IQNA

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি নির্যাতনে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু: অধ্যক্ষের দাবি

13:59 - January 15, 2016
সংবাদ: 2600105
আন্তর্জাতিক ডস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোবারক উল্লাহ দাবি করেছেন, “পরিকল্পিতভাবে তার ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে। আর পুলিশ নির্যাতন করে হাফেজ মাসুদুর রহমানকে হত্যা করেছে।“
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি নির্যাতনে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু: অধ্যক্ষের দাবিবার্তা সংস্থা ইকনা: আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় এক সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। মোবারক উল্লাহ বলেন, গত সোমবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের নির্দেশে জেলার নাসিরনগরের ধনপুরা এলাকার একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিন দুপুরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ শহরে মিছিল-সমাবেশ করে। মিছিল-সমাবেশ করাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়।

মোবারক উল্লাহ আরো বলেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত মোবাইল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা সত্য নয়। তাঁর দাবি, গত সোমবার রাত ১১টার পর মাদ্রাসায় ঢুকে পুলিশ নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের কারণেই মঙ্গলবার ভোরে হাফেজ মাসুদুর নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবারের ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্ররা জড়িত নয়। একদল দুষ্কৃতকারী ওই হামলা চালিয়েছে। যদি কোনো মাদ্রাসাছাত্র ওই ঘটনায় জড়িত থাকে তাহলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ছাড়া এ নারকীয় তাণ্ডবের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।

প্রিন্সিপাল মুফতি মোবারক উল্লাহ রেলওয়ে স্টেশন ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রকে জেলা পরিষদ মার্কেটের এক দোকানদার থাপ্পড় দেন। এরপর ওই মাদ্রাসা থেকে অর্ধশত ছাত্র এসে দোকানে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত মাসুদ মঙ্গলবার সকালে মারা যান।

মাসুদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাদ্রাসাছাত্ররা শহরের বিভিন্ন যানবাহন, রেলওয়ে স্টেশন, দোকানপাট, আওয়ামী লীগের অফিস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরের ৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জেলা শহরের অবস্থিত সকল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় পৃথক ১০টি ও আখাউড়ায় রেলওয়ে থানায় একটিসহ ১১টি মামলা করা হয়েছে। একটি মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত প্রায় আট হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে।

সূত্র: রেডিও তেহরান

captcha