IQNA

ফার্সী নববর্ষ উপলক্ষে মহামান্য নেতার বানী;

১৩৯৪ সাল 'সরকার ও জাতি, সহমর্মিতা ও একই সুর'/ সরকার ও জনগণের সহযোগিতায় মহান প্রত্যাশা অর্জন

18:05 - March 21, 2015
সংবাদ: 3019892
আন্তর্জাতিক বিভাগ: ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহামান্য নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ফার্সী নববর্ষ উপলক্ষে সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন বছরকে 'সরকার ও জাতি, সহমর্মিতা ও একই সুর' নামকরণ করেছেন।

বার্তা সংস্থা ইকনা: ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহামান্য নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ফার্সী নববর্ষ উপলক্ষে সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন বছরকে 'সরকার ও জাতি, সহমর্মিতা ও একই সুর' নামকরণ করেছেন।
হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ফার্সীর নতুন বছর তথা ১৩৯৪ সালের শুরুতেই নবী নন্দিনী হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)এর পবিত্র শাহাদাত বার্ষিকী প্রতিসাম্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: আমাদের জনতার মধ্যে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর পরিবার এবং তাঁর কন্যার প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং নিঃসন্দেহে জনগণের নিষ্ঠাবান থাকবে। আশা করছি হযরত ফাতিমা (সা. আ.)এর প্রতি দোয়া করে নতুন বছর শুরু করবে এবং আমাদের জনার মধ্যে তার স্মরণ, গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করবে।
তিনি ১৩৯৩ সালকে সরকার ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন: ১৩৯৪ সালের শ্লোগান তথা ‘সরকার ও জাতি, সহমর্মিতা ও একই সুর’ বাস্তবায়ন করার জন্য দু পক্ষ অর্থাৎ সাহসী, বৃহৎ, জ্ঞানী, প্রিয় জনতা এবং ইরানের প্রচেষ্টা ও তার সাথে সেবক সরকারের পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আন্তরিকভাবে সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী নতুন বছরে জনগণের উচ্চাঙ্খার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: আমি নতুন বছরে আমাদের জনগণের নিকট ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতি’, ‘আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে শক্তিমাত্রা ও মর্যাদা’, ‘প্রকৃত অর্থে বৈজ্ঞানিক সাফল্য’, ‘বিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার’ এবং ‘সর্বোপরি ঈমান ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে’র আশা করছি। অবশ্য এগুলো সবই অর্জন করা সম্ভব এবং এগুলো ক্ষমতাবান জনতা ও রাজনৈতিক সিস্টেমের বাহিরে নয়।
ইসলামী বিপ্লবের মহামান্য নেতা আরও বলেন: এ বৃহত্ত প্রত্যাশা সমূহ সাফল্যের শর্ত হিসেবে, সরকার ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি এবং আন্তরিক সম্পর্ক গঠন করতে হবে। এব্যাপারে তিনি বলেন: সরকার, জনগণের সেবক এবং কাজের জন্য জাতি সরকারকে নির্দেশ দেবে, যত বেশী সরকার ও জনতার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি হবে ততবেশী উন্নতি সাধন হবে। সুতরাং অবশ্যই সরকার জনগণকে গ্রহণ করবে এবং জনগণেরও সরকার শব্দের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
এছাড়াও মহামান্য নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ১৩৯৩ সালের নামকরণ সম্পর্কে বলেন: ‘জাতীয় প্রতিশ্রুতি ও যুদ্ধের পরিচালনা’ একই উদ্দেশ্য গত বছরের নামকরণ করা হয়েছে এবং আমাদের জনগণ ২২শে বাহমানের মিছিল, কুদস দিবস এবং আরবায়িন উপলক্ষে বৃহৎ মিছিলের মাধ্যমে উক্ত প্রতিশ্রুতি পালন করেছে।
আজকে (২১শে মার্চে) ইরানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পবিত্র নগরী মাশহাদে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম রেজা (আ.)'র পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে এক বিশাল জনসমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, নওরোজ মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব জোরদারের উপলক্ষ এবং তা সব মুসলমানেরই উৎসব। ইরানি জাতি এই উৎসবকে ইসলামী মূল্যবোধগুলো জোরদারের কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করায় ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোর সঙ্গে এর কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
3014817

captcha