IQNA

বেকার-রাষ্ট্রহীন ছিলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্রই বাড়ি-চাকরি

19:08 - April 06, 2022
সংবাদ: 3471664
তেহরান (ইকনা): যুক্তরাষ্ট্রের নুন খেয়ে গুণ গাইলেন  এককালের বেকার , গৃহহীন , রাষ্ট্রহীন ও চাকরিহীন অধুনা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন । কারণ ঐ দুর্দিনে যুক্তরাষ্ট্র তাকে চাকরি ও ঘরবাড়ি দিয়েছে ! তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার হৃদয় নিংড়ানো আবেগ ও ভালবাসা মিশ্রিত শুকরিয়া ( কৃতজ্ঞতা ) জ্ঞাপন ও প্রকাশ করেছেন । তিনি বলেছেন যে তিনি তখন বেকার , গৃহহীন ও রাষ্ট্রহীন ছিলেন । কিন্তু তাঁর রাষ্ট্রহীন

  যুক্তরাষ্ট্রের নুন খেয়ে গুণ গাইলেন  এককালের বেকার , গৃহহীন , রাষ্ট্রহীন ও চাকরিহীন অধুনা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন । কারণ ঐ দুর্দিনে যুক্তরাষ্ট্র তাকে চাকরি ও ঘরবাড়ি দিয়েছে ! তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার হৃদয় নিংড়ানো আবেগ ও ভালবাসা মিশ্রিত শুকরিয়া ( কৃতজ্ঞতা ) জ্ঞাপন ও প্রকাশ করেছেন । তিনি বলেছেন যে তিনি তখন বেকার , গৃহহীন ও রাষ্ট্রহীন ছিলেন । কিন্তু তাঁর রাষ্ট্রহীন
হওয়ার বিষয়টা  বোধগম্য হল না বরং অস্পষ্টই থেকে গেল । কারণ ১৯৭১ সাল হলে ঠিক আছে কারণ তখন বাংলাদেশ দখলদার পাক বাহিনীর দখলে ছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালের পরে যদি হয় তাহলে তখন তো তাঁর রাষ্ট্রহীন হওয়ার কথা না । তবে বাংলাদেশের অনেক মানুষ যেমন আগেও বেকার ও গৃহহীন ছিল ঠিক তেমনি এখনও বাংলাদেশের জনসংখ্যার একাংশ বেকার ও গৃহহীন আছে নানা কারণে । তবে আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে । ১৯৭১ সালের আগে পাক শাসক গোষ্ঠী ও পাক হানাদার বাহিনীর দখলে বাংলাদেশ থাকার ফলে বাংলাদেশের জনগণের রাষ্ট্রহীন
হওয়ার নেপথ্যে এক অন্যতম প্রধান কারণ এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ পাকিস্তান যেমন বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পকেটে আছে ( আর গত দুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে ইমরান খান সরকারের পতন থেকে এটাই প্রমাণিত হয় ) ঠিক তেমনি তখনও পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পকেটস্থই ছিল যার প্রমাণ হচ্ছে সেন্টো ( CENTO ) জোটে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত থাকা । হানাদার পাক সামরিক জান্তা ও বাহিনী , পাক সরকার , শাসকবৃন্দ ও আমলাগণ সবাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশীর্বাদ ও সমর্থন পুষ্ট ছিল এবং পাক হানাদার দখলদার বাহিনী ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা ও যুদ্ধ চালাতে থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরের কথা এই ভয়ানক গণহত্যার নিন্দা পর্যন্ত করে নি। কারণ পূর্ব পাকিস্তান ( বর্তমান বাংলাদেশ ) পাকিস্তানের হাত থেকে ছুটে সোভিয়েত ( ইউনিয়নের ) শিবিরে যোগ দিতে পারে বলেই সেদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং ইউক্রেন - রাশিয়া যুদ্ধে  নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের কারণে যেমন পাকিস্তানের ইমরান খান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হল ঠিক তেমনি তখন ( ১৯৭১ সালে ) পাক ইয়াহিয়া খান সরকার পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধ চালানোর অপরাধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়ে ক্ষমতা হারায় নি ( অবশ্য বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলে ব্যর্থ ও পরাজিত পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়ার হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে ভুট্টো পাকিস্তান সরকারের দায়িত্ব নেয় । কিন্তু পদচ্যূত প্রেসিডেন্ট ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কোনো বিচার হয় নি যদিও ভূট্টোও পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ও গণহত্যার অংশীদার ছিল । যা হোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ গণহত্যা , যুদ্ধ ও ব্যর্থতার জন্য ইয়াহিয়া খান ও ক্ষমতাচ্যুত জান্তা প্রধান ও নেতাদের বিচারের