
সাহিত্যিকদের শিক্ষিকা : মারিয়াম বিনতে আবি ইয়াকুব (রহ.) পেশায় ছিলেন শিক্ষিকা। অভিজাত পরিবারের নারীদের কবিতা ও সাহিত্য শেখাতেন। ফলে সমকালীন বহু নারী কবি-সাহিত্যিকের সরাসরি শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। বলা যায়, তাঁর হাত ধরে মুসলিম স্পেনে নারীদের সাহিত্যচর্চায় একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। মারিয়াম বিনতে আবি ইয়াকুব (রহ.)-এর শিষ্য ও ভাবশিষ্য নারী কবিদের বহু কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্ম স্পেনসহ ইউরোপের প্রাচীন পাঠাগারগুলোতে সংরক্ষিত আছে। ব্যঙ্গাত্মক কবিতা রচনায়ও তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল।
আরবের শাপ্পো : ইউরোপের সাহিত্যবোদ্ধারা কবি মারিয়াম বিনতে আবি ইয়াকুব (রহ.)-কে বলেন, ‘অ্যারাবিয়ান শাপ্পো’। শাপ্পোর সঙ্গে তুলনা করার কারণ হলো প্রাচীন এই গ্রিক কবিও মারিয়ামের মতো খ্যাতি, সম্মান ও সম্পদের অধিকারী ছিলেন। উভয় নারী কবিই সময়ের ক্ষমতাসীন, অভিজাত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হন। আরো আশ্চর্য বিষয় হলো, মারিয়াম ও শাপ্পোর সাহিত্যের খুব সামান্য অংশই সংরক্ষিত আছে। অবশ্য কেউ কেউ তাকে অপর গ্রিক কবি কোরিনার সঙ্গে তুলনা করেন।
দ্বিনদারি : সময়ের খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী কবি হওয়ার পর মারিয়াম (রহ.) ছিলেন অত্যন্ত দ্বিনদার ও বহুবিদ গুণের অধিকারী। তিনি সুদূর আন্দালুস থেকে হজ করতে এবং রাসুলের রওজা জিয়ারত করতে মক্কা-মদিনা সফর করেন। তাঁর জীবনী রচয়িতারা তাঁর সম্পর্কে লেখেন, ‘তিনি ছিলেন হজ পালনকারী, সাহিত্যিক, কবি ও মর্যাদাসম্পন্ন নারী। তিনি আরবি সাহিত্য শেখাতেন। দ্বিনদারি ও জ্ঞানের কারণে তাকে অত্যন্ত সম্মানিতা মনে করা হতো।’
বিখ্যাত কবিতা : হিজরি চতুর্থ শতকে তাঁর একটি কবিতা প্রসিদ্ধি লাভ করে। যার মর্মার্থ হলো, ৭৭ বছর বয়সী কোনো নারীর কাছে কোনো কিছু আশা করা যায় না, যেমন আস্থা রাখা যায় না মাকড়সার পাতলা জালের ওপর। যে নারী শিশুর মতো ধীর পায়ে পাপের দিকে এগিয়ে যায় এবং তাকে হাজির করা হয় আটক বন্দির মতো। আন্দালুসের শাসক ইবনুল মুহান্নাদ তাঁর এই কবিতা শুনে খুবই মুগ্ধ হন এবং তাঁকে বহু অর্থ উপহার দেন।
তথ্যঋণ : আ’লামুন নিসা : ৫/৪৭; বুগয়াতুল মুলতামিস, পৃষ্ঠা ৬৩২; ব্রুকলিন মিউজিয়াম ডটঅর্গ ও ডিবি পিডিয়া