
তবে ইতিহাস বলে এক সময় চীনে মুসলিমদের বেশ প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। মিং সাম্রাজ্যের ছয়জন জেনারেল ছিলেন মুসলিম। তাদের দাপটে শত্রু বাহিনী সব সময় তটস্থ থাকতো।
দেশটিতে মুসলিমদের আগমন হয় হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাবসনের প্রায় শত বছর পর। তখন খলিফা উসমান (রা) শাসনামল। সিল্করুটে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে মুসলিমদের।
তখন চীনে ট্যাং রাজবংশের শাসনামল। খলিফা ওসমানের প্রতিনিধি হিসেবে রাজা গোয়াওজংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা.)। তিনি রাজাকে খলিফার একটি সৌজন্য পত্র প্রদান করেন।
ওই পত্র পাঠ করে রাজা গোয়াওজং খুব সন্তুষ্ট হন। তিনি মুসলিমদের ব্যবসা ও অন্যান্য কাজ করার সুযোগে পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় রীতি ও আচার-আচরণ পালনে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন।
সেই মসজিদটি ঘিরেই আজ হুই সম্প্রদায়ের মুসলিমদের বাস। মসজিদটি নির্মাণ করা হয় চীনের শানক্সি প্রদেশের ঐতিহাসিক নগরী জিয়ানে। এ শহরটিতে অন্তত ২০ হাজার মুসলিমের বসবাস। দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে তারা এখানে আসেন। আর দেশটিতে হুই সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে প্রায় এক কোটি। এদের ভাষা মান্দারিন।
জিয়ানের এই মসজিদটি ঘিরে বর্তমানে মুসলিম পরিবারগুলো বাস করে। জিয়ান শহরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকায় প্রতিদিন হাজারো পর্যটক পরিদর্শনে আসেন। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ওই ঐতিহাসিক মসজিদ ও এর আশপাশের মুসলিমদের দোকান ও খাবারের দোকান।
কারণ হাজারো বছরের চীনা মুসলিমদের নানা উপকরণের একটি উৎস সেখানকার দোকানগুলো। আর খাবারের দোকানে মিলে শতভাগ হালাল খাবার। এসব দোকানের বিক্রয়কর্মী মেয়েরা পুরো গা ঢেকে ও হিজাব পরিধান করে কাজ করেন।
ঐতিহাসিক মসজিদটি এত বছরেও বেশ টিকে আছে। ট্যাং রাজবংশের সময় নির্মিত মসজিদটি শত শত বছর যাবৎ পরিবর্তন ও সংযোজনের পথ ধরে আজকের অবস্থানে এসেছে। এই মসজিদটির বেশিরভাগ উন্নয়ন সাধিত হয় মিং ও মাঞ্চু শাসনামলে। মসজিদটি একটি ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা হয়েছে। মসজিদটি চীনা ডিজাইনে বানানো। এর একটি চত্বর দিয়ে ভেতরে দিকে এগুতে হয়। তবে এই পথে থাকা আচ্ছাদন ও স্তম্ভগুলো বেশ সুন্দর। এগুলোতে রয়েছে সমৃদ্ধ ক্যালিগ্রাফিক নকশা ও পুষ্পশোভিত নিদর্শন।
ভিন্ন ভিন্ন আচার পালনের জন্য প্রতিটি চত্বরে আলাদা কক্ষ রয়েছে। আর সর্বশেষ করিডোর দিয়ে মূল প্রার্থনা কক্ষ বা মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। মসজিদের মূল ভবনটিও বেশ সুন্দর করে সাজানো। ঐতিহাসিক নিদর্শন সমৃদ্ধ ভবনটিতে চাইনিজ ও আরবি ভাষায় নানান নকশা করা রয়েছে।
পুরো বিশ্বে মিনারসহ মসজিদ থাকলেও এই ঐতিহাসিক মসজিদটি চীনের প্রাচীন নিদর্শন ও কৃষ্টি-কালচারের প্রতিনিধিত্ব করে। আর এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ জড়ো হচ্ছেন জিয়ান নগরীতে।