IQNA

বিশ্বনবী (সা)’র রেসালাত মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লব
5:13 - March 11, 2021
সংবাদ: 2612436
তেহরান (ইকনা): পবিত্র শবে মে’রাজ ও মহানবীর (সাঃ)’র রিসালাত প্রাপ্তির দিবস উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং বিশ্বনবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের শানে পেশ করছি অশেষ দরুদ ও সালাম। ।
গভীর আঁধার কেটে ভেসে ওঠে আলোকের গোলক,/সমস্ত পৃথিবী যেন গায়ে মাখে জ্যোতির পরাগ; /তাঁর পদপ্রান্তে লেগে নড়ে ওঠে কালের দোলক/বিশ্বাসে নরম হয় আমাদের বিশাল ভূভাগ।/হেরার বিনীত মুখে বেহেস্তের বিচ্ছুরিত স্বেদ/শান্তির সোহাগ যেন তাঁর সেই ললিত আহ্বান/তারই করাঘাতে ভাঙ্গে জীবিকার কুটিল প্রভেদ/দুঃখীর সমাজ যেন হয়ে যাবে ফুলের বাগান।/
 
লাত-মানাতের বুকে বিদ্ধ হয় দারুণ শায়ক/যে সব পাষাণ ছিল গঞ্জনার গৌরবে পাথর/একে একে ধ্বসে পড়ে ছলনার নকল নায়ক/পাথর চৌচির করে ভেসে আসে ঈমানের স্বর।/লাঞ্ছিতের আসমানে তিনি যেন সোনালী ঈগল/ডানার আওয়াজে তাঁর কেপে ওঠে বন্দীর দুয়ার;/ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় জাহেলের সামান্য শিকল/আদিগন্ত ভেদ করে চলে সেই আলোর জোয়ার। ...../মোহাম্মাদ- এ নামেই বাতাস বয়,/মোহাম্মাদ- এ শব্দে জুড়ায় দেহ/মোহাম্মাদ- এ প্রেমেই আল্লা খুশী/দোযখ বুঝিবা নিভে যায় এই নামে।/ঐ নামে কত নিপীড়িত তোলে মাথা/কত মাথা দেয় শহীদেরা নির্ভয়ে, /রক্তের সীমা, বর্ণের সীমা ভেঙ্গে/মানুষেরা হয় সীমাহীন ইয়াসীন।/এই নামে ফোটে হৃদয়ে গোলাপ কলি/যেন অদৃশ্য গন্ধে মাতাল মন,
 
যেন ঘনঘোর আঁধারে আলোর কলি/অকুল পাথারে আল্লার আয়োজন। -আল মাহমুদ
 
২৭ রজব মহান আল্লাহর প্রিয়তম হাবিব রাসুলে পাকের রিসালাত লাভের বার্ষিকী। অনেকের মতে ২৭ রজব মহানবী (সা.) ঊর্ধ্বলোকে আধ্যাত্মিক সফর বা মে’রাজে গিয়ে ছিলেন। অনেক আলেম মনে করেন মহানবীর মে'রাজ হয়েছিল বেশ কয়েকবার, আর ২৭ রজব হচ্ছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:)’র নবুওত ও রিসালাত প্রাপ্তির দিবস এবং এ দিনেই পবিত্র কুরআন সামগ্রিকভাবে রাসূলে পাকের কাছে নাজেল হয়েছিল। অবশ্য ধাপে ধাপে তা প্রথম নাজিল হয়েছিল রমজান মাসের ক্বদরের রাতে। 
 
পৃথিবী যখন অজ্ঞতা, নৈরাজ্য, হানাহানি, কুসংস্কার ও মানবতাহীনতার ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত তখন মহান আল্লাহ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে মানবজাতির সর্বশেষ রাসূল ও নবী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল মানব জাতিকে মুক্তির আলোকিত পথে এনে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পূর্ণতা দান করা। সূরা আলে ইমরানের ১৬৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্বাসীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাসূল হিসেবে মনোনীত করেন যিনি তাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশাবলী পাঠ করেন, তাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করেন সব ধরনের অজ্ঞতাও বর্বরতার কলুষতা থেকে, তাদেরকে ধর্মের বিধান ও জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেন, যদিও এর আগে তারা ছিল অজ্ঞানতা ও বিপথগামিতার অন্ধকারে নিমজ্জিত।'
 
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)’র নবুওত প্রাপ্তি সম্পর্কে খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা জাহরা (সাঃ) বলেছেন, মহান প্রতিপালক মুহাম্মাদ (সাঃ)কে মনোনীত করেছিলেন যাতে আল্লাহর নিজের কর্তব্য পরিপূর্ণ হয় এবং তিনি মানবজাতির জন্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তা যেন সম্পন্ন হয়। মহান আল্লাহ মানুষের মধ্যে বিরাজমান  অজ্ঞতা ও কু-প্রথার মহাআঁধার মুহাম্মাদের আলোর মাধ্যমে দূর করেন।
 
মহান আল্লাহ বলেছেন,"আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর রহমতের তরে দরুদ পাঠাও এবং তাঁর প্রতি যথাযথ সালাম পাঠাও তথা  পুরোপুরি তাঁর অনুগত হও।"
 
ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মাদ (সা) ছিলেন মহান আল্লাহর সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। সব নবী-রাসুলেরও নেতা তিনি। মহানবীর (সা) আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন প্রত্যেক নবী। পবিত্র কুরআন বলে, মহানবীকে পাঠানো হয়েছে পুরো মানবজাতির জন্য। সুরা তওবায় মহান আল্লাহ বলেছেন, তিনিই পাঠিয়েছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য-ধর্ম সহকারে, যেন এ ধর্মকে অন্যান্য ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন,যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
 
নিঃসন্দেহে ইসলাম ধর্ম সর্বজনীন ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং মহানবীর রিসালাত কোনো অঞ্চল, সময় ও ভাষা, বর্ণ আর গোত্রের গণ্ডীতে সীমিত নয়। কুরআন আরও বলে,মহানবীকে (সা) গোটা মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি।- আল্লাহর সবচেয়ে বড় রহমত হলেন বিশ্বনবী (সা)। তাই তাঁকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ কিছুই সৃষ্টি করতেন না।
 
মহানবী (সা) মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ও সর্বোত্তম আদর্শ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে শ্রেষ্ঠ আদর্শ। বিশ্বস্ততা ও সততার জন্য শত্রুরাও তাঁকে বলত আল-আমিন!
 
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) ছিলেন মহান আল্লাহর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল। মহান আল্লাহ মহানবীর নবুওতের শুরুতেই তাঁর শ্রেষ্ঠ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে তুমি অতি মহান চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত।’ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে মুমিনদের প্রতি তাঁর ভালবাসার তীব্রতাকে এভাবে তুলে ধরেছেন মহান আল্লাহ, ‘তোমাদের দুর্ভোগ তাঁর পক্ষে দুর্বিষহ। সে তোমাদের কল্যাণের অভিলাষী, বিশ্বাসীদের প্রতি অতিশয় দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু।’ মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দাহ হতে চাইলে পবিত্র কুরআনের এ উপদেশটি হৃদয়ে গেঁথে নেয়া উচিত যাতে বলা হয়েছে,  ‘ তারা যদি আল্লাহকে ভালবাসে তাহলে তারা যেন আল্লাহর শেষ রাসুলের অনুসরণ করে যাতে আল্লাহও তাদের ভালবাসেন।’
 
