Albd.org এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : 'কোন মুসলমান মহানবী (স:)'র অবমাননা সহ্য করতে পারে না' - উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ওই চলচ্চিত্র নির্মাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। তিনি আজ আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত চলতি ২০১২ (১৪৩৩ হিজরী) সালে হজ্বযাত্রীদের জন্য হজ্ব প্রোগ্রাম উদ্বোধনকালে আরো বলেন, বাংলাদেশে যাতে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন হতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। 'আওয়ামী লীগ সবসময় ইসলামের সেবায় নিয়োজিত এবং কখনো ইসলামের চেতনা ও আদর্শের অবমাননাকর কোন কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না' - উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দল ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার আগে সন্ত্রাসীরা দেশব্যাপী খুন ও বোমাবাজীসহ অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল এবং সে সময় ইসলামের নামে এটা ছিল তাদের নিয়মিত কর্মকাণ্ড। 'তাঁর সরকার কঠোর হস্তে সন্ত্রাসীদের দমন করে দেশকে সন্ত্রাসী দেশের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছে' উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলদেশ এখন গোটা বিশ্বে অনুকরণীয় ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে তাঁর সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার আগে হজ্বযাত্রীদের প্রতি বছরই দালাল-প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হতো। বর্তমান সরকার সুষ্ঠু হজ্ব ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় হজ্ব নীতি ২০১০-২০১৪ প্রণয়ন করে হাজীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ হজ্বব্রত পালনকে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির আওতায় এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন বছরে হজ্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন হওয়ায় সৌদি সরকারের মূল্যায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্থান লাভ করেছে। হাজীদের সেবা প্রদান অরো সহজ ও উন্নত করতে তাঁর সরকার ২০০৯ সালে হজ্ব উইং অফিস জেদ্দা থেকে মক্কায় নিয়ে আসাসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে হজ্বযাত্রীদের সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, হজ্ব ব্যবস্থাপনায় তথ্য-প্রযুক্তি চালুর ফলে হজ্বযাত্রীগণ সহজেই যাবতীয় সেবা গ্রহণ এবং দেশ-বিদেশ থেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন। হজ্বব্রত পালনকারীদের সুবিধার্থে জেদ্দা হজ টার্মিনালে ২০১০ সালে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্লাজা ভাড়া করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১০ সালে হজ্ব ক্যাম্পে ৪টি লিফট এবং একই বছরে বিমান, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন এলাকায় সেন্ট্রাল এসি স্থাপন করা হয়েছে। হজ্বযাত্রীদের উন্নতমানের আবাসন নিশ্চিত করতে মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে অতীতের অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে দূরবর্তী, পুরাতন ও পাহাড়ের উপরের পরিবর্তে নিকটবর্তী, নতুন ও সমতল ভূমিতে বাড়ি ভাড়া করা হচ্ছে। এতে হজ্ব ব্যবস্থাপনায় সেবার মান বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসায় ক্রমান্বয়ে হজ্বযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। ২০০৯ সালে হজ্বযাত্রীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ২২০ জন, যা চলতি বছর হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭০। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাঁর সরকারের নেয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'সরকারি পর্যায়ে আমরাই সর্বপ্রথম আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কুরআনের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা নিয়েছি।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশে এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী কুরআন সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা সহজেই কুরআনের সরল ও সঠিক তরজমা শুনতে, পড়তে ও বুঝতে পারছেন।'
তিনি বলেন, স্কুল পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ইমামগণকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ তাঁদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ৬৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প পুনরায় চালু করেছে। এতে হাজার হাজার আলেম ওলামার কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আবারো দেশের লাখ লাখ শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁর সরকার হজ্ব ব্যবস্থাপনার উন্নতির লক্ষে বিগত তিন বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি, আন্তঃমন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারের সাথে হজ্ব সংক্রান্ত বিষয়ে সম্পর্কের উন্নয়ন করেছে একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে হজ্ব ব্যবস্থাপনায় সফলতার এ ধারা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে ।
প্রত্যেক হজ্বযাত্রী যেন সুস্থ ও সুন্দরভাবে হজ্বব্রত পালন করে দেশে ফিরে আসেন এ কামনা করে প্রধানমন্ত্রী হজ্ব কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর সকল হজ্বযাত্রীকে আগেই সৌদি সীমকার্ড দেয়া হবে যেন তাদের আত্মীয়-স্বজনরা সহজে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।