
বার্তা সংস্থা ইকনা: বিশ্বখ্যাত ক্বারি ‘শেখ আহমাদ মুহাম্মাদ আমের’ ১৩২৭ সালে মিশরের ‘আল শারকিয়া’ প্রদেশের ‘ফাকুস’ শহরের নিকটে ‘আল আসাকিরাহ’ নামক গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশবকালে পবিত্র কুরআন হেফজ করেছেন এবং সেদেশের সেনা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৩ সালের পর থেকে তিনি কায়রো রেডিও’তে যোগ দেন।
শারকিয়া প্রদেশের শাইখুল কুরয়া এবং ইসলামী বিশ্বের বিখ্যাত ক্বারি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন মরহুম আহমাদ মুহাম্মাদ আমের। তিনি ৮৯ বছর বয়সে ইহধাম ত্যাগ করে মহান আল্লাহ সান্নিধ্যে গমন করনে।
তিনি শিশুকাল থেকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তার পিতা ‘শেখ মুহাম্মাদ আমের’ও কুরআনের প্রতি অতি আকৃষ্ট ছিলেন। তিনি শৈশবকাল থেকেই মিশরের ‘আল শারকিয়া’ প্রদেশের ‘আল আখিওয়াত’ গ্রামের ‘শেখ আব্দুল্লাহ’ কুরআনিক শিক্ষা কেন্দ্রে ভর্তি হন এবং মাত্র ১১ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেন।
মিশরের ‘আল দিহকালিয়া’ প্রদেশের সাবেক মুফতি ‘শেখ মুহাম্মাদ খাতিরে’র পিতামহ ‘শেখ আব্দুস সালাম আস-সারবাসি’র নিকট কুরআন তেলাওয়াত শেখেন এবং তার তত্ত্বাবধানে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের যাবতীয় পদ্ধতি রপ্ত করতে সক্ষম হন।
মিশরের এই বিশিষ্ট ক্বারি সেদেশে সুখ্যাতি অর্জন করার পর কায়রোর রেডিও কুরআনে পরীক্ষা দেওয়ার পর ১৯৬৩ সালে উক্ত রেডিওতে যোগদান করেন। তিনি মিশরের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাফেলার সাথে (দেশের বাহিরে) সর্বপ্রথম সুদানে সফর করেন এবং তারপর থেকে আরবি দেশগুলো তথা ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সৌদি আরব সহ আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তার সফর অব্যাহত থাকে।
আহমাদ মুহাম্মাদ আমের ১৯৫৯ সালে ফিলিস্তিনে এবং ১৯৬৯ সালে ফ্রান্স, আমেরিকা, ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্য সফর করেন। এছাড়াও ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে বেশ কয়েকবার ইরানে সফর করেন।
বিশ্বখ্যাত ক্বারি ‘শেখ আহমাদ মুহাম্মাদ আমের’র ইন্তেকালের জন্য বার্তা সংস্থা ইকনা সকল পাঠক ও কুরআন প্রেমীদের সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