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)’র আবির্ভাব গোটা মানব জাতির জন্যে আল্লাহর নিজস্ব রহমত বা  বিশেষ অনুগ্রহ। তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে। তিনি মানুষকে শেখালেন প্রকৃত সাম্য, ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব এবং  প্রকৃত স্রষ্টার ইবাদত। তাঁর প্রচারিত ধর্মের শিক্ষা বিশ্ব সভ্যতাকে এতো বেশী সমৃদ্ধ করেছে যে এর আগে সভ্যতা কখনও এতো সমৃদ্ধ ও উন্নত হয় নি। তাই অনেক অমুসলিম চিন্তাবিদ ও মনীষীও রাসূলে পাক (সাঃ)কে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও মানবজাতির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব সৃষ্টিকারী বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। প্রখ্যাত ভারতীয় লেখিকা সরোজিনী নাইডু  বিশ্বনবীর (সাঃ) আদর্শ তথা ইসলাম সম্পর্কে দ্যা আইডিয়ালস অব ইসলাম গ্রন্থে লিখেছেন, ন্যায়বিচারবোধ ইসলামের এক অনুপম আদর্শ। যখনই আমি কুরআন অধ্যয়ন করেছি তখন প্রত্যক্ষ করেছি জীবন সম্পর্কিত সমস্ত গতিশীল নীতিকথা যা ভাববাদী অর্থে নয় বরং বাস্তব অর্থেই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার পথ-নির্দেশনা।
 
বিশ্বনবী (সাঃ) মানুষের কাছে যে ধর্ম প্রচার করেছেন সে সম্পর্কে এ. জে. টয়েনবি লিখেছেন, মুসলমানদের মধ্যে সংকীর্ণ জাতি বা গোত্রীয় চেতনার পরিপূর্ণ বিলোপ সাধন ইসলামের এক অবিসম্বাদী সাফল্য। বর্তমান বিশ্বকে গোষ্ঠী-প্রীতির অভিশাপ থেকে বাঁচানোর জন্যে ইসলামের প্রচার অত্যন্ত জরুরী।
 
জর্জ বার্ণার্ড শ বিশ্বনবী (সা.’র অবদান ও আদর্শ সম্পর্কে 'দ্যা জেনুয়িন ইসলাম' গ্রন্থে লিখেছেন, 'মুহাম্মাদ (সা.)কে যতটুকু আমি জেনেছি তাতে অকুন্ঠচিত্তে বলতে পারি,তিনি সমগ্র মানবজাতির ত্রাণকর্তা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি,বর্তমান সময়ে যদি তাঁর মতো মহান ব্যক্তি পৃথিবী পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতেন তবে তিনি মানব জাতির সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারতেন, আজকের দিনে যার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী।'
 
পবিত্র কুরআনের ভাষায় জীবনে চলার পথ, মত ও স্বভাব বা আচরণের দিক থেকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) ছিলেন শ্রেষ্ঠ আদর্শ বা উসওয়াতুন হাসানাহ। জীবনের সব ক্ষেত্রে এবং কখন কোথায় কী করতে হবে তা জানার শ্রেষ্ঠ উৎস হলেন মহানবী (সা)। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আইনি ও রাষ্ট্রীয় জীবনসহ জীবনের সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। কথায় ও কাজে সবক্ষেত্রে বিশ্বনবী (সা)-কে অনুসরণ করাই হবে একজন প্রকৃত মুসলমানের জন্য ঈমানের দাবি। তা না হলে আল্লাহর সর্বশেষ রাসুলের রেসালতের প্রতি বিশ্বাস রাখার দাবি করাটা হবে প্রতারণা মাত্র। অন্য কথায়  মহানবীর অনুসারী বা মুসলমান হওয়ার দাবি করলে জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রিয় নবীজীকে শ্রেষ্ঠ আদর্শ বলে মানতে হবে।
 
কেউ যদি মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দাহ হতে চান তাহলে তাঁর জন্য পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত মহান আল্লাহর যে পরামর্শটি হৃদয়ে গেঁথে নেয়া উচিত তা হল: ‘হে রাসুল! আপনি তাদের বলুন, যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার তথা আল্লাহর শেষ রাসুলের অনুসরণ কর যাতে আল্লাহও তোমাদের ভালবাসেন।’
 
