কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকন’র রিপোর্ট: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর কারাবন্দি শীর্ষ নেতাদের মুক্তি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে প্রহসনের বিচার বন্ধের দাবিতে আজ (সোমবার) সকালে রাজধানীর মহাখালী ও ফকিরাপুলে মিছিল করেছে শিবির কর্মীরা।
রাজধানীর কাফরুলে আজ সকালে প্রচারপত্র বিলি করার সময় পুলিশ ১৬ শিবির কর্মীকে আটক করেছে।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ এলাকার চাষাড়ায় আজ সকালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মী মিছিল বের কর। পুলিশ তাতে বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় শিবির কর্মীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।
এদিকে, ঢাকার বাইরেও শিবিরের মিছিলে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদর বাজারে শতাধিক শিবিরকর্মী একটি মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের বাধা দিলে ইটপাটকেল ছুঁড়ে শিবিরকর্মীরা। একপর্যায়ে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় । এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৪ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য শামসুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে দায়ের করা করা হয়েছে। মামলায় আরো কয়েক’শ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরো ৫৫ জন জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে ঘটনার পর থেকে ৯৩ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হলো।
দিনাজপুর শহরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিবিরের কর্মীরা লাঠিমিছিল করেছে। মিছিলটি কালিতলা থেকে বের করে সুইহারীতে গিয়ে শেষ করে।
রাজশাহীতে শিবির কর্মীরা হাতেমখাঁ সবজিপাড়া থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি লোকনাথ স্কুলের সামনে উপস্থিত হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে শিবির কর্মীরা। পরে পুলিশের আক্রমণের মুখে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ চারজনকে আটক করে।
কুষ্টিয়া শহরের সিঙ্গার মোড়ে সকালে ঝটিকা মিছিল করে শিবির। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সটকে পড়ে ।
এদিকে, জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করতে পুলিশের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ে রাজধানীর পার্শ্ববতী জেলা ও উপজেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন করেন, “পুলিশ কেন জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করতে পারে না? তাহলে পুলিশের ভেতরেও কি জামায়াত ঢুকে পড়েছে?”
ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “জামায়াত-শিবিরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের টার্গেট পুলিশ। তারা একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অস্ত্র কেড়ে নিচ্ছে অথচ পুলিশ নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।” সূত্র: রেডিও তেহরান