IQNA

17:46 - October 16, 2021
সংবাদ: 3470826
তেহরান (ইকনা): জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী  ভয়ঙ্কর খড়া , প্রচণ্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধি , দীর্ঘ মেয়াদি গ্রীষ্মকাল , দাবানল , অনিয়মিত ( অসময় ও অল্প সময়ের মধ্যে ) অতি ভারী বৃষ্টিপাত , প্রলয়ংকারী বন্যা , শীতকালে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ ও হাড়কাঁপানো শীত এবং এর ফলে ফসলহানি , দুর্ভিক্ষ , খাদ্যাভাব ও রোগ - ব্যাধি দেখা দেবে এবং এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিশ্বব্যাপী শত শত কোটি কোটি  মানুষের যে মৃত্যু হবে তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার চেয়েও যে ঢেড় অনেক ও বহুগুণ বেশী হবে তা কল্পনাই করা যায় না !!

স্মর্তব্য যে এ বছরের ( ২০২১ ) গ্রীষ্মকাল  স্মরণাতীত কালের ইতিহাসে ছিল সবচেয়ে উষ্ণ ও গরম গ্রীষ্মকাল । আর এ বছর ও এর আগের বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা , অস্ট্রেলিয়া , উত্তর ইউরোপ ও সাইবেরিয়ায় এত প্রচণ্ড গরম পড়েছে যে এ বছরের গ্রীষ্মকালেই শীতপ্রধান দেশ কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের তাপমাত্রা ৫০°সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল ! গত কয়েক বছর ধরে উত্তর ইউরোপেও তাপমাত্রা  ৪০° ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে গ্রীষ্মকালে ! জাপান সহ প্রায়  সবকটি শিল্পোন্নত দেশে গ্রীষ্মকালে ৩৫°- ৪০ ° ডিগ্রী সেলসিয়াস রেঞ্জের উর্ধ্বে তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরেই ।

বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে এ চরম ভাবাপন্ন বৈরী প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে পাশ্চাত্যের দানবীয় বস্তুবাদী স্বার্থপর যান্ত্রিক শিল্প সভ্যতা ও ভোগবাদী সংস্কৃতি । প্রয়োজনের বেশি ও

মাত্রাতিরিক্ত পণ্য ( শিল্প ও কৃষি পণ্য ) উৎপাদন বিশ্বের প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ ও এর ধ্বংস সাধন করছে । অবস্থার এতটাই অবনতি হচ্ছে যে ( ভোগবাদ ও লোভ লালসার বশবর্তী হয়ে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করে যেভাবে প্রকৃতি ও পরিবেশের দূষণ ও ধ্বংস সাধন করছে ) অচিরেই গোটা মানব জাতি হয়তো পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বিলুপ্ত হয়ে যাবে । প্রখ্যাত প্রয়াত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিভেন হকিং এর মতে আগামী ১০০০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পৃথিবী থেকে মানব জাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে । এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন : " পারমাণবিক যুদ্ধ , কৃত্রিমভাবে তৈরি জেনিটিক্যাল ভাইরাস ( আর তা করোনা বা কোভিড ১৯ - এ ধরণের ভাইরাস হতে পারে বলে অনেকের ধারণা ) এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে । " তিনি আরও বলেছিলেন : " ভবিষ্যত আমরা চালকবিহীন গাড়ি সহ এমন একটা রোবট নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব দেখব , যেখানে আমাদের সন্তানেরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়বে ( দ্র : যুগান্তর , ১৭ - ১১ - ২০১৬ )"।

এই বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ও প্রধানত: শিল্পোন্নত দেশগুলো কর্তৃক লাগামহীন শিল্পায়ন এবং মাত্রাতিরিক্ত শিল্প পণ্য সামগ্রী ও কৃষিজ দ্রব্য ( ফসল ) উৎপাদনের অন্তিম পরিণতি ছাড়া আর কিছুই নয় ।

