কোরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা ইকনা’র রিপোর্ট: সিরিয়ায় ততপর উগ্র আন্ নাসরা গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ততপরতার প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি’র মহাসচিব একমল উদ্দীন এহসান উগ্লু উপরিউক্ত এ মন্তব্য করেছেন। তিনি ইসলামকে একটি শান্তির ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ওআইসি ইসলামের নামে যে কোনো সহিংসতার নিন্দা জানায়। সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর পাশে থেকে উগ্র আন্ নাসরা গ্রুপটিও সিরিয়ায় বেসামরিক মানুষ হত্যার পাশাপাশি বহু সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কেবল ইসলামপন্থী দাবিদার আন্ নাসরা গ্রুপকেই সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এমনকি আমেরিকা সম্প্রতি আন্ নাসরা গ্রুপকে তাদের সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন এ সংক্রান্ত একটি পত্রে সই করে আন্ নাসরাকে সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এখন থেকে তাদের সঙ্গে সমস্ত লেনদেন বা যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার এ সিদ্ধান্তের পেছনে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি উদ্দেশ্য রয়েছে। তারা এটাকে কয়েকটি দিক থেকে মূল্যায়ন করছেন। প্রথমত: মাসের পর মাস ধরে পাশ্চাত্যের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আন্ নাসরাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপ সিরিয়ায় নারি শিশুসহ শত শত মানুষ হত্যা করছে এবং তারা সিরিয়াকে চরম নৈরাজ্য ও নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি সিরিয়ার জনগণের কাছে বিয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর আমেরিকা সিরিয়ার জনগণকে সহযোগিতার কথা বলে আন্ নাসরা গ্রুপকে সন্ত্রাসীদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এভাবে আমেরিকা একদিকে সিরিয়ার জনগণের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীরা সন্ত্রাসী নয় এমনটি তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, আমেরিকা এটা দেখানোর চেষ্টা করছে যে, আন্ নাসরা গ্রুপ ইসলামপন্থী হয়েও এরা অমানবিক ততপরতা চালিয়ে বিভিন্ন দেশের জনজীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষরা বলছেন, এসব সন্ত্রাসীর পেছনে আল কায়দার সমর্থন রয়েছে যারা কিনা বিভিন্ন দেশে উগ্রপন্থা ছড়িয়ে দিয়ে বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে। আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে আর তা হচ্ছে উগ্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল কায়দার পেছনে পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র গোপন সম্পর্ক রয়েছে। এ গোষ্ঠীকে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে ও সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রকৃত ইসলামের ভাবমূর্তীও নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকা আল-কায়দা মোকাবেলার নামে ইরাক ও আফগানিস্তানে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনা মোতায়েনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল কায়দার মত উগ্র গ্রুপগুলো ইসলামে জেহাদের প্রকৃত শিক্ষার ভুল ব্যাখ্যা করে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে যা কিনা আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের স্বার্থের অনুকূলে যাচ্ছে। ফলে কলঙ্কিত হচ্ছে ইসলামের প্রকৃত চেহারা । এ ক্ষেত্রে উগ্র গোষ্ঠীগুলো আমেরিকার সহযোগিতে পরিণত হয়েছে। #রেডিও তেহরান