জন্য চাপ দেয় নি এবং এ জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয় নি )। কারণ তখন পাক সরকার ও সেনাবাহিনী বিদ্রোহী বাঙ্গালীদের ঠেঙ্গাতে ও দমন করতে ব্যস্ত ছিল যারা পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করে সোভিয়েত শিবিরে নিয়ে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল। তাই দেখা যাচ্ছে যে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বর্তমান রাশিয়াকে কেন্দ্র করে পাক সরকারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী পদক্ষেপ ও আচরণ প্রদর্শন করেছে! আবার স্বাধীন হওয়ার শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশ যাতে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে সেজন্য মার্কিন ৭ম নৌবহর বঙ্গোপসাগরের দিকে ধেয়ে এসেও যে পাকিস্তানের শেষ রক্ষাটা করতে পারে নি সেটাও সবার জানা । বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের গণহত্যার মতো যুদ্ধাপরাধে পাক শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও শরীক ও অংশীদার।
আর ১৯৭৫ সালে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে তিনি যদি নিজেকে রাষ্ট্রহীন বলে থাকেন তাহলে সেটার জন্য ও কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। কারণ উক্ত সামরিক অভ্যুত্থানটাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই ঘটিয়েছিল এবং এই অভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশ সোভিয়েত - ভারত রাজনৈতিক বলয় থেকে বের হয়ে এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা রাজনৈতিক বলয়ে ঢুকে পড়েছিল!! তাই উভয় রাষ্ট্রহীনতার  ক্ষেত্রে এক অন্যতম প্রধান কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই যা তিনি নুন খেয়ে গুণ গাইতে গিয়ে ইচ্ছা করে হয়তো বলেন নি অথবা হয়তো বলতে ভুলে গেছেন !
আর পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় যেভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশস্তি গাইলেন সেভাবে কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদও ব্রিটেনের প্রশংসা করবেন ? কারণ ১৯৭৫ সালের রক্তক্ষয়ী ঐ অভ্যুত্থানের সময় তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে খুব সম্ভবত ব্রিটেনে ছিলেন । বাবা মা ও গোটা পরিবারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ও পরিচালিত রক্তক্ষয়ী ঐ সামরিক অভ্যুত্থানে হারিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর বোন কি ঐ সময় ব্রিটেনে থাকার জন্য ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করবেন ?!! ( কারণ ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই দেহ , মন ও প্রাণ সত্ত্বা ) । তদানীন্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: হেনরী কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের বাংলাদেশকেই
'তলাবিহীন ঝুড়ি' বলে অভিহিত করেছিল বাংলাদেশ এবং শেখ মুজীব সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবেই । এ ধরণের জঘন্য উক্তি ও মন্তব্য ছিল নি:সন্দেহ উস্কানি মূলক , হেয় ও অবমাননাকর এবং বর্ণবাদ দুষ্ট যা কেউ মানতে পারে না । অথচ পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় এ জঘন্য মন্তব্যের পাশ কাটিয়ে শুধু এতটুকু বলেই ক্ষান্ত থেকেছেন যে ঐ অবস্থা ( তলাবিহীন ঝুঁড়ির অবস্থা ) থেকে বিগত ৫০ বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে ! " অথচ ঐ তলাবিহীন ঝুড়ির অবস্থার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়া সাম্রাজ্যবাদ এবং বিশেষ করে ব্রিটেনই অনেকাংশে দায়ী। কারণ পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ও সামরিক জান্তাকে পাকিস্তানের সম্পদ হরি লুটের বৈধতার লাইসেন্স তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য ( ব্রিটেন)ই দিয়ে রেখেছিল এবং পাকিস্তানী আমলের আগে ব্রিটেনের ১৯০ বছর ব্যাপী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও লুটপাট বাংলাদেশের তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হওয়ার জন্য প্রধানত: দায়ী । আর পাকিস্তান এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অসাধু