IQNA

নতুন করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টির ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে

6:05 - August 09, 2021
সংবাদ: 3470471
নতুন করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টির ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে
তেহরান (ইকনা): লেবাননের বিরুদ্ধে দখলদার ইসরাইলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, এই অপশক্তি তিনটি অঙ্গনে অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির পায়তারা করছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে দুর্বল করাই তার মূল লক্ষ্য।

ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী বেনি গান্তেয দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য তারা পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৫ বছর পর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়ে তাদের শক্তি পরীক্ষার চেষ্টা চালিয়েছে ইসরাইল। অন্যদিকে, ওমান সাগরে সম্প্রতি জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানের হাত থাকার দাবি করে ইসরাইল ও তাদের সমর্থক পাশ্চাত্যের দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক মনস্তাত্বিক প্রচার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এ অবস্থায় এ অঞ্চলের প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে ইসরাইল কি উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় সেটাই এখন প্রশ্ন।

ধারণা করা হচ্ছে ইসরাইল ও তার সমর্থকদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইরানের নতুন সরকারকে প্রভাবিত করা। গত বৃহস্পতিবার ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রাইসি প্রথম থেকেই বলে আসছেন, এ অঞ্চলে ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আগ্রাসন মোকাবেলায় তিনি কঠোর হবেন। এ অবস্থায় ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতির কথা বলে কিংবা মনস্তাত্বিক প্রচার চালিয়ে ইরানের নতুন সরকারের অভ্যন্তরীণ নানা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বানচাল করা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর হাত আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এভাবে ইসরাইল ও তার মিত্ররা ইরানের নতুন সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

তাদের মতে ইসরাইলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা। ইরানের নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত এ সংক্রান্ত আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। বর্তমানে ইসরাইল নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং তাদের মিত্র পাশ্চাত্যও মিথ্যা প্রচার চালিয়ে বিরাজমান সংকট সমাধানে বল এখন ইরানের কোটে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে।

এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে ইসরাইলের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিজের সরকারের অবস্থানকে পাকাপোক্ত করা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংকট সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত ছিলেন। ইসরাইলের বর্তমান সরকারের ভিত্তি এখনো দুর্বল এবং তাদের নেতানিয়াহু ভীতি কাটেনি। এ অবস্থায় ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নানা কৌশলে তার মন্ত্রিসভাকে নেতানিয়াহুর চাইতে শক্তিশালী প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যাতে দেশটির অভ্যন্তরে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করা যায়।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ইসরাইল এখনো গাজার সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি এবং তারা অত্যন্ত অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তারা নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে চায়। যদিও এতে করে তাদের দুর্বলতা আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরাইল লেবাননে বোমা বর্ষণ করেছে ঠিকই কিন্তু লেবাননের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছে এবং হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত হেনেছে। মোট কথা ইসরাইল যতই হম্বিতম্বি দেখাক না কেন তারা বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। পার্সটুডে

captcha