IQNA

18:58 - November 21, 2017
সংবাদ: 2604369

মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ‘জাতিগত বৈষম্যের’ শিকার: অ্যামনেস্টি

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সরকারের অত্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ ‘জাতিগত বৈষম্যে’ রূপ নিয়েছে। মিয়ানমার থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার মূল কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এমন মন্তব্য করেছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ‘জাতিগত বৈষম্যের’ শিকার: অ্যামনেস্টি

বার্তা সংস্থা ইকনা: মঙ্গলবার প্রকাশিত অ্যামনেস্টির একটি প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, কিভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সরকার বহু বছর ধরে  বৈষম্য ও নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালিয়ে বর্তমান সংকট ডেকে এনেছে।  

একশ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের যেভাবে নিষ্ঠুর ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তা ‘বৈষম্যজনিত মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সংজ্ঞায় পড়ে। অ্যামনেস্টির সিনিয়র ডিরেক্টর ফর রিসার্চ অ্যানা নিসট্যাট বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এইসব রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে সম্পূর্ণ অমানবিক ও চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করে চলেছে।’

সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের করুণ অবস্থা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কথা শুনে বিভিন্ন দেশের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত আগস্ট মাস থেকে রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাদের হাতে হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের বর্ণনা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শর্ত সাপেক্ষে ফেরত নিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। তবে গত সপ্তাহে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেছেন, ঢাকার প্রস্তাবিত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গ্রহণ করা তাদের পক্ষে ‘সম্ভব নয়’। এ অবস্থায় চীন তার প্রতিবেশী মিয়ানমার এবং বন্ধুদেশ বাংলাদেশের  মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা করে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত মুসলিম জনগোষ্ঠীটিকে চরম ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়। ১৯৮২ সালের দমনমূলক নাগরিক আইন প্রণয়নের পর থেকে রোহিঙ্গাদের  ওপর এই বৈষম্য চলে আসছে। আইনটি প্রণয়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে সব ধরনের অধিকার হরণ করা হয়। তাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করা হয় না। দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ ‘বাঙ্গালি’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। পার্সটুডে

captcha