IQNA

আজ বিশ্বনবীর (সা) পক্ষ হতে হজে মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন আলী (আ)

23:01 - September 11, 2016
সংবাদ: 2601552
আজ ৯ জিলহজ হজযাত্রীরা পবিত্র হজ্বের একটি ফরজ বা অবশ্য-পালনীয় অনুষ্ঠান হিসেবে কাফির-মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেবেন পবিত্র মক্কায়।
আজ বিশ্বনবীর (সা) পক্ষ হতে হজে মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন আলী (আ)
পার্সটুডের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনা: প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানটি পালিত হয় আমেরিকা ও ইসরাইল ধ্বংস হোক শ্লোগানের মধ্য দিয়ে। যদিও এ বছর ইরান, সিরিয়া ও  ইয়েমেনের মুসলমানদের হজ করতে না দেয়ায় এ অনুষ্ঠান ব্যাপক পরিসরে পালিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 

 উল্লেখ্য, বর্তমান যুগে ইসলামী জাগরণের অগ্রদূত ও ইরানের ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী (র.) এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কাফির মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা বা বারাআত নামক হজের  ফরজ কর্তব্যটি পালনের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যাতে আমেরিকা ও ইসরাইলের জুলুমের বিরুদ্ধে দেশে দেশে মুসলমানদের মধ্যে জাগরণ ছড়িয়ে পড়ে।  

সুরা তওবার প্রথম আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি বছর হজের সময় এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়।  এই আয়াতে বলা হয়েছে, بَرَاءَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الَّذِینَ عَاهَدْتُمْ مِنَ الْمُشْرِکِینَ

- সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।

উল্লেখ্য, মহান আল্লাহর আদেশে এই আয়াতটি হজের অনুষ্ঠানে পড়ে শোনানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন বিশ্বনবী (সা.)। আর ওই নির্দেশের ভিত্তিতে  আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) তা পড়ে শোনান।   সেই থেকে পবিত্র মক্কায় ও কাবাঘরের আশপাশে কাফির-মুশরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছিল।

পবিত্র কুরআনে সুরা মায়েদার ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানকে বন্ধু বানাবে না। তারা অর্থাত ইহুদি ও খ্রিস্টানরা পরস্পরের বন্ধু। আর যে তাদের সাথে মিতালী বা বন্ধুত্ব করবে সে অবশ্যই তাদের বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদেরকে হেদায়াত করেন না। 

শয়তান ও খোদাদ্রোহী শক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ এবং ইসলামী ঐক্য জোরদার হজ্জের অন্যতম উদ্দেশ্য। আর এ জন্যই হজযাত্রীরা শয়তানের প্রতীকি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করে থাকেন। কিন্তু ইসলামী চিন্তাবিদ, আলেম ও গবেষকরা মনে করেন বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের প্রধান শত্রু হল আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল। আর এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের সচেতনতা ও ঐক্য বৃদ্ধি জরুরি বলে তারা মনে করেন। #


captcha