
গাইবান্ধার সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে কামারদহ ইউনিয়নের মাস্তা গ্রামের প্রাচীন লাল মসজিদটিই ‘মাস্তা মসজিদ’ নামে পরিচিত।
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি ঠিক কখন নির্মিত হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট কোনো সূত্র আজও জানা যায়নি। তবে মসজিদের নির্মাণ কৌশল ও মোগল আমলের মসজিদ স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যের সূত্র ধরে অনুমান করা যায় মাস্তা মসজিদটি মোগল আমল ১৬ শতকের কোনো এক সময় নির্মিত হয়েছিল।
এলাকায় জনশ্রুতি আছে, এককালে এই এলাকায় বাদশা ফকির নামে একজন প্রভাবশালী ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি বাস করতেন। তিনি এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে তার ও তার উত্তরসূরির আসল পরিচয় আজও পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই নির্মাণশৈলী সম্পর্কীয় যে তথ্য পাওয়া যায়, তা হলো—মাস্তা মসজিদের গঠনশৈলী একদম সাদামাটা। ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের মূল মসজিদটিতে সম-আকৃতির তিনটি গম্বুজ আছে। চারকোনায় চারটি স্তম্ভ রয়েছে। অন্যান্য প্রাচীন স্থাপনার মতো এই মসজিদের দেয়ালগুলো বেশ চওড়া। এই মসজিদের দেয়ালের চওড়া সাড়ে ৪ ফুট, ফলে মসজিদের ভেতর অংশের প্রস্থ ৭ ফুট আর দৈর্ঘ্যে ২৬ ফুট। যাতে দুই কাতার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারে। মসজিদের প্রবেশপথ তিনটি, সম্ভবত ছোট মসজিদ হওয়ায় এর কোনো জানালা নেই। ভেতরে কোনো কারুকাজও নেই। মুসল্লি আধিক্যের কারণে সমপ্রতি মসজিদটির সামনের অংশ বর্ধিত করে নামাজের স্থান করা হয়েছে। প্রাচীন এই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।