
কেউ আযাদারি কিংবা মাতমের সময় খালি গা হয়ে থাকেন; এ সম্পর্কে আমরা এখানে দু’জন বিশিষ্ট ফিকাহবিদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছি-
সাইয়েদুশ শোহাদা ইমাম হুসাইনের (আ.) স্বরণে আযাদারি ও মাতমের বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে, কেউ কেউ মাতমের সময় খালি গা হয়ে থাকেন; যা সমীচীন নয় ও দৃষ্টিকটু বটে।
তাই আযাদারি পালনের সময় কিংবা মাতমের সময় জামা খোলা কিংবা খালি গা হওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাব আমরা এখানে তুলে ধরছি। এ প্রশ্নের জবাব দিয়ের মুসলিম বিশ্বের দু’জন শীর্ষ ফিকাহবিদ যথাক্রমে ইসলামী বিপ্লবের মহামান্য রাহবার হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী এবং হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা মাকারেম শিরাজি। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে আমরা প্রশ্ন ও উত্তর দু’টিই এখানে উপস্থাপন করছি-
প্রশ্ন: সাইয়েদুশ শোহাদা ইমাম হুসাইনের (আ.) স্বরণে আযাদারি ও মাতমের সময় খালি গা হওয়ার বিধান কি?
উত্তর: (ক) হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা মাকারেম শিরাজি এ প্রশ্নের জবাবে বলেন- সতর্কতামূলক কর্তব্য হচ্ছে আযাদারি ও মাতমের সময় খালি গা না হওয়া। নি:সন্দেহে এটা দৃষ্টিকটু। কেউ কি তার পিতামাতার স্বরণে আয়োজিত মজলিসে খালি গা হওয়াকে পছন্দ করবেন?
তবে মাতমের সময় মাতমকারী মাতমের সুবিধার্তে স্বীয় জামার বোতামের উপরিভাগ খুলে মাতম করতে পারেন। এতে জামা খোলার কোন প্রয়োজন আসে না।
(গ) হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী’র প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ফাল্লাহ জাদেহ এ প্রশ্নের জবাবে বলেন: ইমাম হুসাইনের (আ.) স্বরণে আযাদারি ও মাতমের সময় এমন কোন কাজ করা উচিত নয়, যা আহলে বাইতের (আ.) অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষপোষণকারীদের অপব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। কাজেই এক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে খালি গা না হয়ে শালিনতার সাথেই মাতম করা।