IQNA

‘নিরাপত্তার নামে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করছে আমেরিকা’

17:02 - October 18, 2012
সংবাদ: 2433856
আন্তর্জাতিক বিভাগ : আমেরিকায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর দায়ে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ বলেছেন,মার্কিন সরকার জাতীয় নিরাপত্তার নামে লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে।
কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা’র রিপোর্ট: কিউবার গুয়ান্টানামোর মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে অবস্থিত নির্যাতন শিবিরের বিচারককে এ কথা বলেছেন তিনি।
২০০৮ সালের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য দিলেন খালিদ শেখ মোহাম্মদ। যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্যাতন ও হত্যাকে অনুমোদন করে তা গড়ে না তোলার আহ্বান জানান তিনি। দোভাষীর মাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার নামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে কাউকে গ্রেফতার করে সরাসরি সাগরে ফেলে দিতে পারেন।
বিচারকের দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্নেল জেমস পোল খালিদ শেখকে চলাফেরার স্বাধীনতা দেয়ার পর তিনি আদালতের সামনে উপস্থিত হন। এর আগের দিনের শুনানিতে হাজির হননি খালিদ শেখ।
তিনি আদালতে সেনা বাহিনীর ক্যামোফ্লাজ পোশাক পরে হাজিরা দেন। আফগানিস্তানে সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধের সময় মুজাহিদরা এ ধরণের পোশাক পরেছেন। বিচারক পোল বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিল নেই এমন যে কোনো পোশাক পরতে পারবেন খালিদ শেখ।
আদালতে ছয় মিনিট ধরে আগুন ঝরা বক্তব্য দেন খালিদ শেখ। তার এ বক্তব্য বিচারককে বিস্মিত করেছে। এরপর থেকে খালিদ শেখকে আর কোনো তাতক্ষণিক বক্তব্য দিতে দেয়া হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বিচারকের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কুমিরের কান্নায় আপনারা ভুলবেন না। আপনাদের রক্ত সোনা আর আমাদের রক্ত পানির তৈরি নয়। আমরা সবাই একই রকম মানুষ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমেরিকায় ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার দায়ে খালিদ শেখসহ চার অভিযুক্তের বিচার চলছে। নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে বিমান হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হওয়া, ওয়াশিংটনের কাছে অবস্থিত পেন্টাগন এবং পেনসালভানিয়ার একটি মাঠে হামলা চালানোর দায়ে এ চারজনের বিচার চলছে।
অবশ্য এ হামলার অজুহাতে আমেরিকা ও তার মিত্ররা আফগানিস্তান ও ইরাকে আগ্রাসন চালিয়েছে এবং এসব দেশে তারা লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া গুয়ান্টানামো,আফগানিস্তানের বাগরাম এবং আবু গারিবের কারাগারগুলোতে ভয়াবহ বন্দি নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে মার্কিন সেনারা। কিন্তু এসব অপরাধের কোনো বিচারের নামও কখনো শোনা যায়নি।#
সূত্র: রেডিও তেহরান

captcha