
বার্তা সংস্থা ইকনা: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমেরিকাকে ইরানের ভেতরে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে না। রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত মুসলিম রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন ইউনিয়নের ৮ম সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের দেয়া সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেছেন। বিশ্ব আহলুল বাইয়াতের ৬ষ্ঠ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়া অতিথিরাও এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, পরমাণু আলোচনার বিপরীত পক্ষ চেয়েছিল তেহরানের সঙ্গে এমন একটা চুক্তি করতে যাতে তারা ইরানে অনুপ্রবেশ করতে পারে। কিন্তু ইরান তা করে নি এবং ভবিষ্যতেও তাদের লক্ষ্য অর্জিত হতে দেবে না। তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে তাদের পথ বন্ধ করে দেব। আমরা ইরানের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমেরিকাকে হস্তক্ষেপ করতে দেব না। আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে তাদের অনুপ্রবেশ রুখে দেব।”
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, “আমাদের উচিত হবে প্রথমে শত্রুদের উদ্দেশ্য চিহ্নিত করা পরে পরিকল্পনা মতো তা প্রতিহত করা।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ঘটনাবলী সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমেরিকা এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ওয়াশিংটনের এ নীতি প্রতিহত করবে। সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেন, “ইরাক ও সিরিয়াকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে চায় আমেরিকা কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতার কাছে তাদের পরিকল্পনা নস্যাত হবে।” ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটির জন্য যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর প্রতি সমর্থনের কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, এ অঞ্চলে যারাই ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তাদেরকেই ইরান সর্বাত্মক সমর্থন দেবে।
বিভাজন ও অনুপ্রবেশের মাধ্যমে শত্রুরা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চায় -এ কথা উল্লেখ সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বলদর্পী শক্তিগুলো এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চাইছে যা সরকারগুলোর ভেতরে মতপার্থক্য থাকার চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। তিনি বলেন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনে এবং অন্য দেশগুলোতে যে যুদ্ধ চলছে তা কোনো ধর্মীয় যুদ্ধ নয় বরং রাজনৈতিক যুদ্ধ। এ অবস্থার পরও ইরান আঞ্চলিক সব মুসলিম দেশের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মুসলিম কোনো সরকারের সঙ্গে ইরানের কাজ করতে কোনো সমস্যা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিভক্তির কথা তিনি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সুন্নি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে অপমান করার বিরুদ্ধে নিন্দা জানান। ইহুদিবাদী গণমধ্যমের ষড়যন্ত্রের বিপরীতে মুসলিম নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা জোরদার করার আহ্বান সর্বোচ্চ নেতা।