাত্মিকতার আলোয় সমৃদ্ধ সমাজের মানুষ ঐশী ধর্মগুলোর প্রতিশ্রুত-পরকালীন বেহেশ্‌তের সুখ-শান্তির আগে পার্থিব জগতেই বেহেশ্‌তের সুখ ভোগ করবে। শুধু তাই নয়, অভিন্ন এই সত্ত্বাগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বাহ্যত বিভিন্ন জাতির মাঝে ঐতিহাসিক কিংবা আঞ্চলিক মিল না থাকা সত্ত্বেও বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক এ সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বত্রই কিছু দৃঢ় ভিত্তির ওপর অবিচল থাকা উচিত। যেমন বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্ক থাকতে হবে হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি, আধিপত্যবাদ, একপেশে স্বার্থ কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা বা দালালির ভিত্তিতে নয় বরং যৌথ অথবা বৈধ ও ন্যায়ানুগ স্বার্থের ভিত্তিতে কিংবা তারও উর্ধ্বে মানবতার স্বার্থে। আর এ প্রত্যাশাটি সেই আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়ায়, সাম্প্রতিক কয়েক শতাব্দিতে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বিশেষ করে আজকের আগ্রাসী ও বলদর্পী মার্কিন সরকার যে ব্যবস্থার দাবীদার এবং প্রচারক ছিল ও আছে।

প্রিয় অতিথিবৃন্দ! জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোর আবেদন ছয় দশক পর আজো অক্ষুন্ন রয়েছে। যেমন উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করা এবং পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে ন্যামভুক্ত দেশগুলোর মাঝে সহযোগিতা ও সংহতি বৃদ্ধি করা। আজকের বিশ্ব বাস্তবতা সেইসব আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। কিন্তু এ বাস্তবতাকে অতিক্রম করার জন্যে সামগ্রিক প্রচেষ্টা চালানো হলে-যতোই চ্যালেঞ্জপূর্ণ হোক না কেন-কাঙ্ক্ষিত সে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। আমরা নিকট অতীতে শীতল যুদ্ধের রাজনীতির ব্যর্থতা দেখেছি। শীতল যুদ্ধ পরবর্তী একপেশে নীতির ব্যর্থতাও দেখেছি। ঐতিহাসিক সেই অভিজ্ঞতার দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে বিশ্বের মানুষ এখন নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে আছে। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন নতুন সে ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে এবং তা উচিতও বটে। আর সে ব্যবস্থাটা সবার অংশগ্রহণে এবং সব জাতির সমান অধিকারের ভিত্তিতে হতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার ঐক্য ও সংহতি এখন সময়ের দাবী।
সৌভাগ্যক্রমে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এমন একটি বহুমুখি ব্যবস্থার ব্যাপারে আশাবাদী, যে ব্যবস্থায় গতানুগতিক শক্তিগুলোর জায়গায় বিভিন্ন দেশ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি এবং তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিচিত্র আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো স্থান পাবে। বিগত তিন দশক ধরে আমরা যে অবস্থা দেখছি তাতে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, নতুন নতুন শক্তির আবির্ভাবের পাশাপাশি পুরনো শক্তিগুলোর ব্যর্থতা ও দুর্বলতা ফুটে উঠছে। শক্তির এই ধারানুক্রমিক স্থানান্তর জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনভুক্ত দেশগুলোর জন্যে বিশ্ব অঙ্গনে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার দায়িত্ব নেয়ার চমতকার সুযোগ এনে দিয়েছে। সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী সত্যিকারের যৌথ ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরারও সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আমরা ন্যামভুক্ত দেশগুলো বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে যৌথ লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। এই অর্জন কিন্তু ছোটোখাটো কিংবা সহজ কোনো ব্যাপার নয়। আর এটাই হতে পারে মানবিক এবং ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থার ভিত্তি।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্ভবত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের জন্য এক অনন্য সুযোগ যা হয়তো আবার নাও আসতে পারে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে বিশ্ব পরিচালনার দায়িত্বভার যেন পশ্চিমা কয়েকটি স্বৈরাচারের হাতেই কুক্ষিগত না থাকে। বরং বিশ্ব ব্যবস্থাপনায় সব গণতান্ত্রিক দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত। বিশ্বের যে সব দেশ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষে আধিপত্যকামী এবং বলদর্পী কয়েকটি দেশের অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে সেই সব দেশের জন্যে এরকম ব্যবস্থা আজ খুবই প্রয়োজন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো ও কার্য-প্রক্রিয়া অযৌক্তিক,অন্যায় এবং পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। এটা স্বৈরতন্ত্রেরই প্রকাশ্য রূপ এবং তা ব্যবহার-উপযোগিতা হারিয়েছে। আমেরিকা ও তার সহযোগীরা এই অনুপযুক্ত ব্যবস্থাকে অপব্যহার করেই তাদের বলদর্পিতাকে ভদ্রতার লেবাসে অন্যদের উপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে। আমেরিকা ও তার সহযোগীরা 'মানবাধিকার' প্রতিষ্ঠার কথা বলে পাশ্চাত্যের স্বার্থ রক্ষা করছে, 'গণতন্ত্র' প্রতিষ্ঠার নামে অন্য দেশগুলোতে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং 'সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের' নাম করে গ্রাম ও শহরগুলোর নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা করছে। তারা বিশ্বের মানুষকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক হিসেবে বিভাজন করছে।
তাদের দৃষ্টিতে, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মানুষের জীবনের মূল্য কম। আর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের মানুষের জীবনে দাম বেশি। তাদের কাছে আমেরিকা ও ইউরোপের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অন্য অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা একেবারেই গুরুত্বহীন। মার্কিন-ইহুদিবাদী ও তাদের ক্রীড়নকদের মাধ্যমে হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা বৈধ এবং সেগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়।
বিভিন্ন মহাদেশের নানা প্রান্তে তাদের গোপন কারাগারগুলোতে কোন বিচারিক প্রকিয়া ছাড়াই অসহায় বন্দীদের সঙ্গে সবচেয়ে ঘৃন্য ও নিন্দনীয় আচরণ করা হলেও তাদের বিবেক তাড়িত হয় না। তারা তাদের ইচ্ছে মতো একতরফাভাবে ভালো ও মন্দের সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে। 'আন্তর্জাতিক আইন-কানুনে'র নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের স্বার্থকে এবং 'বিশ্ব সমাজে'র কথা বলে নিজেদের অন্যায় ও দাম্ভিক অবস্থানকে অন্যান্য জাতির উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
তারা তাদের সংঘবদ্ধ গণমাধ্যম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের 'মিথ্যা কথা'কে সত্য বলে চালিয়ে দিচ্ছে, তাদের 'আগ্রাসন'কে তুলে ধরছে 'ন্যায়বিচার' প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে। একইভাবে তাদের প্রতারণা উন্মোচনকারী 'সত্য ও ন্যায়সঙ্গত বাণী'কে মিথ্যা হিসেবে তুলে ধরছে।

প্রিয় বন্ধুরা, এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ও ক্ষতিকর পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে না। তাদের ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাঠামোর কারণে সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আমেরিকার সম্পদ ও শক্তির কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির ৯৯ শতাংশ মানুষের আন্দোলন এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভও প্রমাণ করে,বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জাতির ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গেছে। অযৌক্তিক এ পরিস্থিতির প্রতিকার করতে হবে। এর প্রতিকার খুঁজে পেতে ন্যামের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সুদৃঢ়, যৌক্তিক ও সর্বাত্মক বন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্মানিত শ্রোতাগণ,
'আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা' হচ্ছে বিশ্বের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর অন্যতম এবং 'গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মূল' বর্তমানের জরুরি অপরিহার্যতা ও তা গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে 'নিরাপত্তা' হচ্ছে সবার কাছেই অভিন্ন এক ইস্যু। যারা তাদের অস্ত্রাগারগুলোতে মানব বিধ্বংসী অস্ত্র মজুদ করছে, বিশ্বের নিরাপত্তার ঝান্ডাবাহী হওয়ার অধিকার তাদের নেই। নিঃসন্দেহে তারা তাদের নিজেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবে না। বর্তমানে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সবচেয়ে বেশি পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী দেশগুলো গণবিধ্বংসী এসব অস্ত্র ধ্বংসের ব্যাপারে আন্তরিকভাবে আগ্রহী নয়। তারা এসব অস্ত্রকে তাদের বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবিলার হাতিয়ার এবং রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণের সূচক বলে ধারণা করে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, পরমাণু অস্ত্র কারো নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং তা রাজনৈতিক শক্তির উৎসও নয়। বরং নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক শক্তি-এ উভয়ের জন্যই পরমাণু অস্ত্র হুমকি। ১৯৯০ এর দশকের ঘটনাবলী এটাই প্রমাণ করে যে, এ ধরনের অস্ত্র সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো সরকারকেও টিকিয়ে রাখতে পারে না। বর্তমানেও এমন সব দেশ রয়েছে, যেগুলো পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ব্যাপক অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পরমাণু ও রাসায়নিকসহ এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারকে অমার্জনীয় পাপ বলে মনে করে। আমরাই পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেছি এবং আমরা এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এর অর্থ, পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনের অধিকারের বিষয়ে ছাড় দেয়া নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। সবাইকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে এবং এ অধিকার বাস্তবায়নের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকা চলবে না।
কয়েকটি দেশ, যারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাধ্যমে অপরাধ করেছে, আজ তারাই পরমাণু জ্বালানি উতপাদন চক্রের ওপর নিজেদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায়। 'আন্তর্জাতিক' বিশেষণ ব্যবহার করে পরমণু জ্বালানি উতপাদন ও বিক্রির এখতিয়ার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে নেয়ার গোপন প্রচেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে পাশ্চাত্যের গুটি কয়েক দেশের কর্তৃত্ব স্থায়ী করতে চাইছে তারা।
নির্মম পরিহাসের বিষয় হচ্ছে, পরমাণুসহ গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুদকারী এবং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারকারী একমাত্র দেশ আমেরিকার সরকারই এখন পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের ঝান্ডাবাহী হতে চাইছে! আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো, দখলদার ইসরাইলকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করেছে এবং স্পর্শকাতর এ অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই প্রতারক গোষ্ঠী, স্বাধীনচেতা দেশগুলোর শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকারটুকু মেনে নিতে পারছ না। এমনকি তারা নিউক্লিয়ার মেডিসিনসহ মানবিক কাজে ব্যবহারের জন্য পরমাণু জ্বালানি তৈরির ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করছে।
পরমাণু অস্ত্র তৈরির মিথ্যা ভয় ও অজুহাত তুলে ধরছে। ইরানের ব্যাপারে যে তারা মিথ্যা বলছে, তারা নিজেরাও তা জানে। যে রাজনীতিতে আধ্যাত্মিকতার বিন্দুমাত্র ছোয়া নেই, সে রাজনীতিতে মিথ্যাও বৈধ। অবশ্য একবিংশ শতাব্দিতেও যারা পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিতে লজ্জাবোধ করে না, তারা কি মিথ্যা বলার জন্য লজ্জিত হবে?
আমি জোর দিয়ে বলছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায় না। তবে কখনোই শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ত্যাগ করবে না। আমাদের শ্লোগান হচ্ছে, " পরমাণু প্রযুক্তি সবার জন্য এবং পরমাণু অস্ত্র কারো জন্য নয়।"
আমরা আমাদের এ বক্তব্যের ওপর অটল থাকবো। আমরা মনে করি, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির কাঠামোর ভিত্তিতে পরমাণু জ্বালানি উতপাদনের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের গুটি কয়েক দেশের একচেটিয়া আধিপত্য নস্যাত করা গেলে ন্যামের সদস্যসহ সব স্বাধীনচেতা দেশের জন্যই তা কল্যাণকর হবে।
আমেরিকা ও তার মিত্রদের সর্বাত্মক চাপ ও বলদর্পিতার বিরুদ্ধে গত তিন দশকের সফল প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা থেকে ইরান এ দৃঢ় বিশ্বাসে উপনীত হয়েছে যে, দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ও এক্যবদ্ধ একটি জাতি সব ধরনের শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র নস্যাতের মাধ্যমে মহান লক্ষ্য পানে গৌরবময় পথ রচনা করতে পারে। সাম্প্রতিক দুই দশকে ইরানের সর্বাত্মক উন্নয়ন এমন এক বাস্তবতা, যা সবার চোখের সামনে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বারবারই তা স্বীকার করছে।
এ সব-ই অর্জিত হয়েছে মার্কিন ও ইহুদিবাদের নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধ এবং অপপ্রচারের মধ্যেই। অবরোধ আরোপের পর অনেকেই বলাবলি করছিল যে, অবরোধের কারণে ইরানের সব কিছু স্থবির হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি এবং কোন দিনও তা হবেও না। বরং এর ফলে আমাদের পথচলা আরো গতি পেয়েছে, ইচ্ছাশক্তি সমুন্নত হয়েছে, নিজের বিশ্লেষণের শুদ্ধতা ও জাতীর স্বাভাবিক সক্ষমতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস শক্তিশালী হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় আল্লাহতায়ালার সাহায্য আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করেছি।

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ,
এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সম্পর্কে কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করছি। যদিও এটা আমাদের এ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু এ ইস্যুটির ব্যপ্তি এখন আঞ্চলিক গন্ডি ছাড়িয়ে গেছে এবং গত কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। আর সেটি হলো, বেদনাদায়ক ফিলিস্তিন ইস্যু। এ ঘটনার সারাংশ হচ্ছে, বিংশ শতাব্দির চতুর্থ দশকে ব্রিটেনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের ভয়ানক ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক পরিচিতির অধিকারী 'ফিলিস্তিন' নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটিকে অস্ত্রের জোরে হত্যা ও প্রতারণা চালিয়ে তার মূল অধিবাসীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এমন এক দল লোকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসী।
এই মহা গযব (ইসরাইলী ধ্বংসযজ্ঞ) ফিলিস্তিনের গ্রাম-গঞ্জ এবং শহর নগরের নিরীহ মানুষের ওপর গণহত্যা চালানোর মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছিল। ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিনী জনগণকে তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে চলে যেতে বাধ্য করেছে। বিগত ছয় দশক ধরে তাদের সেই অপরাধী কর্মকাণ্ড যেভাবে চলে এসেছে, আজো সে রকমভাবেই অব্যাহত আছে। সমগ্র মানব জাতির জন্যে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। অবৈধ ইহুদিবাদী সরকারের সামরিক এবং রাজনৈতিক নেতারা এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এমন কোনো অপরাধ নেই যা করেনি।
গণহত্যা চালানো, ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ি ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া, তাদের ক্ষেত-খামারগুলো ধ্বংস করে দেয়া, তাদের নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধদেরকে ধরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো, ফিলিস্তিনি জাতির মতো একটা ঐতিহ্যবাহী জাতির মান-সম্মান মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করা- এক কথায় তাদেরকে পুরোপুরি নির্মূল করে দেয়ার জন্যে নিরন্তর অপরাধযজ্ঞ চালিয়েই যাচ্ছে তারা। এ লক্ষ্যে তারা ফিলিস্তিনের ভেতরে এবং বাইরে তাদের শরণার্থী শিবিরগুলোতেও পাশবিক হামলা চালাতে দ্বিধা করেনি। এসব শরণার্থী শিবিরে কয়েক মিলিয়ন ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনের মজলুম জনতার রক্তে দির-ইয়িাসিন, কানা, সাবরা ও শাতিলা শরণার্থী শিবির এবং এ ধরনের আরো অনেক নাম এ অঞ্চলের ইতিহাসের পাতায় রক্তাক্ষরে লেখা হয়েছে।
৬৫ বছর পর অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অবশিষ্ট ফিলিস্তিনিদের ওপর আজো ইহুদিবাদী হিংস্র নেকড়েদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তারা একের পর এক পাশবিকতার জন্ম দিয়ে এ অঞ্চলে নতুন নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। এমন দিন খুব কমই যায় যেদিন তাদের হামলায় হতাহতের খবর কিংবা স্বদেশের সম্মান রক্ষায় জেগে ওঠা এবং তাদের ক্ষেতখামার, ঘরবাড়ি ধ্বংসের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা যুবকদের ধরে নিয়ে গিয়ে কারাগারে আটকানোর খবর মিডিয়ায় আসে না। আরব ভূখণ্ড দখল করে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধ বাধিয়ে দশকের পর দশক ধরে গণহত্যা চালিয়ে এ অঞ্চলসহ সমগ্র বিশ্বে যে ইহুদিবাদী সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ কায়েম করেছে, তারাই এখন উল্টো নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষার তাগিদে এবং নিজস্ব অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রামরত ফিলিস্তিনীদেরকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করছে। আর ইহুদিবাদী গণমাধ্যমগুলোসহ পশ্চিমা অনেক গণমাধ্যম সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নীতিমালাকে পদদলিত করে ঐ মহা মিথ্যাচার নির্দ্বিধায় প্রচার করে যাচ্ছে। মানবাধিকারের দাবিদার রাজনৈতিক নেতারাও ইহুদিবাদীদের ঐ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দেখেও না দেখার ভান করছে। কেবল তাই নয় এসব নেতা নির্লজ্জের মতো, বেহায়ার মতো বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী ঐ সরকারকে সমর্থন ও সয়াহতা দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের রক্ষা করতে ওকালতি করে যাচ্ছে।
আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কেবলমাত্র ফিলিস্তিনিদেরই রয়েছে। এ ভূখণ্ডের ওপর দখলদারিত্ব চালিয়ে যাওয়া একদিকে যেমন অসহনীয় এক বড়ো ধরনের জুলুম অপরদিকে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যেও ভয়াবহ হুমকি। ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্যে পশ্চিমারা এবং তাদের দোসররা যতোসব প্রস্তাব দিয়েছে তার সবই ছিল ভুল এবং ব্যর্থ, ভবিষ্যতেও সেরকমই ঘটবে। আমরা পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধানের উপায় বাতলে দিয়েছি।
আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, ফিলিস্তিনের ভেতরে বসবাসরত কিংবা বাধ্য হয়ে দেশান্তরিত এবং এখনো নিজেদের পরিচয় অক্ষুন্ন রাখা সকল ফিলিস্তিনি- চাই তারা মুসলমান হোক কিংবা ইহুদি বা খ্রিষ্টান-সবাই একটি গণভোটে অংশগ্রহণ করবে। গণভোটটি অনুষ্ঠিত হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ ও সুষ্ঠু। ঐ গণভোটের মাধ্যমে তারা তাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা কাঠামোগত ভবিষ্যত নির্বাচন করবে। যেসব ফিলিস্তিনি বছরের পর বছর ধরে উদ্বাস্তু জীবনের দুঃখ-কষ্ট নিরবে সহ্য করেছে, তারা অবশ্যই নিজেদের দেশে ফিরে আসবে এবং এই গণভোটসহ নির্বাচন ও সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেবে। এর মাধ্যমেই ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে।
আমি এখানে ইহুদিবাদী সরকারের একনিষ্ঠ স্বার্থ রক্ষাকারী এবং তাদের সার্বক্ষণিক পৃষ্ঠপোষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দকে একটি সৎ পরামর্শ দিতে চাই। আর তাহলো : এই অবৈধ রাষ্ট্রটি তোমাদের জন্যে এ পর্যন্ত বহুরকম মাথাব্যথারই কারণ হয়েছে, বিশ্ববাসীর সামনে তোমাদের চেহারাকে ঘৃণিত এবং কলঙ্কিত করেছে, সেইসঙ্গে তোমাদেরকে অবৈধ এ রাষ্ট্রটির অপরাধযজ্ঞের অংশীদার হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। এই দীর্ঘ অপরাধযজ্ঞে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারের আর্থিক এবং আধ্যাত্মিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এতো ব্যাপক যে তা মাথা খারাপ হয়ে যাবার মতো পরিসংখ্যান। ভবিষ্যতেও যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিঃসন্দেহে আরো ব্যাপক বেড়ে যাবে। তাই আসুন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দেয়া গণভোটের প্রস্তাব নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন এবং বীরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদেরকে বর্তমান অচলাবস্থা থেকে মুক্তি দিন। নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ তো বটেই এমনকি সমগ্র বিশ্বের মুক্তিকামী সব মানুষ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে।

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ!
