IQNA

21:54 - November 02, 2017
সংবাদ: 2604229
আশুরার শিক্ষা শুধু কারবালা বা ৬১ হিজরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং গোটা মানবজাতির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত আশুরার মধ্যে শিক্ষা রয়েছে। আশুরার ঘটনায় ইমাম হুসাইনের সাথীরা দৃঢ় ঈমান, সাহস, বীরত্ব, ত্যাগ, ভালবাসা ও ইমামের প্রতি তাদের আনুগত্যের চরম প্রমাণ দিয়ে গেছেন।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) শুধু মহানবীর (সা.) প্রিয় দৌহিত্রই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন তার আদর্শের প্রতীকও। আর সে জন্যই তিনি ইয়াজিদের সঙ্গে আপস করেননি। বরং তার স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীনের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে প্রমাণ করে গেছেন শির দেগা, নেহি দেগা আমামা। অর্থাৎ প্রয়োজনে জীবন দেব, শহীদ হব; কিন্তু কোনো অযোগ্যের কাছে বা অনৈসলামিক নেতৃত্বের কাছে আনুগত্য প্রকাশ করব না।

তিনি ইসলামের জন্য সপরিবারে জীবন উৎসর্গ করে বিশ্ব মুসলিমকে শিখিয়ে গেছেন, অত্যাচারী যেই হোক আর যত শক্তিশালী হোক, তার কাছে মাথানত করা চলবে না।

ইমাম হুসাইনের (আ.)এ পদক্ষেপ ছিল মহান আল্লাহ তায়ালারই নির্দেশিত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- ‘তোমাদের সৃষ্টিই করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে।’ (সূরা আল ইমরান- ১১০)

চরিত্রহীন ইয়াজিদ যখন ক্ষমতার জোরে সত্য-ন্যায়ের মসনদে চেপে বসেছিল, তখন সমাজ ছেয়ে গিয়েছিল অনাচারের বিষবাষ্পে। ইয়াজিদ ভুলে গিয়েছিল তাকওয়া-তাহারাত। খোদাভীতি ও ইবাদত। সে খোদার বিধানকে তোয়াক্কা না করে লিপ্ত হয়েছিল বেগানা নারীগমনে। অসহায়দের সেবার পরিবর্তে সে খুলেছিল আমোদ-প্রমোদের দুয়ার।

ইমাম হুসাইন(আ.) ও তার বিশ্বস্ত সাথীরা ইয়াজিদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলেন এবং ইসলামকে বাচনোর জন্য নিজেদের জীবন উতসর্গ করেছিলেন।

কারবালায় এজিদ বাহিনী ইমাম হোসাইনকে (আ.) সাথী ও সন্তানসহ নির্মমভাবে শহীদ করেছে। কিন্তু ইমামের সাথীরা এখলাস, ধৈর্য, সাহস, ঈমান, তাকওয়া ও আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছেন।

আজকে আমরা যদি নিজেদেরকে সত্যিকার অর্থে ইমাম মাহদীর অনুসারী এবং প্রতীক্ষাকারী হিসাবে দাবি করি তাহলে অবশ্যই আমাদেরকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। আর ইমাম মাহদীর সত্য ও ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য চেষ্টা করতে হবে। শাবিস্তান
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: