
‘মেসির নাম পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে’ শিরোনামে সুলাইমানের লিখিত এক প্রবন্ধে এমনটি মন্তব্য করেন। দুর্বল বিশ্লেষণ এবং অযৌক্তিকের মাধ্যমে তিনি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ফুটবল তারকা মেসির নাম পবিত্র কুরআনে থাকার জন্য তার দক্ষতা ও উদ্ভাবনকুশলতার তিনি পৌছাতে পেরেছেন।
সম্ভবত তুরস্কের এই লেখকের আরবি ভাষা সম্পর্কে তেমন কোন দক্ষতা নেই। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতের «المسِّ» অথবা «اللمس» (আল মাস্সি অথবা লিল মাস্সি) « الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَواْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِى يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَالِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُواْ إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَواْ وَ أَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبَواْ»
অর্থ: যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতে) সেই লোকের মত দণ্ডায়মান হবে যাকে শয়তান স্পর্শ করে উন্মাদ করে দিয়েছে, এ কারণে যে, তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয়ও সুদের মত।’ অথচ ক্রয়-বিক্রয়কে আল্লাহ বৈধ এবং সুদকে অবৈধ করেছেন।
এবং সুরা আল-ওয়াকিয়াহ’র ৭৯ নম্বর আয়াত «لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ» অর্থ: পূত-পবিত্ররা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। উক্ত আয়াত দু’টোয় আর্জেন্টাইন তারকা "লিওনেল মেসি"র নাম উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।
তিনি উক্ত প্রবন্ধে লিখেছেন: "সুরা বাকারার ২৭৫ আয়াত তেলাওয়াতের সময় আমি আশ্চর্য হয়েছি এবং অবিলম্বে ইস্তাম্বুলের বাগচালার নামক অঞ্চলের আঞ্চলিক মুফতি ‘হাসান হাসানি সুলি’র নিকট ফোন দিয়ে তার নিকট এই আয়াতের অর্থ সম্পর্কে জানতে চায়”।
‘সুলাইমান কারাকুলুক’ আরও লিখেছেন: "এই আঞ্চলিক মুফতিকে আমি যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও ভক্তি করি। তার নিকট জানতে চাইলাম, «المسّ»এর অর্থ হচ্ছে স্পর্শ করা, ঠিক যেমনটি آیه «لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ» আয়াতে উল্লেখ হয়েছে। মুফতি আমাকে বললেন: এ শব্দটি সংঘর্ষ অথবা স্পর্শের সংঘর্ষের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে”।
এর ফলে তুরস্কের সংবাদপত্রের কলামিস্ট ‘সুলাইমান কারাকুলুক’ এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি অন্যান্য প্লেয়ারের সাথে (ফুটবলের মাধ্যমে) সংঘাত করেন অথবা তাদের শরীরে আঘাত করেন; সুতরাং এখানে বলা যেতে পারে যে, এই আয়াতে আর্জেন্টাইন প্লেয়ার লিওনেল মেসি’র প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।