এবারে আমি সূচনা বক্তব্যে ফিরে যাবো। সমস্যা সঙ্কুল বর্তমান বিশ্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মনে করা হচ্ছে, একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্ম হতে যাচ্ছে। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্যগণ বিশ্ব সমাজের দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী। তাই ভবিষ্যত বিশ্ব গড়ার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে এ জোট। আর এ বিশাল সংস্থাটির বৈঠক তেহরানে অনুষ্ঠিত হবার বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ একটি ঘটনা। আমরা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্যরা নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যকে একত্রিত করে এবং তার বিকাশ ঘটিয়ে আধিপত্যবাদ, যুদ্ধ এবং নিরাপত্তাহীনতা থেকে বিশ্বকে মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারি। আমাদের নিজেদের মধ্যে সর্বমুখী ও সার্বিক সহযোগিতা থাকলে এ লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব।
আমাদের মধ্যে প্রচুর সম্পদশালী ও ধনী দেশ কম নয় আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব বিস্তারকারী দেশও কম নেই। কাজেই অর্থনৈতিক ও মিডিয়ার সহযোগিতা থাকলে সেইসঙ্গে উৎকর্ষকামী অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এসব সমস্যা নিরসন করা সম্ভব। শুধুমাত্র প্রয়োজন আমাদের সংকল্পগুলোকে দৃঢ় ও সুস্থির করা, নিজেদের লক্ষ্যপানে অটল-অবিচল থাকা, বলদর্পী শক্তিগুলোর চোখ রাঙানিকে ভয় না করা এবং তাদের ভাঁড়ামিপূর্ণ মুচকি হাসিতে ‌আনন্দে গদগদ না হওয়া।
আমাদের উচিত আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর নীতিমালাকেই নিজেদের পৃষ্ঠপোষক বলে মেনে নেয়া। গত দুই দশক আগে কমিউনিস্ট ব্লকের পতনের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে রয়েছে। পশ্চিমা তথাকথিত গণতান্ত্রিক লিবারেলিজমের ব্যর্থতাও আমরা দেখেছি। এখন ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর রাস্তায় রাস্তায় অর্থনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থার বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভও সবাই দেখছে, এগুলো সবই শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। সেইসঙ্গে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে ইহুদিবাদী সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট স্বৈরাচারগুলোর পতন এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোতে ইসলামী গণজাগরণের ঘটনাকে মোক্ষম সুযোগ বলে মনে করতে হবে।
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের নীতিকে কাজে লাগিয়ে আমরা বিশ্ব পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারি, আর বিশ্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার জন্যে আমরা ঐতিহাসিক একটি সনদ তৈরি করতে পারি এবং সেই সনদের ধারাগুলো সবাই বাস্তবায়ন করতে পারি। সেইসঙ্গে অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার দিকে পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হতে পারি এবং সংজ্ঞায়িত করতে পারি নিজেদের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের আদর্শগুলোকে। নিঃসন্দেহে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের জন্যে একটি ততপর কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে তা মহান ঐ লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।
সূত্র : আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা)
captcha