IQNA

ফাতেমা যাহরা (আ.) ফেদাক খুতবাতে খেলাফত দখলকারীদের মুখোশ উন্মোচন করেন

22:38 - March 07, 2016
সংবাদ: 2600405
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নবী নন্দিনী ফাতেমা যাহরা (আ.) স্বীয় পিতা মুহাম্মাদের (সা.) ওফাতের পর খেলাফত ও ফেদাক ভূ-খণ্ড দখলকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলেন এবং এ উদ্দেশ্যে তিনি মসজিদে নবাবীতে এক ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করেন; যা খুতবায়ে ফাদাকিয়্যাহ বা ফেদাক খুতবা নামে প্রসিদ্ধ।
ফাতেমা যাহরা (আ.) ফেদাক খুতবাতে খেলাফত দখলকারীদের মুখোশ উন্মোচন করেন
বার্তা সংস্থা ইকনা: প্রসিদ্ধ হাদিসের বর্ণনানুসারে এবং নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থাবলীর ভাষ্যানুযায়ী রাসূল (সা.) ফেদাক ভূ-খণ্ডটি উপঢৌকন হিসেবে স্বীয় কন্যা ফাতেমা যাহরাকে (আ.) দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ওফাতের পরপরই তা প্রথম খলিফা দখল করে নেন। নবী নন্দিনী (আ.) এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। ফলে ক্ষমতাসীনরা ফেদাকের মালিকানার পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানায়। তিনি আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.), ইমাম হাসান (আ.), ইমাম হুসাইন (আ.) এবং উম্মে আইমানকে (রা.) সাক্ষী হিসেবে হাজির করেন। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা রহস্যজনক কারণে তাঁদের সাক্ষ্য গ্রহণ হতে বিরত থাকে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এ ঘটনায় ইসলামী বিচার প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ পরিপন্থী উপায়ে নবী নন্দিনীকে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে বলা হয়। অথচ ইসলামী বিধানানুযায়ী যখন কোন বস্তু কিম্বা সম্পদ কারও আয়ত্তাধীন থাকে; তখন তার থেকে সেটা নিতে হলে উপযুক্ত প্রমাণাদি উপস্থাপনের পর যদি তা গ্রহণযোগ্য বিবেচ্য হয়, তবে এমতাবস্থায় কেবল তার থেকে সেটা নেয়া বৈধ হিসেবে পরিগণিত হবে। এক্ষেত্রে ইসলামী বিধান হচ্ছে: কোন বস্তু কিম্বা সম্পদ কারও এখতিয়ারভুক্ত থাকা সেটার মালিকানার দলীল হিসেবে বিবেচিত।

ফেদাক ছিল হযরত ফাতেমা যাহরার (আ.) আয়ত্তাধীন। কাজেই তাঁর নিকট এ ভূ-খণ্ডের মালিকানার পক্ষে দলীল উপস্থাপনের কোন যৌক্তিকতা নেই। বরং যারা নতুন মালিকানা দাবী করেছিল তাদেরকেই দলীল-প্রমাণ প্রদর্শন করা জরুরী। এখানে আলী (আ.), হাসান (আ.) ও হুসাইনের (আ.) প্রদত্ত সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর। কারণ স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে তাঁদেরকে পাক-পবিত্র ও যে কোন ভুল-ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে ঘোষণা করেছেন।  কিভাবে ক্ষমতাসীনরা বেহেশতের নারীদের সম্রাজ্ঞী ফাতেমা যাহরার (আ.) দাবীকে প্রত্যাখ্যান করেছিল! যেখানে হযরত আয়েশার বর্ণনানুযায়ী তিনি ছিলেন রাসূলের (সা.) পর সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী হিসেবে খ্যাত।

নবী নন্দিনী (আ.) যখন দেখলেন যে, ক্ষমতাসীনরা ফেদাকের মালিকানার পক্ষে তার দাবীকে মেনে নিচ্ছে না, তখন তিনি সত্য প্রমাণের জন্য পবিত্র কোরআনের আয়াতের শরণাপন্ন হন। যদি ধরে নেয়া হয় যে, রাসূল (সা.) ফেদাক ভূ-খণ্ড তাঁর কন্যাকে উপঢৌকন হিসেবে দেন নি। কিন্তু তথাপিও উত্তরাধিকার সূত্রে সেটার দাবীদার হচ্ছেন তিনি। কেননা এ ভূ-খণ্ডটি ছিল রাসূলের (সা.) নিজস্ব সম্পত্তি। সূত্র: শাবিস্তান#
captcha