বার্তা সংস্থা ইকনা: সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইরানের রাজধানী তেহরান ও মাশহাদ শহরে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে হামলার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে।
ইরানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিহিত করে আদেল আল জুবায়ের বলেন: এই ইস্যুটি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছে: ইরানের কূটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন একটি দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান সাথে সৌদি আরবের সকল প্রকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত ইরানি কূটনৈতিক বোর্ডকে সেদেশ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এ সিদ্ধান্তে সৌদির স্বার্থ লুকায়িত রয়েছে বলে জুবায়ের জানায়: ইরানকে মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
তার সংযোজন: রিয়াদ অন্যান্য দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান করে। তবে তাদের (সৌদির) বিচার ব্যবস্থায় অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করলে তারা তা মেনে নেবে না।।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছে: ইরান আল কায়দাকে সুরক্ষা করছে এবং সন্ত্রাসীদের সমর্থন করছে। এছাড়াও অবৈধ ভাবে তাদের জন্য অস্ত্র পাঠাচ্ছে।
এদিকে পররাষ্ট্র আরবি ও আফ্রিকান উপমন্ত্রী পররাষ্ট্র হোসাইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান সৌদির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বলেন: তেহরানের সাথে সম্পর্ক ছেদের ঘোষণার মাধ্যমে সৌদি আরব আয়াতুল্লাহ শেখ নিমরের হত্যার ঘটনা এড়িয়ে যেতে পারবে না।
তিনি বলেন: এর পূর্বেও সৌদি আরব কৌশলগত ত্রুটি এবং অবিবেকী পন্থা অবলম্বন করে অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ষড়যন্ত্র করে তেলের দাম কমিয়ে নিজের দেশের অধিবাসী ও মুসলিম দেশের অধিবাসীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।
বলাবাহুল্য, সৌদি আরবের জনপ্রিয় ও বিশিষ্ট আলেম আয়াতুল্লাহ শেখ নিমরকে হত্যার করার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানে বহু মানুষ সৌদি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা শেখ নিমরের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। শনিবার সৌদি সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার ভিত্তিহীন অভিযোগ শেখ নিমরকে অত্যন্ত বর্বরভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
http://iqna.ir/fa/news/3464437