শাসক , পশ্চিমা ঘেঁষা এলিট শ্রেণী এবং দুর্নীতি পরায়ণ আমলা ও ব্যবসায়ীরা তাদের বৈধ অবৈধ অর্থ কড়ি ও সম্পদ পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , ব্রিটেন , কানাডা , অস্ট্রেলিয়া , ফ্রান্স , জার্মানি সহ বিভিন্ন ইউরোপীয় ( পশ্চিমা ) দেশে পাচার করছে । হালদারের মতো ব্যক্তিরা হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোয় পাচার করছে এবং পশ্চিমা ( মার্কিন , কানাডিয়ান , ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় ) রাঘব বোয়ালদের সাথে যোগসাজশ করেই হালদারের মতো দেশীয় চোররা টাকা ও অর্থকড়ি পাচার করার কারণেই বাংলাদেশ কেন অনেক দেশেরই তলাবিহীন ঝুঁড়ির অবস্থা হয়েছে বা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হতে থাকবে ।
আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় যেভাবে মার্কিন বন্দনা করেছেন ও দেশটির প্রশস্তি গেয়েছেন তা এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য মোটেও শোভনীয় হয় নি বিশেষ করে তাঁর নিজের এবং তাঁর নিজ দেশ ও জাতির দুরাবস্থার জন্য অনেকাংশে স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই নেতিবাচক বিরাট ভূমিকা ও প্রভাব রয়েছে । কেন আজও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে হালদারের মতো চোরেরা দেশের অর্থ সম্পদ চুরি করে পাচার করে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও জীবন উপভোগ ( লাইফ এনজয়) করছে ? যেন সব কিছু তারা  পেয়ে গেছে চোর , বাটপার ও লুটেরাদের আশ্রয়দাতা ঐ সব দেশের কাছ থেকে ! তাহলে তারাও তো পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো আশ্রয়দাতা দেশগুলোর প্রশস্তি গাইবে এবং কৃতজ্ঞতা ও ভক্তি সহকারে বলবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আশ্রয়দাতা দেশগুলো নিরাপদ আশ্রয় সহ তাদের সব কিছু দিয়েছে !!!
আর পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের এ ধরণের উক্তি থেকে অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন যে বাংলাদেশের চাইতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যেন তাঁর টান , মমতা ও কমিটমেন্ট অনেক বেশি !
   আবার তাঁর ঐ উক্তি থেকে অনেকে মনে করতে পারেন যে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং ইউক্রেন সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় ও ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপ মেনে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর পূর্ব আরোপিত স্যাংকশন এ দেশটি ( যুক্তরাষ্ট্র ) ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত ও বিস্তৃত করে বাংলাদেশ সরকারের অনেক কর্মকর্তাকে এর শামিল ও আওতাভুক্ত করতে
পারে। যাতে তিনিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ বর্ধিত ও সম্প্রসারিত স্যাংকশনের আওতায় না পড়েন সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা , গুণকীর্তন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগে ভাগেই (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ) জানান দিলেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই গুণগ্রাহী , শুভাকাঙ্ক্ষী, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মিত্র এবং তাঁকে যেন বর্ধিত ও সম্প্রসারিত ঐ মার্কিন স্যাংকশনের আওতাভুক্ত করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় !! যদি তিনি আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন সরকার প্রদত্ত বাড়ীঘর বিক্রি করে না থাকেন তাহলে তিনি স্যাংকশন মুক্ত থাকায় অনায়াসে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত ও ভ্রমন করতে এবং সেখানে সেই বাড়ীতে গিয়ে থাকতে ও বসবাস করতে পারবেন !! ( আর স্যাংকশনের অন্তর্ভুক্ত হলে তখন তিনি স্বপ্নপুরী ও স্বর্গরাজ্য সম মার্কিন মুলুকে যেতে পারবেন না ! হায় কি দু:খের খবর হবে এটা তখন !! )

  এ ছাড়া তাঁর এ উক্তি অনভিজ্ঞ তরল মতির যুবক যুবতীদের মধ্যে দেশের চাইতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসা , টান ও মায়া মমতার উদ্রেক করবে যার ফলে তা হালদারের মতো বিশ্বাস ঘাতক চোর , বাটপার , দুর্নীতি বাজ ও পশ্চিমাপন্থী মার্কিন প্রেমিক
দালাল শ্রেণী তৈরিতেও অবদান রাখতে পারে ।
আচ্ছা যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যে যাচ্ছে তাদের সবাই কি পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের মতো সফল ও প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পেরেছে ? আর সফল ও প্রতিষ্ঠা লাভ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইমিগ্রেন্টদের চেষ্টা , প্রচেষ্টা , অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের কারণেই হয়েছে , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দয়াদাক্ষিণ্যের কারণে নয় । আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদী শোষণ ও লুটতরাজের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে সম্পদ নিয়ে এনে সে দেশে বহু অগণিত সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি করেছে । বলার আর অপেক্ষা রাখে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও সম্পদের এক বিরাট বিশাল অংশ হচ্ছে হালদারের মতো বিভিন্ন দেশের চোর বাটপার দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের পাচার করে আনা ও বিনিয়োগ কৃত অবৈধ অর্থ সম্পদ ও টাকা পয়সা । এ সব অসুদপায় অর্জিত সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের না থাকলে তখন কি দেশটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মতো ব্যক্তিদের চাকরি , গৃহ ও সুযোগ সুবিধা দিতে পারত ?!
আজ থেকে তিন শো বছর আগে বাংলায় এসে ইউরোপীয়রা অর্থ সম্পদ ও টাকা পয়সা কামিয়ে লালে লাল হয়ে ফিরে যেত নিজ নিজ দেশে । কই একটা ইউরোপীয় আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের মতো বাংলা বা ভারতের এত উচ্ছ্বসিত প্রশস্তি গায় নি ও বন্দনাও করে নি ( বাংলা বা ভারতের নুন খেয়ে বাংলা বা ভারতের গুণ গায় নি ইউরোপীয়রা । বরং উল্টে তারা বাংলা , ভারত ও অন্যান্য সম্পদশালী দেশকে কলোনাইজ করেছে , জবর দখল করেছে , সম্পদ হরি লুট করে ফতুর করেছে ও ফকির বানিয়ে দিয়েছে ! যে টুকু উন্নতি সাম্রাজ্যবাদ কবলিত দেশ গুলোর হয়েছে তা হয়েছে কেবল ঐ সব দেশের স্বাধীনতা লাভ করার পর ) । তাই এ ধরণের বন্দনা , প্রশস্তি ও প্রশংসা পাশ্চাত্যের প্রতি এক ধরণের প্রেম , প্রীতি , ভালোবাসা , ভালোলাগা , পশ্চিমাদের কাছে নিজেকে সোপে দেওয়া ও বিলীন করার মানসিকতা থেকে উদ্ভূত যা হচ্ছে আসলে কলোনাইজড মেন্টালিটি সিন্ড্রোম ( সাম্রাজ্যবাদ কবলিত মানসিকতা)
এবং তা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ২-৩ শতাব্দীর শাসনামলে খুব দক্ষতার সাথে ও সুকৌশলে প্রাচ্য দেশীয় দের মন মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে ! অতএব এ ধরণের কথা ও মন্তব্য সত্যিই বিপজ্জনক ।

মুহাম্মদ আবদুর রহমান
৫ -৪- ২০২২
***
আবার অনেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের এ উক্তি থেকে মনে করতে পারেন যে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং ইউক্রেন সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় ও ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপ মেনে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ওপর আগে থেকেই যে স্যাংকশন  আরোপ করে রেখেছে এ দেশটি ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) আরোপিত সেই স্যাংকশন ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত করে বহু বাংলাদেশী কর্মকর্তাকে এর আওতাভুক্ত করতে
পারে এই দেশটি ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) । যাতে তিনিও ( পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় ) মার্কিন স্যাংকশনের আওতায় না পড়েন সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগে ভাগেই ঐ দেশটিকে(মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) জানান দিলেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই গুণগ্রাহী , শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু ও মিত্র এবং তাঁকে যেন মার্কিন স্যাংকশনের আওতাভুক্ত করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় !!  

captcha