স্মর্তব্য যে আধুনিক জীব ও প্রাণীবিদ্যার ( Biology and zoology ) বিবর্তনবাদ ( Evolution ) অনুসারে বর্তমান মানব জাতির ( Homo sapiens ) উৎপত্তি হয়েছিল আনুমানিক ২০০,০০০ থেকে ৩০০,০০০ বছর আগে । কিন্তু এত দীর্ঘ লাখ লাখ বছর মানবজাতি টিকে রইল পৃথিবীর বুকে তথাকথিত শিল্প বিপ্লব ও উন্নত প্রযুক্তি ছাড়াই । অথচ অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে যে তথাকথিত প্রকৃতি বৈরী , পরিবেশ দূষণ ও বিনষ্টকারী সর্বনাশা শিল্প বিপ্লব সাধিত ও যে ( প্রকৃতি বৈরী ) প্রযুক্তির অগ্র ও জয়যাত্রা শুরু হল তা ৩০০ বছর পার হতে না হতেই সমগ্র পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশের ব্যাপক ও ভয়াবহ দূষণ ঘটিয়ে ও ধ্বংস সাধন করে এ পৃথিবীকেই উদ্ভিদ ও জীব জানোয়ারের জন্য বসবাসের অনুপযোগী ও অযোগ্য করে তুলছে এবং গোটা মানব জাতিকেই বিলুপ্তি ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে ।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন : মানুষের কৃতকর্মের জন্যই জলে - স্থলে ফাসাদ ( বিপর্যয় ) দেখা দিয়েছে যার ফলে তিনি ( মহান আল্লাহ ) তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করান  যাতে তারা ( মানব জাতি সুপথ অর্থাৎ সিরাতে মুস্তাকীমে ) ফিরে আসে । ( সূরা - ই রূম্ : ৪১ )

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ بِمَا کَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيْقَهُمْ بَعْضَ الَّذِيْ عَمِلُوْا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ .

আজ পৃথিবীর জলে স্থলে যে বিপর্যয় (( যার অন্যতম বাস্তব নমুনা বা মিসদাক হচ্ছে মারাত্মক প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ , বৈশ্বিক উষ্ণায়ন , বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ দাবানল , তীব্র খরা , বিশৃঙ্খলা , গোলযোগ , অশান্তি , অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিভিন্ন ধরনের কঠিন দুরারোগ্য রোগ ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ও করোনার মতো মহামারী ইত্যাদি )) দেখা দিয়েছে তা আসলে মানুষের কৃতকর্মের শাস্তি স্বরূপ এবং মহান আল্লাহ তা অহংকারী পাপী বস্তুবাদী চরম স্বার্থপর ভোগবাদী মানুষকে আস্বাসন করাচ্ছেন যাতে তাদের বোধোদয় হয় এবং সঠিক পথে ফিরে আসে ; আর এর পরেও যদি তাদের বোধোদয় ও সুমতি না হয় তাহলে তাদের কপালে চিরদু:খ ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছু আছে কি ? 

তাহলে তথাকথিত এ শিল্প বিপ্লব এবং প্রযুক্তির বিকাশ ও উন্নতির  লাভ ও ফায়দাটাই বা কী ? আর সুপথে ফিরে আসার অর্থ হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহয় মহান আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে জীবন যাপন করা অর্থাৎ সত্য ধর্ম ( দ্বীন -ই হক ) ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া ।

 

এই ( সার্বিক বিপর্যয় ও ফাসাদ ) হল পাশ্চাত্যের শিল্প বিপ্লব ও যান্ত্রিক বা যন্ত্রদানবীয় বস্তুবাদী ভোগবাদী সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্য । এই ছাইপাশ নিয়ে পাশ্চাত্য কতই না গর্বিত !!

তিনি [ অর্থাৎ হযরত মূসা -আ:- স্বীয় কওম ও সম্প্রদায় বনী ইসরাইলকে ] বললেন : তোমরা কি উৎকৃষ্ট তর বস্তুকে ( খাইর ) নিকৃষ্ট তর বস্তুর ( আদনা ) সাথে বদল করতে চাও ? ( সূরা - ই বাকারা : ৬১ )

قَالَ أَ تَسْتَبْدِلُوْنَ الَّذِيْ هُوَ أَدْنَیٰ بِالَّذِيْ هُوَ خَيْرٌ .

আর আমরাও কিনা সর্বোৎকৃষ্ট কল্যাণময় ইসলামকে বাদ দিয়ে ছাইপাশ তুল্য নিকৃষ্ট এই চরম অকল্যাণকর বস্তুবাদী নারকীয় পাশ্চাত্য সভ্যতা - সংস্কৃতি ও জীবন ব্যবস্থার জন্য কত উদগ্রীব , লালায়িত , পাগল ও উম্মাদ প্রায় !!!! মহান আল্লাহ পাক আমাদের বোধোদয় ঘটান ।

লেখক: ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওলায় মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

৮ রবীউল আওওয়াল , ১৪৪৩ হি.

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: