IQNA

20:33 - January 14, 2021
সংবাদ: 2612105
তেহরান (ইকনা): মিয়ানমারের জাতিগত সংঘাত নিরসনে দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সোমবার (১১ জানুয়ারি) নেইপিদোতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সূচির সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণের আগে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন চায় চীন। 
এজন্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেইজিং দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বুঝে নিচ্ছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার আগে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বেইজিং। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার সফর করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই এবং ফিলিপিন্স সফরেরও কথা রয়েছে তার।
 
দায়িত্ব নিয়ে জো বাইডেন মানবাধিকার এবং অন্যান্য ইস্যুতে চীনের ওপর চাপ তৈরি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াংয়ের সফরকে সে চাপ মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব আরও বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার মুখে নেইপিদো। 
 
২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হামলায় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমারের বিভিন্ন রাজ্যে সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত চলছে। ওয়াং বলেন, মিয়ানমারের জাতিগত সংঘাত নিরসনে চীন সাধ্য অনুযায়ী পাশে থাকবে।
 
চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ান, তিব্বত এবং জিনজিয়ানসহ অন্যান্য ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট। মিয়ানমারকে তিন লাখ ডোজ করোনা টিকা দেওয়া হবে বলেও জানান ওয়াং।
 
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার-বিল্ডিং ইনেশিয়েটিভে বিনিয়োগের বিষয়েও দু'পক্ষ আলোচনা করেছে। ওয়াংয়ের সফরের আগে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় এবং ভারত মহাসাগরের বন্দর নগরী কিউকফিউয়ের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করে বেইজিং-নেইপিদো।
 
কিউকফিউয়ে বৃহত্তর পরিসরে বন্দর নির্মাণে সম্পৃক্ত চীন। বেইজিংয়ের পরিকল্পনা হলো চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বন্দরের রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা। শনিবার দেশে ফেরার কথা ওয়াংয়ের। তার আগে ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই এবং ফিলিপিন্স সফরে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি, অর্থনীতি এবং ভ্যাকসিন সহায়তা বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: mtnews24
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: