IQNA

23:38 - December 04, 2017
সংবাদ: 2604477
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমার সফরে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। কেন তিনি এই শব্দটি এড়িয়ে গেলেন তা নিয়ে বহু জল্পনা কল্পনা ছিল। অবশেষে পোপ নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করলেন।

মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ না বলার ব্যাখ্যা দিলেন পোপ


বার্তা সংস্থা ইকনা: তিনি জানিয়েছেন, মিয়ানমার সফরে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে গেলেও আলোচনার পথ বন্ধ করে না দিয়ে দেশটির সরকার ও সামরিক বাহিনীকে কাছে আসল বার্তাটি ঠিকই পৌঁছে দিতে পেরেছেন।
তিন দিনের ঢাকা সফর শেষে শনিবার রোমের পথে বাংলাদেশ ছাড়ার পর উড়োজাহাজে তিনি সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করার ব্যাখ্যা দেন।
মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি দৃঢ়তার সঙ্গেই তুলে ধরেছেন বলে ইংগিত দেন রোমান ক্যাথলিকদের এই সর্বোচ্চ ধর্মগুরু।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় রোহিঙ্গাদের তিনটি পরিবারের কাছ থেকে তাদের দুর্দশার কথা শুনতে শুনতে চোখ ভিজে আসার কথাও তিনি সাংবাদিকদের বলেন। তিনি জানান, সেই অশ্রু তিনি লুকাতে চেয়েছিলেন।
ওই অনুষ্ঠানেই পোপ এশিয়া সফরে প্রথমবারের মত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ঈশ্বরের উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের মধ্যেও বিরাজ করছে।
রোমের পথে পোপ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হল, বার্তাটি ঠিকভাবে পৌঁছে দেয়া, একবারে একটি বিষয়ে কথা বলা এবং অন্যপক্ষের জবাব শোনা। আমি যদি বক্তৃতায় ওই শব্দটি ব্যবহার করতাম, তারা হয়ত আলোচনার পথ আমার মুখের ওপরই বন্ধ করে দিত। প্রকাশ্যে বক্তৃতায় আমি পরিস্থিতিটা তুলে ধরেছি, অধিকারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি; বলেছি, নাগরিকত্বের অধিকার থেকে কাউকেই বঞ্চিত করা উচিৎ নয়। এটা করতে হয়েছে, যাতে একান্ত বৈঠকে আমি আরো কিছু বলতে পারি।’
পোপ ফ্রান্সিসের এই এশিয়া সফর হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মিয়ানমারে দেয়া ভাষণে পোপ সম্প্রীতির ডাক দিয়ে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীকে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানালেও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করায় বিষয়টি সংবাদের শিরোনাম হয়।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ মিয়ানমারের রোমান ক্যাথলিক চার্চ সফরের আগেই পোপকে অনুরোধ জানিয়েছিল, তিনি যেন তার বক্তৃতায় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার না করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, পোপের মুখ থেকে ওই শব্দটি এলে মিয়ানমারের খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর নতুন করে সহিংসতা শুরু হতে পারে।
গত ২৮ নভেম্বর ইয়াংগুনে পৌঁছানোর পরপরই মায়ানমারের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় পোপ ফ্রান্সিসের। ওই বৈঠক বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা থাকলেও সেনাবাহিনী শেষ মুহূর্তে বৈঠকের সময় এগিয়ে আনে। ফলে পোপ বেসামরিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসার আগেই তাকে সেনাবাহিনীর মনোভাব জানিয়ে দেয়ার সুযোগ হয় তাদের।
ওই বৈঠকের বিষয়ে পোপ সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার ‘ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং সত্য প্রকাশে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন কি না- এ প্রশ্নে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘যে বার্তা আমি দিতে চেয়েছি সেজন্য প্রয়োজনীয় শব্দই আমি ব্যবহার করেছি। যখন বুঝলাম, আমার বার্তা তাদের কাছে পৌঁছেছে, তখন আমার যা যা বলার ছিল সবকিছুই বলার সাহস পেলাম।’
এরপর ইংগিতপূর্ণ হাসি দিয়ে এক সাংবাদিককে সেই লাতিন প্রবাদটি পোপ বলেন, যার অর্থ- বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।
রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তবে পোপ বিষয়টি সেভাবে দেখছেন না।
গত ২৮ নভেম্বর সুচির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমার রাজনৈতিকভাবে বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে। সুতরাং সেই চোখ দিয়েই বিষয়গুলো দেখতে হবে। রাষ্ট্রগঠনের কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এগোতে হবে।’
iqna

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: