
পার্সটুডের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনার রিপোর্ট: সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আজ জুবায়ের আবারো ইরানকে সন্ত্রাসীদের সমর্থক বলে অভিহিত করেছেন। এটা কারো অজানা নয় যে সৌদি আরবই হচ্ছে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের প্রধান উৎস এবং বিকৃত ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে প্রধান ভূমিকা রাখছে এ দেশটি-ঠিক তখন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ তুললেন।
আদেল আজ জুবায়ের বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণা কেন্দ্রে দাবি করেছেন, ইরানের ইতিহাস হত্যা ও আন্তর্জাতিক অধিকার উপেক্ষা করার ঘটনায় ভরপুর। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ করলেন যখন এটা কারোরই অজানা নয় যে সৌদি আরব এ অঞ্চলের জাতিগুলোর ওপর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সীমাহীন হত্যাকাণ্ড ও জুলুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সব সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও এর অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তেহরান পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল। তাই দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে ইরান বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দুই বছর আগে সহিংসতা ও উগ্রপন্থা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জন্য ইরানের প্রস্তাব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে পাশ হয়। ১৯০টি দেশ ইরানের ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এ থেকেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার বিষয়টি ফুটে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইরানের যোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ইরান সবসময়ই বিশ্বের যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে থাকে। এ জন্য প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ইরান সবার সহযোগিতায় সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ার ব্যাপারে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। যে কোনো চ্যালেঞ্জ ও সংকট মোকাবেলার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করাকে ইরান সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়া ইরান সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এ পর্যন্ত বহু গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদকে উৎসাহিত করে যাচ্ছে।
ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর ইরানের সরকার ও জনগণ বহুবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ইরানি শহীদ হয়েছে। ইরান বিরোধী যে মোনাফেক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে তাদের প্রধান মদদদাতা হচ্ছে সৌদি আরব। ইরান বিরোধী এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তাদের প্রায়ই বৈঠক হয় এবং ইরানকে মোকাবেলার জন্য রিয়াদ তাদেরকে ব্যবহার করছে। সৌদি কর্মকর্তারা এমন সময় সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন যখন সারা বিশ্ব জানে আল কায়দা ও তালেবানের জন্মদাতা হচ্ছে সৌদি আরব এবং এ দেশটির সঙ্গে দখলদার ইসরাইলের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ ছাড়া, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন এমনকি ফিলিস্তিন ও লেবাননেও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে সৌদি আরব।
সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অথচ সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থনকে সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন বলে প্রচার চালাচ্ছে।
সৌদি আরব ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দিয়ে প্রকারান্তরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের জুলুম নির্যাতন ও অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিই সমর্থন দিচ্ছে। দায়েশ, তাকফিরি ও ইসরাইলের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের বিষয়টি আজ কারোরই অজানা নয়। #