IQNA

পবিত্র কুরআনে জ্ঞানের প্রকারভেদ

21:25 - May 20, 2022
সংবাদ: 3471872
তেহরান (ইকনা): যে কোন বিষয় সম্পর্কে জানা এবং সচেতন হওয়া বিবেকবানের কাজ। কিন্তু এটা জেনে রাখা প্রয়োজন যে, পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী কিছু বিষয় জানা অকেজো, এমনকি তা মানুষের জন্য  ক্ষতিকর এবং যারা এই বিষয়গুলো খোঁজেন তাদের তিরস্কার করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে তিন প্রকার জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জ্ঞান, ক্ষতিকর জ্ঞান এবং যে জ্ঞানের কোন উপকার বা ক্ষতি নেই। প্রয়োজনীয় বা দরকারি জ্ঞান শেখা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে হযরত মূসা (আঃ) এটি খুঁজে বের করার জন্য একজন শিক্ষক এবং গাইড খুঁজতে চেয়েছিলেন এবং তা খুঁজতে যেয়ে তিনি হযরত খিজির (আঃ)এর সাথে পরিচিত হন। তার নিকট হতে হযরত মূসা (আঃ) নিজের বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য জ্ঞান অর্জন করতে চেয়েছিলেন।  এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: 
 
قَالَ لَهُ مُوسَىٰ هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰ أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا
 
মূসা তাকে (খিজির) বলল, ‘আমি কি আপনার অনুসরণ করতে পারি যাতে আপনি আমাকে সেই জ্ঞান থেকে কিছু শিক্ষাদান করেন যা সত্যপথের জ্ঞানস্বরূপ আপনাকে প্রদান করা হয়েছে?’
সূরা কাহফ, আয়াত ৬৬।
 
সূরা বাকারার ২৫৯ নম্বর আয়াতে আরও বলা হয়েছে যে "উজাইর নবী" মৃতদের পুনরুত্থানের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একশ বছর ধরে মহান আল্লাহর আদেশে ঘুমিয়ে পড়েন।
 
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْيِي هَٰذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ۖ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۖ قَالَ بَلْ لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانْظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ ۖ وَانْظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِلنَّاسِ ۖ وَانْظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا ۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
 
অথবা এমন ব্যক্তির (প্রতি লক্ষ্য করনি,) যে এক জনপদ দিয়ে অতিক্রম করেছিল যা এমনই বিধ্বস্ত হয়েছিল যে, এর ছাদসমূহের ওপর ভেঙ্গে পড়েছিল, (তা দেখে) সে বলল, ‘আল্লাহ এর (এদের) মৃত্যুর পর একে (এদেরকে) কীরূপে জীবিত করবেন?’ অতঃপর আল্লাহ তাকে (মৃত্যুদান করলেন এবং) শত বছর পর্যন্ত মৃত রাখলেন; পরে তাকে পুনরুত্থিত করে বললেন, ‘তুমি কত কাল অবস্থান করেছ?’ সে বলল, ‘একদিন বা একদিনের কিয়দংশ।’ তিনি বললেন, ‘বরং তুমি শত বছর অবস্থান করেছ।’ তুমি তোমার খাদ্য ও তোমার পানীয়ের প্রতি লক্ষ্য কর যাতে কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। এবার তোমার গাধার প্রতি দৃষ্টি দাও (যার হাড়গুলো পড়ে আছে); আর (এসব এজন্য করেছি) যেন আমরা তোমাকে মানবজাতির জন্য এক নিদর্শন (আমার ক্ষমতার নমুনা) করতে পারি। এবং তোমার গাধার প্রতি লক্ষ্য কর (যে, তা পচে গলে অস্থিতে পরিণত হয়েছে; এটা এজন্য যাতে তুমি দৃঢ় বিশ্বাসী হও) এবং এজন্য যে, তোমাকে মানুষের জন্য (পুনরুত্থানের) নিদর্শন করি, এখন তুমি অস্থিগুলোর প্রতি লক্ষ্য কর, আমরা কীভাবে সেগুলো সংযুক্ত করি, অতঃপর তার ওপর মাংসের আবরণ পরিধান করাই।’ অতঃপর তার সম্মুখে যখন (এসব) স্পষ্ট হয়ে গেল তখন (স্বতঃস্ফূর্তভাবে) বলল, ‘আমি জানি যে, আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’
সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৯।
 
এছাড়াও সূরা বাকারার ২৬০ নম্বর আয়াতে আরেকটি উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে, হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) হৃদয়কে আশ্বস্ত করার জন্য, মহান আল্লাহ তাকে চারটি পাখি মেরে এবং তাদের মাংস মিশ্রিত করে, তাদের পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে ইন্দ্রিয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
 
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَىٰ ۖ قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ ۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي ۖ قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةً مِنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٍ مِنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا ۚ وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
 
