
তারপর আজ ইত্তেফাক ছাপল। বিবিছি , ভুয়া ( VOA ) সহ সকল পশ্চিমা সংবাদ ও প্রচার মাধ্যমের পলিসি হচ্ছে যে ইরানের কোনো ইতিবাচক খবর ছাপবে না অথবা ছাপতে হলে তা খুব খাটো , ক্ষুদ্র , সামান্য , নগন্য , অকিঞ্চিৎকর ও গুরুত্বহীন করে দেখাবে ও প্রকাশ করবে যেমন গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে সমগ্র ইরান জুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ইরানী জনতার মিছিলের খবর হয় একদম ছাপে নি অথবা খুবই গুরুত্বহীন করে দেখিয়েছে ; আর ইরানের যে কোনো নেতিবাচক সংবাদ যত ক্ষুদ্র , সামান্য, অকিঞ্চিৎকর ও গুরুত্বহীন হোক না কেন তা ফলাও ও বড় করে প্রচার ও প্রকাশ করবে অর্থাৎ তিলকে তাল বানাবে ও তালকে তিল দেখাবে । আর পশ্চিমা প্রভুদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইত্তেফাকও ইরানের খবরাখবর সংক্রান্ত তিলকে তাল এবং তালকে তিল দেখানোর পলিসি মাফিক ইরান সংক্রান্ত এই নেতিবাচক খবরটি বেশ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে প্রচার করেছে । এই পত্রিকার মতে ইরান জুড়ে কথিত এই বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজ ও ছবিগুলো মাত্র কয়েকটি ছাড়া সমর্থিত হয় নি ।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইত্তেফাক " হাজার হাজার বন্দীকে ক্ষমা করলেন খামেনী " ----- এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে জালিয়াতি করে ১৯৭৯ সালে তেহরানে ইরানী জনতার শাহ বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিলের একটি ছবি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরান সরকার বিরোধী ইরানী জনতার প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিলের ছবি বলে চালিয়ে দিয়েছে এবং ঐ ছবির নীচে লিখেছে : এটি আয়াতুল্লাহ খামেনির অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ আন্দোলন !!!
কত বড় জালিয়াতি , জুয়াচ্চরি ও মিথ্যাচার ইত্তেফাক পত্রিকার ! এত বড় নির্জলা মিথ্যা কত বলতে পারল এ পত্রিকাটি। আসলে এ পত্রিকাটি ওর পশ্চিমা প্রভুদের মতোই ভয়ঙ্কর জঘন্য মিথ্যাবাদী । তাই ইরান সংক্রান্ত এবং পশ্চিমাদের বৈরী যে কোনো দেশ সংক্রান্ত এদের ( পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম সমূহ এবং এদের ধামাধরা তল্পীবাহক ইত্তেফাকের মতো দেশীয় পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যম সমূহ ) কর্তৃক পরিবেশিত খবর সত্য নয় এবং নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই করে সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলে সত্য বলে গ্রহণ করা অনুচিত।
আবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ বিবিছি ফারসি ( BBC Persian ) ইরান সংক্রান্ত সংবাদ জালিয়াতি ও তথ্য বিকৃতি করে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে যে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন স্বরূপ বিপুল হারে সেনা সদস্যরা ইরানের সেনাবাহিনী ত্যাগ করার কারণে ইরানী বিমান বাহিনী ক্যাডার ও পার্সোনেল শূন্য হয়ে পড়ায় এ বছর ( ২০২৩ ) ইরানী বিমান বাহিনী দিবসে ( ৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেঈর সাথে ইরানী বিমান বাহিনীর আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের অনষ্ঠানটি যা প্রতি বছর এ দিনে অনুষ্ঠিত হয় তা এ বছর অনুষ্ঠিত হয় নি এবং তার পরিবর্তে আয়াতুল্লাহ খামেনির সাথে ইরানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অল্প বয়স্ক ছাত্রীরা সাক্ষাৎ করেন । অথচ সর্বোচ্চ নেতার সাথে বিমান বাহিনীর সদস্য ও পার্সোনেলদের সাক্ষাৎ পূর্বের বছরগুলোর মতো এ বছরও ঠিক যথাসময় ও তারিখে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে । কিন্তু এর একদিন আগে বিবিসি ফার্সি ৭ তারিখে প্রচার করে যে বিমান বাহিনী দিবসে (৮ ফেব্রুয়ারি ) বিমান বাহিনীর পার্সোনেল ও সদস্যদের সাক্ষাতের অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় নি এবং তার পরিবর্তে সর্বোচ্চ নেতার সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অল্প বয়স্ক ছাত্রীদের
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে যা আসলে শুক্রবার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সন্ধ্যায় , হযরত আলীর জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ! অথচ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইরানী বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে উক্ত বাহিনীর সদস্য ও পার্সোনেলরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেঈর সাথে সাক্ষাৎ করেন । ( বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন :
https://iqna.ir/A0EZYw ) তাহলে দেখুন বিবিছির কত বড় মিথ্যাচার , সংবাদ জালিয়াতি এবং তথ্য বিকৃতি!! তাই এদের কি বিশ্বাস করা যায় ? ইতিমধ্যে ইত্তেফাক পত্রিকা যে নিজেকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করেছে তা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি ।
মুহাম্মদ আবদুর রহমান