তাই বাধ্য হয়ে পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোলা বারুদ সরবরাহ করতে যাচ্ছে পশ্চিমারা ইউক্রেনে। এত মহাশক্তিধর বিজ্ঞান - প্রযুক্তিতে সবচেয়ে উন্নত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ( ইউরোপীয় ইউনিয়ন) অর্থাৎ পাশ্চাত্যের এত করুণ দশা ! রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে গোলা বারুদ সরবরাহ করার মুরোদ নেই পাশ্চাত্যের । তাই তাদের এখন পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে গোলাবারুদের জন্য ধর্না দিতে হবে !!! আসলে পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কত শক্তিশালী তা এবং ন্যাটো , পাশ্চাত্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও যে আসলে কাগুজে বাঘ তা এ থেকে প্রমাণিত হয়ে গেল । এখন যদি রাশিয়ার সাথে ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বাধে তাহলে ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে যুদ্ধ করবে ? কারণ ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেমন পর্যাপ্ত গোলাবারুদ নেই ঠিক তেমনি জ্বালানি ( পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস )ও নেই যা রাশিয়ার পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। আর যুদ্ধে যে পক্ষ জ্বালানি শক্তির অধিকারী সেই পক্ষ অপর পক্ষের চেয়ে অধিক শক্তিশালী । আর জ্বালানি শক্তির অধিকারী পক্ষই যুদ্ধে জিতে।
এই খবরটি ইত্তেফাকের পাকিস্তান থেকে বন্দুকের গুলি পাবে ইউক্রেন শিরোনামের জাবাবে ইসলামী গবেষক
পাকিস্তান , সৌদি আরব , আরব আমিরাত , কুয়েত , কাতার , বাহরাইন , ওমান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সমূহের মতো বিশ্বে বেশ কিছু দালাল ও খায়েন ( বিশ্বাসঘাতক ) আছে যাদের কারণে পাশ্চাত্য এখনও টিকে আছে । রাশিয়ার সাথে ইমরান খান সরকারের সখ্যতা ও ভালো সম্পর্ক থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ষড়যন্ত্র করে গত বছর ( ২০২২ সাল ) ইমরান খান সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশটিতে (পাকিস্তানে) খায়েন দালাল শাহবাজ শরীফ সরকারকে ক্ষমতায় বসায় যাতে ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের উপকারে আসে পাকিস্তান । আর এখন সেই সময়টা এসে গেছে !!! তাই পাকিস্তান থেকে ইউক্রেনে গোলাবারুদ সরবরাহ করা যাবে !! আর এ থেকেও স্পষ্ট হয়ে যায় যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেন ভালো অবস্থায় নেই । সেই সাথে পাশ্চাত্য শিক্ষিত পাশ্চাত্য পূজারীদের উদ্দেশ্যে বলতে হয় : তোরা কিভাবে বলিস যে পশ্চিমারা সব ক্ষেত্রেই বহুত শক্তিশালী ও উন্নত ; তাই পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দয়াদাক্ষিণ্য ও সাহায্য ছাড়া অপশ্চিমা দেশগুলো নাকি বিন্দুমাত্র চলতে পারবে না এবং প্রগতি ও উন্নয়নের মুখও তারা দেখবে না ? দেখে নে তোরা ! বরং এ সব দেশের সাহায্য ছাড়া
পাশ্চাত্যই চলতে পারবে না যার প্রমাণ হচ্ছে যে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের গোলাবারুদের স্বল্পতার জন্য পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোলাবারুদ ইউক্রেনে সরবরাহ করার চিন্তাভাবনা করছে । পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সবচেয়ে শক্তিশালী হয় তাহলে কেন গোলাবারুদের শূন্যতা ও অভাবে পড়ল পশ্চিমারা ? এত উন্নতি প্রযুক্তি ও শিল্প শক্তির অধিকারী হওয়ার পর কেন তারা অনেক অনেক গোলা বারুদ উৎপাদন করে তো ইউক্রেনে সেগুলো সরবরাহ করতে পারছে না ? এ কেমন শক্তি শালী পাশ্চাত্য ( পশ্চিমা দেশগুলো ) ? পশ্চিমা দেশগুলোর ( পাশ্চাত্য, ন্যাটো , ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা , অস্ট্রেলিয়া ) অর্থনৈতিক, শিল্প ও প্রযুক্তি গত শক্তি যে ভেঙে পড়েছে সে সংক্রান্ত খবর আগেই প্রকাশিত হয়েছে এবং এবার প্রকাশিত হল পশ্চিমা ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের স্বল্পতার খবর ইউক্রেনের গোলাবারুদের স্বল্পতার খবর ও পাকিস্তানের গোলাবারুদ ইউক্রেনে সরবরাহ করার খবর প্রকাশের মাধ্যমে। অর্থাৎ পশ্চিমাদের সামরিক শক্তি যদি অফুরন্ত ও বিশাল ব্যাপক হযত তাহলে তারাই ইউক্রেনে গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পারত । আর ইউক্রেনের স্থল সীমান্তেই রয়েছে ন্যাটো ; তাই ন্যাটো জোট ভুক্ত দেশগুলো থেকে অতি সহজেই ও তাড়াতাড়ি স্থল সীমান্ত দিয়েই স্থল পথে ইউক্রেনে গোলাবারুদ সরবরাহ করা যায় । অথচ পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া বহু দূরে অবস্থিত এবং এ দুটো দেশের সাথে ইউক্রেনের কোনো স্থল ও জল সীমান্ত নেই এবং বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে এ দুই দেশ থেকে ইউক্রেনে গোলাবারুদ সরবরাহ করতে হবে। তাতে পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে যাবে। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যে পাশ্চাত্য অর্থাৎ ন্যাটো , ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন , কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সামরিক শক্তিও অর্থনৈতিক ও শিল্প শক্তির মত পরে গেছে !! তবে এখনো যে শক্তি পশ্চিমাদের ( পাশ্চাত্য ) আছে সেটা হচ্ছে তাদের প্রচার প্রোপাগ্যান্ডার শক্তি অর্থাৎ মিডিয়া পাওয়ার । পাশ্চাত্যের এ শক্তি খুবই ভয়ের । কারণ এ শক্তি বলে পাশ্চাত্য দিনকে রাত , রাতকে দিন , প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের বিজয়কে পরাজয় , নিজেদের ব্যর্থতা ও পরাজয়কে বিজয় , তিলকে তাল , তালকে তিল , জালেমকে মজলুম ও মজলুম কে জালেম দেখাতে পারে। যুদ্ধের ময়দানে পরাজিত হয়েও পশ্চিমারা প্রচার প্রোপাগ্যান্ডা চালিয়ে যুদ্ধের ময়দানে বিজয়ী শত্রুকে পরাজিত ও ধরাশায়ী করে !!! সুতরাং পাশ্চাত্যের প্রোপাগ্যান্ডা মেশিনের ব্যাপারে সবাইকে যথেষ্ট সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
২৫-২-১৪০১