এবং (হে রাসূল! সে সময়কেও স্মরণ কর) যখন ইবরাহীম বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি মৃতদের কীরূপে জীবিত কর তা আমাকে দেখিয়ে দাও।’ তিনি বললেন, ‘তোমার কি (এ ব্যাপারে) বিশ্বাস নেই।’ সে বলল, ‘অবশ্যই, তবে এজন্য যে, যাতে আমার হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ তিনি বললেন, ‘তবে চারটি পাখি নাও (ও তাদের পোষ মানাও); এরপর নিজেই ওদের খ--বিখ- (ও মিশ্রিত) কর, অতঃপর প্রত্যেক পাহাড়ের ওপর ওদের এক এক অংশ রেখে দাও। অতঃপর ওদের ডাক দাও; (দেখবে) ওরা সব তোমার কাছে দ্রুত ছুটে আসবে।’ এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
সূরা বাকারা, আয়াত ২৬০।
 
পক্ষান্তরে পবিত্র কুরআনে ক্ষতিকর ও অকেজো জ্ঞানের কথাও বলা হয়েছে; জ্ঞান যা মানুষের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে, সেই জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে মানুষকে হুশিয়ার করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পবিত্র কুরআন এমন একটি দলকে নির্দেশ করে যারা ক্ষতিকারক জ্ঞান অন্বেষণ করেছিল:
 
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ ۚ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
 
 
এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা (জাদুকররা) যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করত। অথচ সুলায়মান অবিশ্বাস করেনি। বরং শয়তানরাই অবিশ্বাস করেছিল যারা মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত। এবং যা কিছু হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর বাবেল শহরে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং তারা এর শিক্ষা কাউকে দিত না যতক্ষণ এ কথা না বলে দিত যে, ‘আমরা তো কেবল পরীক্ষাস্বরূপ। সুতরাং তুমি অবিশ্বাসী হয়ো না।’ কিন্তু তারা তাদের দু’জন থেকে সেসব বিষয়ই শিক্ষাগ্রহণ করত যার দ্বারা পুরুষ ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে; অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ভিন্ন এর মাধ্যমে কারও ক্ষতি করতে পারত না। এবং তারা এমন বিষয় শিক্ষাগ্রহণ করত যা তাদের ক্ষতিসাধন করত এবং তা তাদের জন্য কোন উপকারও বয়ে আনত না। এবং নিঃসন্দেহে তারা অবহিত ছিল যে, যে সেগুলো ক্রয় করবে তার পরকালে কোন অংশ থাকবে না। তা অতি নিকৃষ্ট যার বিনিময়ে তারা তাদের আত্মাকে বিক্রয় করেছে। হায়! যদি তারা জানত।
সূরা বাকারা,  আয়াত ১০২।
 
পবিত্র কুরআনে এমন এক প্রকার জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে যার কোন উপকারও নেই এবং কোন ক্ষতিও নেই। 
কিন্তু এমন কিছু জ্ঞান আছে যেগুলো উপকারীও নয়, ক্ষতিকরও নয় এবং সেগুলো জেনেও কোনো লাভ নেই। তকে কেউ কেউ এই জ্ঞান অর্জন করতে চায়। এমনকি এই জ্ঞান অর্জনের জন্য অনেকের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আসহাবে কাহাফের সংখ্যা সম্পর্কে কিছু লোক দ্বিমত পোষণ করে।
 
سَيَقُولُونَ ثَلَاثَةٌ رَابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ وَيَقُولُونَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًا بِالْغَيْبِ ۖ وَيَقُولُونَ سَبْعَةٌ وَثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ 
 
অতি সত্বর তারা (একদল) বলবে, ‘তারা তিনজন ছিল, তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর’; এবং তারা (কিছু সংখ্যক লোক) বলে, ‘তারা পাঁচজন ছিল, ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর’; এবং (এসব কেবল) অদৃশ্য বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কথা। তারা (কিছু সংখ্যক লোক) বলে, ‘তারা ছিল সাতজন, অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর।’
সূরা কাহফ, আয়াত ২২।
 
পবিত্র কুরআন এই মতের পার্থক্যের সমালোচনা করে এবং একে নিষ্ফল ও অকেজো বলে মনে করে। এ ব্যাপারে বলা হয়েছে: সংখ্যা এবং অকেজো পরিসংখ্যানের পরিবর্তে লক্ষ্য সম্পর্কে চিন্তা কর এবং লক্ষ্যহীন জ্ঞান অন্বেষণ করো না।
• আসহাবে কাহাফের সদস্যরা খ্রিস্টান ছিলেন, যারা তাদের বিশ্বাস বজায় রাখতে এবং ডেসিয়ানাস (২০১-২৫১) এর অত্যাচার থেকে নিরাপদ থাকার জন্য একটি গুহায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে প্রায় তিনশ নয় বছরের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পবিত্র কুরআনে কাহফ নামে একটি সূরা রয়েছে এবং এই সূরার ৮ থেকে ২৬ নম্বর আয়াতে এই মু’মিন ব্যক্তিদের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে 
 
 
 
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha