
মাসের কোন্ কোন্ দিন বইমেলায় যাওয়া হবে, একুশের সকালে শহীদ বেদিতে কিভাবে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে এসব চিন্তা সবাইকে ভীষণভাবে আন্দোলিত করে। ছোট্ট শিশুটিসহ বয়োবৃদ্ধ সবার তাঁত-সুতির সাদা-কালো কাপড়ে বর্ণমালা খচিত পোশাক পরে হাতে ফুল, ফুলের তোড়া নিয়ে ভোরের শিশিরস্নাত পথ, ঘাসের চত্বর মাড়িয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন- এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। কিন্তু এরপর শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে যতই দূরে যেতে থাকি, বাংলা ভাষার প্রতি, ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারগুলো ক্রমেই যেন দূরে সরে যেতে থাকে। ফিকে হয়ে যায় আমাদের চেতনাগুলো। সবকিছু ভুলে ডুবে যাই নৈমিত্তিক কাজে।
আমাদের সরকারি দফতর ও কর্ম প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাংলায় নোটিং, ফাইলিং ও চিঠিপত্রের যোগাযোগ চালু হয়েছে বহু আগেই। ইংরেজি চর্চার সরাসরি ও সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেই। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা সবার সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। তারপরও কোনো বিদেশি অতিথি বা অংশগ্রহণকারী থাকুক বা না থাকুক, অনেক সময় সভা-সেমিনার-ওয়ার্কশপ ইংরেজি ভাষায় পরিচালনা করা হয়। ফলে অনেক অংশগ্রহণকারী ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ অবদান রাখতে পারে না। প্রশ্ন হল, আমাদের টার্গেট কি ওইসব অনুষ্ঠান থেকে সর্ব্বোত্তম অর্জন বের করে আনা, নাকি ইংরেজিতে উপস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের স্মার্টনেস ধরে রাখা?
সরকারি বেসরকারি দফতর ও বাজারঘাটের সাইনবোর্ড ব্যানারে বাংলার ব্যবহার ছাপিয়ে ইংরেজির আধিক্য ভাষার প্রতি অনাদরের চেহারাই ভেসে ওঠে। এ বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ মনে করেন, নিজের মায়ের ভাষা বাদ দিয়ে আধুনিক আর স্মার্ট হওয়া যায় না। বাড়ানো যায় না জ্ঞানের পরিধি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর তৌহিদুল হক মনে করেন, ভাষার প্রতি প্রেমকে যাপিত জীবনে সঠিকভাবে ব্যবহার জরুরি। এর মাধ্যমেই ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হবে। বাংলার সঙ্গে ইংরেজির মিশ্রণে আধুনিক স্মার্টনেস মনে করা হলেও এটাকে একধরনের দৈন্যতা বলেই মনে করেন এ সমাজ বিজ্ঞানী। পার্সটুডে