IQNA

সরকারি ব্যাখ্যার পরও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বিস্ময়

0:05 - May 25, 2021
সংবাদ: 2612846
সরকারি ব্যাখ্যার পরও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বিস্ময়
তেহরান (ইকনা): ইলেকট্রনিক পাসপোর্টে (ই-পাসপোর্টে) ইসরায়েলের বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও ঢাকায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। আর এতে রীতিমত বিস্মিত হয়েছেন সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

ফিলিস্তিনের প্রতিবেশি আরব দেশগুলো যখন ইসরায়েলি বর্বরতা নিয়ে কার্যত নিরব বা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে তখনও বাংলাদেশ একচ্ছত্রভাবে ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিচ্ছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে আরব দেশগুলোর চেয়েও অনেক সরব ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ। তারপরও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ই-পাসপোর্ট নিয়ে গণমাধ্যমে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তা সবার নজর কেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার গত রবিবার ই-পাসপোর্ট ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশি ই-পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে গিয়ে ‘ইসরায়েল ছাড়া সব দেশে বৈধ’ লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বাংলাদেশের নীতিগত কোনো পরিবর্তনের প্রতিফলন নয়।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইসরায়েলে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা অপরিবর্তিত থাকছে। বাংলাদেশ সরকার ইসরায়েল বিষয়ে তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়নি। বরং এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত জোরাল অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত যেভাবে ই-পাসপোর্টে পরিবর্তনকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে দিলেন তা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

এদিকে ফিলিস্তিনের জন্য অনুদান ও সহায়তা নিচ্ছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস। সশরীরে দূতাবাসে গিয়ে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দূতাবাস কর্মকর্তাদের বিকাশ, রকেটসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ আছে বলে দূতাবাসের ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। পরে অবশ্য দূতাবাস বিকাশ, রকেট, ইউপেতে কয়েকটি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলেছে। বিষয়টি ঢাকায় অন্য দূতাবাসগুলোরও নজরে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ফিলিস্তিনকে সহযোগিতার জন্য দূতাবাসে গিয়ে সশরীরে বা অন্যান্য মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথা বললেও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এই অর্থ কী কবে ফিলিস্তিনে পৌঁছাবে বা আদৌ পৌঁছাবে কি না। আবার অনেকে এভাবে টাকা সংগ্রহ ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।

তবে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইসরায়েলের বাধা পেরিয়ে এই সহায়তা ফিলিস্তিনে পৌঁছাতে চার মাস সময় লাগতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই অর্থ কাজে লাগবে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর নির্মাণ ও হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায়।

captcha