IQNA

0:22 - November 02, 2019
সংবাদ: 2609552
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রা'ণ হারানো দক্ষিণ ভারতের মহীশূরের রাজা টিপু সুলতান সম্বন্ধে যা যা লেখা আছে কর্নাটকের স্কুলে ইতিহাসের পাঠ্য বইগুলোতে, তা সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে সে রাজ্যের সরকার।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: বর্তমানে কর্নাটকে বিজেপি-র সরকার ক্ষমতাসীন। মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা জানিয়েছেন, "টিপু জন্ম-জয়ন্তী আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল পাঠ্য বইতে যা রয়েছে টিপু সুলতানের সম্বন্ধে, সেগুলোও সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছি আমরা।"

সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সময়ের অপেক্ষা, সেটাও উল্লেখ করেছেন ইয়েদুরাপ্পা। বিজেপির এক নেতা এর আগে দাবি করেছিলেন যে টিপু সুলতানকে যেভাবে গৌরবান্বিত করা হয় স্কুলের পাঠ্য বইগুলিতে, তা বন্ধ করা উচিত। টিপু সুলতান হিন্দুদের ওপরে প্রচুর অত্যাচা'র করতেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন কোডাগু জেলা থেকে নির্বাচিত বিধানসভা সদস্য বিজেপির এ. রঞ্জন।

টিপু সুলতানের ওপরে বহুদিন ধরে গবেষণা করেছেন মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান যোসেফ। তিনি বলেন টিপু সুলতানকে ভারতীয় ইতিহাসের একজন 'খল'নায়ক' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বর্তমানে 'নলওয়াঢি কৃষ্ণারাজা ওয়াদিয়ার চেয়ার'-এর ভিসিটিং প্রফেসর যোসেফ বলেন, টিপু সুলতানকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে, সেগুলো রাজনৈতিক কথাবার্তা। টিপু সুলতানকে একজন খলনায়ক করে তোলার এই প্রচেষ্টাটা কয়েক বছর ধরেই শুরু হয়েছে।

এই প্রথম নয়, এর আগেও কর্নাটকে সরকারিভাবে যে টিপু জয়ন্তী পালিত হত, তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিজেপির আমলে। বিজেপি এবং হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস মনে করে টিপু সুলতান কুর্গ, মালাবার সহ নানা এলাকায় কয়েক লক্ষ হিন্দুকে মে'রে ফেলেছিলেন এবং ব'লপূ'র্বক ধ'র্মান্ত'রিত করেছিলেন।

আরএসএসের মতাদর্শে বিশ্বাস করে, এমন একটি সংগঠন, ইতিহাস সংকলন সমিতির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ইতিহাসের অধ্যাপক রবিরঞ্জন সেন বলছিলেন, তার মতে, বাস্তবে যা যা করেছেন টিপু সুলতান-সবটাই থাকা উচিত। তিনি বলেন, ''তিনি যেমন ধর্মীয় নি'পী'ড়ন চালিয়েছেন তেমনই ব'লপূ'র্বক ধ'র্মান্ত'করণও করিয়েছেন। এগুলো ঐতিহাসিক সত্য।''

রবিরঞ্জন সেন বলেন, ''আমাদের মতে তার যদি কিছু অবদান থেকে থাকে সেগুলোর সঙ্গেই নেতিবাচক দিকগুলোও থাকা দরকার।'' তার মতে, অনেক সময়েই পাঠ্য পুস্তকে একপেশে, একধরণের ইতিহাস লেখা হয়ে এসেছে। কিন্তু তার জীবন আর শাসনামলের দুটি দিকই তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

টিপু সুলতান যে হিন্দুদের ওপরে নি'পী'ড়ন চালিয়েছিলেন বা লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে মে'রে ফেলেছিলেন বলে আর এসএস যা দাবী করে, তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন অধ্যাপক যোসেফ। তিনি বলেন, "টিপু সুলতানকে নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, তাতে এরকম তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না যে তিনি নির্দিষ্টভাবে হিন্দুদের ওপরেই অত্যাচার করেছিলেন।''

যোসেফ বলেন, ''কুর্গ বা মালাবার উপকূলে যু'দ্ধ নি:সন্দেহে হয়েছিল সেখানকার হিন্দু শাসকদের সঙ্গে। এবং সেই যু'দ্ধে অনেক হিন্দুর যে প্রা'ণ গিয়েছিল, সেটা অস্বীকার করা যাবে না - কিন্তু সেটাকে একটা ধর্মীয় অত্যাচার বলা ভুল।''

তিনি বলেন, মহাভারতের কাহিনিতে তো যারা নিহ'ত হয়েছিলেন, তারাও হিন্দুই ছিলেন। আবার মারাঠারা যখন মহীশূর দখল করতে এসেছিল, তখন তারা অতি পবিত্র হিন্দু তীর্থ শৃঙ্গেরি মঠ ধ্বংস করে দিয়েছিল-এমনকী বিগ্রহটিও ধ্বং'স করে দেয় তারা। শৃঙ্গেরি মঠ পুণর্নিমানে অর্থ দিয়েছিলেন টিপু সুলতান। এগুলোকে তো ধর্মীয় নি'পী'ড়ন বলা যায় না।"

টিপু সুলতান যখন ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে যেতেন, রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে শাসন চালাতেন একজন হিন্দু - পুন্নাইয়া। আবার মালাবার দ'খল করার সময়েও টিপুর সেনাপতি ছিলেন শ্রীনিবাস রাও - তিনিও হিন্দু।

অধ্যাপক যোসেফের যুক্তি, "টিপুর পরেই যার হাতে সব ক্ষমতা, সেই পুন্নাইয়া, কুর্গে হিন্দুদের ওপরে অ'ত্যা'চার করতে দিয়েছেন, এটা কি যুক্তিগ্রাহ্য বা হিন্দু হয়েও শ্রীনিবাস রাও মালাবারে হিন্দুদের ধ'র্মান্ত'করণ করানোতে ম'দ'ত দিয়েছিলেন - সেটা কি মেনে নেওয়া যায়?"

টিপু সুলতান ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হওয়ার পরে তার ১২জন পুত্র এবং পরিবার পরিজন সবাইকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেয় ব্রিটিশ সরকার। সেই থেকে কলকাতাতেই টিপুর পরিবারের বসবাস। শহরের সবথেকে পরিচিত মসজিদ 'টিপু সুলতান মসজিদ' যেমন এই কলকাতাতেই, তেমনই তার পুত্র আনোয়ার শাহ এবং পরিবারের আরও কয়েকজনের নামে রয়েছে শহরের বড় বড় কয়েকটি রাস্তার নাম। বিবিসি

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: