
বার্তা সংস্থা ইকনা: আমেরিকান নাগরিক "ন্যান্সি অ্যালেন" প্রতিদিন
সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার পূর্বে যে কাজটি করে সেটি হচ্ছে, তিনি হিজাব পরেন। তিনি আমেরিকার আরকানসাস রাজ্যের
‘কানাভি’ শহরের এপিসকোপাল চার্চের সদস্য। তিনি প্রায় দুই মাস
যাবত হিজাব ব্যবহার করে আসছেন। তিনি বলেন: আমি ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আমেরিকান মুসলমানদের সমর্থন করছি। সর্ব
প্রথম আমি মেডিটেশন করার জন্য এ কাজ করি। তবে সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের পরিস্থিতি দেখে
এবং আমেরিকার মুসলিম বিরোধী রাজনীতিবিদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশ্চর্যজনক মতামত আমাকে অন্য
দিকে ধাবিত করেছে। অ্যালেন বলেন: হিজাব শুরু করার পূর্বে আমি আমার মালয়েশিয়ান এক মুসলিম
বন্ধুর সাথে আলোচনা করি। হিজাবের ব্যাপারে তার মত ইতিবাচক ছিল। তিনি কানাভি শহরের ফকনার গ্রন্থাগারে কর্মরত রয়েছেন। তারপর আমার পছন্দনীয় হিজাব
ক্রয়ের জন্য অনলাইনে hijabstore.com সাইটে অর্ডার দেয়। অ্যালেন আরও বলেন: কিছুদিনের মধ্যে অর্ডারকৃত জিনিস পেয়ে যায় এবং ঐ দিন থেকে
আমার কর্মস্থলে যাওয়ার পূর্বে আমি হিজাব ব্যবহার করি। আমি যখন লবিতে প্রবেশ করি তখন
এক ভদ্রমহিলা আমার সাথে আরবি কথা বলতে থাকে। অতঃপর আমি তাকে বলি, আমি আরবি ভাষী নয় এবং আমি মুসলমানও নয়, বরং আমি একজন খ্রিস্টান নারী। তবে আমেরিকার মুসলিম
নারীদের সমর্থন করার জন্য আমি হিজাব ব্যবহার করছি। তিনি বলেন: অন্যান্য মানুষের মত তিনিও আমার এ কাজের জন্য আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অ্যালেন বলেন: দোকান ও চার্চ সহ আমি যেখানেই যাই না কেন হিজাব বজায় রেখে যায়।
প্রথমে হিজাব ব্যবহার করতে আমি দ্বিধাবোধ করতাম। কিন্তু এখন হিজাব ব্যবহার না করলে
আমার ভালো লাগে না। আমেরিকান মুসলমানেরা ন্যান্সি অ্যালেনের এ কাজের সমর্থন করেছেন। তার এক মুসলমান
বন্ধু বলেন: তিনি মুসলমানদের ভিত্তিকে প্রদর্শন করছেন এবং তিনি এ কাজ তার হৃদয় থেকে
করছেন। অ্যালেন বলেন: মিডিয়ায় যা প্রচার হয় তা সকল আমেরিকান নাগরিকের মতামত নয়। ঠিক
একইভাবে মুসলমানেরা চাই যে, মিডিয়ার যে ভাবে মুসলমানদের তুলে ধরা হয়, তারা তেমনটি নয়।