মহানবী (সা) তৎকালীন আরব সমাজের বেশিরভাগ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন তার সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ চরিত্র আর ক্ষমা-সুন্দর ব্যবহার দিয়ে। মহানবী (সা) চেয়েছিলেন তাঁর আশপাশের সব মানুষকে তাঁরই আদর্শের ধারায় শ্রেষ্ঠ বা পূর্ণাঙ্গ মহামানব হিসেবে গড়ে তুলতে। কিন্তু সবাই তাঁর দাওয়াতকে গ্রহণ করেনি। অনেকেই মুশরিক ও কাফিরই থেকে গেছেন। কেউ কেউ নামে মুসলমান হলেও বাস্তবে  ছিলেন মুনাফিক। কিন্তু বিশ্বনবীর আহলে বাইতের সদস্যরা ছিলেন তাঁরই কাছাকাছি পর্যায়ের আদর্শ মহামানব যাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে পবিত্র কুরআনেই।
 
 
তাই মহানবীর (সা) আদর্শ ও পবিত্র কুরআনকে ভালোভাবে বুঝতে হলে জানতে হবে পবিত্র আহলে বাইতের জীবন-ধারাকে। জানতে হবে কিভাবে মুসলমানদের মধ্যে প্রবেশ করেছিল নানা বিচ্যুতি, অনাচার, জুলুম ও ইয়াজিদি স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র প্রভৃতি। বিশ্বনবীর আহলে বাইতের আদর্শকে ছেড়ে দেয়ার কারণেই যে মুসলমানদের মধ্যে নানা বিভক্তি এবং অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছিল তাও বোঝা সম্ভব হবে ইসলামের ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে।
 
বিশ্বনবী (সা)’র রেসালাত মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লব। সেই মহান বিপ্লবের ধারাবাহিকতা ও সাফল্য ধরে রাখাটা ছিল মুসলমানদের দায়িত্ব। ইসলাম এ জন্যই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জ্ঞান অর্জনকে ফরজ বলে ঘোষণা করেছে।
 
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র) বলেছেন, ‘রাসুলে খোদার রিসালাতের বার্ষিকীর চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আর কোনও দিবস নেই। কারণ,এর চেয়ে বড় কোনও ঘটনা আর ঘটেনি। অন্যান্য নবী-রাসুলের নিযুক্তির চেয়েও এ ঘটনা অনেক বেশি বড়। এর চেয়ে বড় কোনও ঘটনা থাকার বিষয় কল্পনাও করা যায় না। এমন দিনে জনগণকে জুলুম থেকে মুক্তির উপায় বোঝাতে হবে জোরালোভাবে যাতে তারা বড় বড় জালিম শক্তিগুলোকে মোকাবেলা করতে পারে। জনগণ যে এটা করতে পারবে তা তাদেরকে বোঝাতে হবে। '
 
 
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বিশ্বনবী (সা)’র রিসালাত লাভ প্রসঙ্গে বলেছেন, মানবজাতির ইতিহাসের এই মহান মিশনের লক্ষ্য হল মানুষকে মুক্তি দেয়া এবং তাদের আত্মা ও চরিত্রকে পরিশুদ্ধ, মার্জিত ও অলঙ্কৃত করার পাশাপাশি সব যুগের মানুষকে সব সংকট আর সমস্যা থেকে মুক্ত করা-যেসব সমস্যা ও সংকটের বেড়াজালে আজও ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষ। তিনি আরও বলেছেন,
 
‘মহানবীর রিসালাতের লক্ষ্য ছিল মানুষের মুক্তি সাধন। ইসলাম ও মহানবীর (সা) পক্ষ থেকে মানুষের জন্য রোগমুক্তির যে প্রেসক্রিপশন রয়ে গেছে তা সব যুগে মানুষকে মুক্ত করে অজ্ঞতা থেকে। এই নির্দেশিকা দিয়ে মোকাবেলা করা যায় জুলুম, বৈষম্য, দুর্বলের ওপর সবলের শোষণ এবং অন্য সব যন্ত্রণা যার শিকার মানবজাতি সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত হয়েছে ও হচ্ছে। এই নির্দেশিকা যদি বাস্তবে মেনে চলা হয় তাহলেই সুফল আসবে।'
 
