
সংবাদ সংস্থা ইকনা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারম্যান সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন, কারণ তিনি স্পষ্ট লক্ষ্য ও নির্দিষ্ট কৌশল ছাড়াই এই সংঘাত শুরু করেছেন।
তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “হেগসেথ দাবি করেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী সফলভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। কিন্তু বাস্তবে এখন ইরানের হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে একটি অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।”
শারম্যান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সামরিক হামলা ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না এবং এতে বর্তমান অচলাবস্থা কাটবে না।
পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) আলোচনার সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “তখন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষ আলোচক ও বিশেষজ্ঞরা ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ছিল যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনে সেই অবস্থা নেই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সক্রিয় কূটনীতিতে ব্যস্ত এবং রাশিয়া ও চীনের মতো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন সক্রিয় কূটনীতি দেখা যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত জরুরি।
অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রসঙ্গে শারম্যান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফিরতে হলে উভয় পক্ষকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা এবং নৌ অবরোধ বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ট্রাম্প পূর্বে দাবি করেছিলেন যে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে।
শেষে শারম্যান আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প এমন উপদেষ্টাদের সঙ্গে কাজ করবেন যাদের ইরান সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান রয়েছে। 4349635#