IQNA

সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা

17:07 - February 20, 2016
সংবাদ: 2600315
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ প্রকাশ করেছে: ২০০৬ সালের গ্রীষ্মে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবু্ল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা

বার্তা সংস্থা ইকনা: হারেৎজ পত্রিকার সামরিক বিশেষজ্ঞ আমোস হারিয়িলসাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে। যায়নবাদীরা ২০০৬ সালে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবু্ল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর অবস্থানের উদ্দেশ্য করে একটি অতি স্মার্ট বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

আমোস হারিয়িল জানায়: এ হামলাটি অতি জটিল ছিল এবং ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য নির্ভুল না হওয়ার দরুন যায়নবাদীরা ব্যর্থ হয়।


২০০৬ সালের যুদ্ধ

হারেৎজ পত্রিকার সামরিক বিশেষজ্ঞ ২০০৬ সালের যুদ্ধে ঘটনা বর্ণনা করেছে। কিন্তু ২০০৬ সালে এ যুদ্ধে দখলদার ইসরাইলিরা অতি জঘন্য ভাবে পরাজিত হয়।

লেবাননের দ্বিতীয় যুদ্ধ এবং যায়বাদীদের যুদ্ধ (৩৩ দিনের যুদ্ধ) নামে প্রসিদ্ধ লেবাননের প্রতিরোধ দলের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও আমেরিকার যুদ্ধ ২০০৬ সালের ১২ই জুলাই শুরু হয়। অধিকৃত উত্তর অঞ্চল এবং লেবানন জুড়ে এ যুদ্ধ হয়। অবশেষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ১৪ই অক্টোবর যুদ্ধের সমাপ্তি হয়।

৩৩ দিনের যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী আকাশপথে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৫ হাজার বার হামলা চালায়। এছাড়াও লেবাননের উপকূলে যায়নবাদীরা নৌ অভিযান চালায় এবং লেবাননের উপকূলীয় অঞ্চল অবরোধ করার জন্য সেখানে বিরামহীন ভাবে গুলি বর্ষণ করত। অপরদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীরাও লেবাননের নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে কমপক্ষে ১ লাখ ৬০ হাজার রাউন্ড গুলি এবং ২৫০০ মর্টার শেল নিক্ষেপ করে।

এ যুদ্ধে ইসরাইলি সৈন্যরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে। যারমধ্যে ফসফরাস ক্লাস্টার বোমা সহ অন্যান্য বোমাও ছিল। ইসরাইলির হামলার ফলে লেবাননের কমপক্ষে ১২০০ নাগরিক শহিদ হয়েছে এবং সহস্রাধিক নাগরিক আহত ও গৃহহীন হয়েছে।

৩৩ দিনের এ যুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপর দিকে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবু্ল্লাহর ৭৪ জন সদস্য শহিদ হন এবং ইরসাইলি সামরিক বাহিনীর ১১৭ জন সদস্য ও কর্মকর্তা নিহত হয় এবং এ যুদ্ধ হিজবুল্লাহ বিজয়ের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্ত হয়।

117ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ'র বিজয়ে প্রভাবিত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন জনগণের অনুকূলে। খোদায়ী ওয়াদা অনুযায়ী ফিলিস্তিনীদের হৃত অধিকার পুণঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা এখন খুবই উজ্জ্বল। ৩৩ দিনের যুদ্ধের ৫ বছর পরই মুবারক সরকারের অভাবনীয় পতন ঘটে। তাই ইসলামী জাগরণ ফিলিস্তিনকেও ইসরাইলের জবর দখল থেকে মুক্ত করলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

iqna


captcha