
বার্তা সংস্থা ইকনা: সন্ত্রাসবাদের হুমকি নতুন কিছু নয় কিন্তু সম্প্রতি তারা সারা বিশ্বের জন্য বিরাট হুমকিতে পরিণত হয়েছে। কোনো দেশই এ নিশ্চয়তা দিতে পারে না যে তারা নিরাপদ রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের হুমকি একেক দেশে একেক রকমের। প্রথমত, কোনো কোনো দেশ কম হুমকির সম্মুখীন আবার কোনো কোনো দেশ অনেক বেশি হুমকির সম্মুখীন এমনকি প্রতিদিনই তারা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সন্ত্রাসীরা কোনো কোনো দেশে এককভাবে আত্মঘাতি হামলা চালাচ্ছে আবার সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে তারা সংঘবদ্ধভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত।
প্রকৃতপক্ষে, উত্তর আফ্রিকাসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিস্তার কয়েকটি দেশের ভ্রান্ত নীতির ফসল। এই দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছ সৌদি আরব। সৌদি আরব সিরিয়ার বৈধ সরকারকে উৎখাতের জন্য এবং এ অঞ্চলে দখলদার ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামীদের দুর্বল করার জন্য অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মাঠে নামিয়েছে। সৌদি সমর্থন নিয়ে গড়ে ওঠা আহরার আশ্ শাম এবং জয়শুল ইসলাম নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। কিছুদিন আগে সৌদি আরব ও তার মিত্র তুরস্ক এই দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কালো তালিকাভুক্ত করার পদক্ষেপে বাধা দিয়েছিল।
সৌদি আরবের মতো দেশগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন দিচ্ছে এবং এসব দেশের বহু নাগরিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় যে ১৫ ব্যক্তি জড়িত ছিল তার মধ্যে নয় জনই হচ্ছে সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া, আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনও ছিলেন সৌদি নাগরিক। বর্তমানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আহরার আশ্ শামের নতুন নেতা হাসান সুফানও সৌদি নাগরিক। এ থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরবের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ করে ধর্মের নামে প্রচলিত বিকৃত ওয়াহাবি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নাগরিকদেরকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগদানে উৎসাহিত করছে। এমনকি সৌদি আরব সারা বিশ্বে ধর্মের নামে বিকৃত ওয়াহাবি মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমেও সেই সমাজের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে এমনভাবে পাল্টে দিচ্ছে যাতে সেসব দেশের নাগরিকরাও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোতে যোগদানে উৎসাহিত হয়।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, সৌদি আরব নিজেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর লালনভূমি অথচ তারাই সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার জন্য অন্য দেশকে অভিযুক্ত করছে এবং নিজেকে সন্ত্রাসের বিরোধী বলে দাবি করছে। উদাহরণ স্বরূপ, সম্প্রতি কাতারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব দাবি করেছে দোহা সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে এবং এ থেকে কাতারকে সরে আসা উচিত।
যাইহোক, কয়েকটি আরব দেশ এ অঞ্চলে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। কিন্তু সৌদি সরকার শুধু যে তাদের প্রতি সমর্থন যোগাচ্ছে তাই নয় একই সঙ্গে নিজ দেশের জনগণকে ওয়াহাবি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে ধ্বংসাত্মক খেলায় মেতে রয়েছে। পার্সটুডে