মহানবী বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও দুনিয়ার চাকচিক্যকে গুরুত্ব দেননি। তাই মাটিতে বসে খেতেন, ক্রীতদাসের মত বসতেন। নিজ হাতে চপ্পল সিলাই করতেন, কাপড়ে তালি দিতেন, জিন বা আসন-বিহীন গাধার ওপর আরোহণ করতেন এবং গাধার পিঠে যখন চড়তেন তখন তাঁর পেছনে অন্য  ব্যক্তিকেও বসাতেন। একবার তাঁর বাড়ীর দরজায় ছবিযুক্ত পর্দা দেখে তাঁর একজন স্ত্রীকে বলেছিলেন,’ পর্দাটি সরিয়ে ফেল। কারণ এদিকে তাকালে দুনিয়া ও এর চাকচিক্যের কথা স্মরণ হয়।‘ তিনি এভাবে অপছন্দনীয় বিষয় স্মরণ করতেও ঘৃণা বোধ করতেন।
 
অন্যদিকে মহানবী (সা) ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে রুচিশীল মানুষ। এমনিতেই তার গা থেকে সুগন্ধ বের হত।  তা সত্ত্বেও তিনি তার দৈনিক খরচের বেশিরভাগই ব্যয় করতেন সুগন্ধি ব্যবহারে। তিনি জীবনে কখনও অশুদ্ধ বা আঞ্চলিক অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলেননি।
 
মানুষের সঙ্গে চলা-ফেরা ও লেনদেনের ক্ষেত্রে মহানবী কঠোর ও রুক্ষ ছিলেন না। বরং ছিলেন সর্বোচ্চ মাত্রায় মিশুক, খোলামেলা, হাসি-খুশি, কোমল, দয়ার্দ্র ও আন্তরিক। সবার চেয়ে বেশি শালীন-কৌতুক করতেন পরিবারের সদস্য ও সাহাবিদের সঙ্গে। তবে কখনও অট্টহাসি হাসতেন না। যদি কেউ মহানবীকে (সা) অসম্মান করত তিনি প্রতিশোধ নিতেন না। অন্যদের ভুল ও দুর্ব্যবহারকে ক্ষমা করতেন। তাদের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিপরীতে ক্ষমা, মহানুভবতা এবং বদান্যতা প্রকাশ করতেন। কুরাইশদের শত অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করেও তিনি মক্কা বিজয়ের পর তাদেরকে ক্ষমা করেছিলেন এবং মুক্তি দিয়েছিলেন। তবে কেউ ইসলামের সীমা অতিক্রম করলে কঠোর হতেন। তাই উচ্চ বংশের নারী “ফাতিমা মাখযুমী” চুরি করায় তার শাস্তি মাফের সুপারিশে কান দেননি। তিনি বললেন :  পূর্ববর্তী গোষ্ঠীগুলো ধ্বংস ও বিলুপ্ত হয়েছিল সমাজের উচ্চ শ্রেণীর লোকদের ওপর খোদায়ি আইন জারি করত না বলে। আল্লাহর শপথ! যদি আমার কন্যা “ফাতিমাও” এই কাজ করত আমি তার হাত কেটে ফেলতাম।
 
মানবীয় মর্যাদা, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়ে মহানবী উপহার দিয়েছেন বাস্তব দৃষ্টান্তসহ সর্বোত্তম বক্তব্য। মানবজাতির সবচেয়ে বড় শিক্ষক ও চিকিৎসক মহানবী জানতেন কোন্ কোন্ আধ্যাত্মিক ও মানবীয় রোগের জন্য কোন্ ওষুধ দিতে হবে। বিপদ ও যুদ্ধে ছিলেন তিনি সর্বোচ্চ সাহসী ও ধৈর্যশীল। চরম সংকটেও নীতির প্রশ্নে ও লক্ষ্য অর্জনে থাকতেন পাহাড়ের মত অবিচল। পার্সটুডে
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: