IQNA

সর্বোচ্চ নেতা:

সিরিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সেদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে

22:48 - February 15, 2016
সংবাদ: 2600291
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান সফরকারী আফ্রিকার দেশ ঘানার প্রেসিডেন্ট ‘জন দ্রামানি মাহামা’র সঙ্গে এক বৈঠকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সেদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সিরিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সেদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে
বার্তা সংস্থা ইকনা: গতকাল বিকালে নার প্রেসিডেন্ট জন দ্রামানি মাহামার সঙ্গে এক বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা বলেন: প্রভাবশালী ক্ষমতাধরগণ চাই না ইরান-আফ্রিকার সম্পর্ক ভালো হোক। এছাড়াও তারাই সন্ত্র্রসবাদদের উৎস। তবে এসকল সমস্যার সমাধান হচ্ছে স্বাধীন দেশগুলোর এগিয়ে এসে তাদের সহযোগিতার হাত প্রসর করতে হবে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সব যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষা। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীগুলোর বিস্তারে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সব দেশ মুখে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিন্দা জানানো সত্ত্বেও এসব গোষ্ঠী কার কাছ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পায়?

প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের সব সমস্যার মূলে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো যার নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন সরকার। এ ছাড়া, ইহুদিবাদী ইসরাইল হচ্ছে শয়তানি শক্তিগুলোর কেন্দ্রবিন্দু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশের অভিন্ন মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মাথাব্যথা প্রমাণ করছে, সন্ত্রাসবাদের কোনো সীমান্ত নেই এবং এশিয়া থেকে শুরু করে আফ্রিকা, ইউরোপ এমনকি মার্কিন সমাজেও এই দুষ্টচক্র প্রভাব বিস্তার করেছে।

সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ার অনেকগুলো কারণের অন্যতম হচ্ছে এই দুষ্টচক্রের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ এবং দায়েশের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কোনো কোনো দেশের পক্ষ থেকে তাদের স্বার্থ হাসিলের কাজে ব্যবহার করা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন করতে হলে এর উৎপত্তির কারণগুলোকে একে একে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। অবশ্য সন্ত্রাসবাদ বহু দেশের জন্য মাথাব্যথা তৈরি করেছে বলে এটি ধ্বংসের কাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সব দেশ তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইরান এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেছে। ঘানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান।

এসময় সর্বোচ্চ নেতা সিরিয়া ও ফিলিস্তিনির বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানের ব্যাপারে মতামত দেন। তিনি বলেন: ইরান ও ঘানার ধারণক্ষমতা অনেক ভালো এ অধিক। আশা করছি ভবিষ্যতে দুদেশের সম্পর্কে আরো গভীর হবে।

এ বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি উপস্থিত ছিলেন। ঘানার প্রেসিডেন্ট বলেন: ফিলিস্তিনির জনগণের জন্য বিশ্বের সকলেই উদ্বিগ্ন রয়েছে। আকে অপরের সহযোগিতার মাধ্যমে ফিলিস্তিনির জনগণের অধিকার রক্ষা করত হবে।

ঘানার প্রেসিডেন্ট তেহরানের তার আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্পর্কে বলেন: আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছি।

iqna


captcha