IQNA

সাম্রাজ্যবাদীরা বিশ্বে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে : আয়াতুল্লাহ খামেনি

11:40 - October 17, 2012
সংবাদ: 2433277
আন্তর্জাতিক বিভাগ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বিশ্বব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।
Jugantor এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট : সোমবার খোরাসান প্রদেশের শিরভন শহরে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি দেশে দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুরবস্থার কথা তুলেন ধরেন। খামেনি বলেন, শত্র“রা কোন দেশে গৃহযুদ্ধ কিংবা প্রতেবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ বাধিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অবাধ অস্ত্র বাণিজ্য নিশ্চিত করতেই পশ্চিমা দেশগুলো এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আর এভাবে পাশ্চাত্যের ব্যাংক ও অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানিগুলো রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, কয়েক শতাব্দী ধরে সাম্রাজ্যবাদীরা বিশ্বের যেখানেই উপনিবেশ স্থাপন করেছে সেখানেই দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের বিস্তার ঘটিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংকটাপন্ন অবস্থার জন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর চাপিয়ে দেয়া নীতি ও কর্মকাণ্ডকে দোষারোপ করেছেন খামেনি।
তিনি বলেন, সমগ্র পাশ্চাত্য বিশ্বের ওপর বস্তুবাদ ভর করে আছে। এখানে মানবিক মূল্যবোধের কোন স্থান নেই। পাশ্চাত্য বিশ্ব অন্যান্য জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে বহু বছর ধরে শোষণ চালিয়ে আসছে। এমনকি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও তারা একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর পরিবর্তে জাতিগুলোকে ধ্বংস করার কাজে ব্যবহার করছে। অষ্টাদশ, ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে উপনিবেশকবলিত এলাকার দিকে তাকালে আমরা উপনিবেশবাদী শক্তির রেখে যাওয়া ধ্বংসাÍক ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বহু স্মৃতিচিহ্ন দেখতে পাব। পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে ভারত, চীন, আফ্রিকা এমনকি আমেরিকায়ও উপনিবেশবাদের বহু তিক্ত স্মৃতি রয়েছে। এখনও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা ভিন্ন পন্থায়। অর্থাৎ পাশ্চাত্যের নব্য উপনিবেশবাদী শক্তি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা কিংবা মানবাধিকারের অজুহাতে সারাবিশ্বে বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে। এ সময় ফিলিস্তিন, ইরাক ও আফগানিস্তানের করুণ দশার বিবরণ দিয়ে এর জন্য পশ্চিমাগোষ্ঠীর শোষণ নীতিকে দায়ী করেছেন খামেনি। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সোমবার লুক্সেমবার্গে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তারা নতুন এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছেন। এর আগে ইরানের ওপর পশ্চিমারা যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে অমানবিক পদক্ষেপ বলে নতুন যে কোন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। কিন্তু তার এ হুশিয়ারি উপেক্ষা করেই পশ্চিমারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিল। ইইউর কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইরানের ব্যাংক, শিল্প ও জাহাজ খাতকে লক্ষ্য করে নতুন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইইউভুক্ত দেশের ব্যবসায়ীরা ইরানের সঙ্গে লেনদেন করার জন্য নিজ সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বাধ্য থাকবেন। তবে ইরান এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কাছে আÍসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। তিনি বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা আজ-কালের বিষয় নয়; গত ৩৩ বছর ধরে তারা ইরানের ওপর অবরোধ দিয়ে রেখেছে এবং ইরান এর ভেতর দিয়েই এগিয়ে গেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রমিন মেহমানপারাস্ত বলেছেন, তেহরানকে জ্বালানি নিশ্চয়তা দেয়া হলে ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ। তিনি জানান, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করতে তেহরান এ আলোচনায় বসতে চায়। তবে অন্য পক্ষকেও এ বিষয়ে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইরানের পরমাণু অধিকার স্বীকার করতে হবে। তথ্যসূত্র : জেরুজালেম পোস্ট, আল আরাবিয়া, প্রেসটিভি।#
captcha