IQNA

তেহরানের জুমা নামাজের খতিব:

'বিশ্বে নানা অশান্তি ছড়াচ্ছে মার্কিন-ইসরাইলি-সৌদি চক্র'

20:36 - February 05, 2016
সংবাদ: 2600230
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব আয়াতুল্লাহ ইমামি কাশানি বলেছেন, ‘মার্কিন সরকার, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি শাসকগোষ্ঠী মিলে গড়ে উঠেছে দুষ্কৃতির ত্রিভুজ চক্র।’
'বিশ্বে নানা অশান্তি ছড়াচ্ছে মার্কিন-ইসরাইলি-সৌদি চক্র'

বার্তা সংস্থা ইকনা: তিনি বলেছেন, ‘এই চক্রের একদিকে রয়েছে মার্কিন শক্তি, ইসরাইলের ষড়যন্ত্র ও সৌদি সরকারের অর্থ। আর এই অশুভ চক্র সারা বিশ্বে ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক, সামরিক ও নৈতিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।


আজ তেহরানের জুমা নামাজের খোতবায় তিনি এইসব মন্তব্য করেছেন।


আয়াতুল্লাহ কাশানি বলেছেন, শত্রুরা ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে অনুচর ঢোকানোর চেষ্টা কেন্দ্রীভূত করছে এবং এই সেক্টরগুলোকে নিরাপত্তাহীন করতে চায় ঠিক যেভাবে এই অপরাধীরা সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, ফিলিস্তিন ও অন্যান্য অঞ্চলে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবুও মহান আল্লাহ ইসলামের সৈনিকদেরই বিজয় দান করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।


শত্রুরা ইসলামের নামেই ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ওপর তাকফিরি-ওয়াহাবিদের লেলিয়ে দিয়েছে বলে তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব স্মরণ করিয়ে দেন।


তিনি আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে দেশের সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শত্রুরা ইরানের নির্বাচনকে টার্গেট করেছে, তাই ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ শত্রুদের ষড়যন্ত্রকে বানচাল করবে।


আগামী ১৭ মার্চ ইরানের সংসদ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ৩৭ তম বিজয়-বার্ষিকী প্রসঙ্গে বলেন, এ বিপ্লবের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল গোটা জাতি মরহুম ইমাম খোমেনীর পেছনে ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং তখন কেবল কথা ও শ্লোগানেই ঐক্য ছিল না হৃদয়গুলোও এক ছিল।


আয়াতুল্লাহ কাশানি বলেছেন, সভ্যতার চার মূলনীতি হল নৈতিকতা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি। পশ্চিমা দার্শনিকরা সভ্যতার এই ভিত্তিগুলোর কথা মুখে বললেও বাস্তবে তা খোঁজার চেষ্টা করেননি। অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ভিত্তি যে নৈতিকতা তা উইল ডুরান্ট ও কান্টের মত পশ্চিমা চিন্তাবিদরা উল্লেখ করলেও তারা এ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন এবং বিকৃত খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি। অন্যদিকে ইসলামেই রয়েছে প্রকৃত নৈতিকতা এবং বিশ্বনবী (সা) মুসলমানদের কাছে তার ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। ইসলাম দেশ বা রাজ্য জয় করা নয় বরং মানুষের হৃদয় জয় করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে তিনি হাদিসের আলোকে স্মরণ করিয়ে দেন।


হৃদয় জয় করা প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ কাশানি বলেছেন, সদাচার ছিল নবী-রাসূলদের উপদেশ যা পরিবারে ও সহকর্মীদের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে এবং ইসলামের এ উপদেশ তাদের জন্য যারা নিজের হারানো বিষয়ের মধ্যে তা খুঁজছে ও নতুন সব আদর্শ ও চিন্তার মধ্যে তা খুঁজছে।


আয়াতুল্লাহ কাশানি আরও বলেছেন, ইসলামের অর্থ হল আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, জ্ঞান, হেকমত বা প্রজ্ঞা ও পবিত্রতা। ইসলাম কোনো অঞ্চলকেই তরবারি দিয়ে জয় করেনি, বরং চিন্তা দিয়ে এগিয়ে যায় ও যুক্তি দিয়ে কথা বলে। তবে কখনও কেউ বা কোনো মতাদর্শ যখন গায়ের জোরে ইসলামকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছে কেবল তখনই ইসলাম তরবারি বের করেছে, তা না হলে ইসলাম কখনও সহিংসতার ধর্ম নয়। সূত্র: রেডিও তেহরান

3472974


captcha