
ওমানিরা রমজানের চাঁদ দেখার পর খাদ্য-খাবার ক্রয়, মসজিদে একত্রে ইফতার, তারাবির নামাজ পাঠ এবং কোরআন তেলাওয়াত করার মাধ্যমে এ মাসের দিনগুলি অতিবাহিত করে এবং শেষ হয় ঈদুল ফিতরের উৎসবের মাধ্যমে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা পাওয়ার সাথে রমজানের চাঁদের খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে যায়। বন্ধু ও পরিচিতরা এই মাসের আগমনকে কেন্দ্র করে একে অপরকে অভিনন্দন জানায়। রমজান মাসে ওমানের সব মসজিদে এশার নামাজের পর তারাবির নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এমাসে ওমানি নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। শা’বান মাস শুরু হলেই তারা রমজান মাসের প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতে শুরু করে। এছাড়াও, শিশুদেরকে ধর্মীয় রীতি নীতি শেখানো এবং ইফতার প্রস্তুত করা থেকে অন্যান্য কাজে নিয়োজিত হয়। অবশ্য কাজগুলি প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে ভিন্নতা রাখে।
ওমানিরা সাধারণত রাসুলের (সা.) সুন্নত অনুসরণ করে খোরমা দিয়ে ইফতার শুরু করে। রমজানে ওমানিদের অন্যতম রীতি হল প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনদেরকে খাদ্য উপহারের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন দৃঢ় করা।
১৫ই রমজান ওমানের সাম্রাজ্যের কিছু অঞ্চল এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলিতে “কারনকাশওয়া” বা কারকেয়ান নামক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান পালিত হয়। যাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে গেরগুশু বা (গিরা উন্মুক্ত করণ) উৎসব বলা হয়। এ উৎসবে মূলত শিশুরা রাস্তায় ও অলি-গলিতে ঘুরে বেড়ায় এবং তাদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের থেকে মিষ্টি, বাদাম এবং টাকা গ্রহণ করে থাকে। এই উৎসব পালনের মুল উদ্দেশ্য হল শিশুদেরকে আনন্দ দেয়া এবং উৎসবটিকে বাঁচিয়ে রাখা।
ওমানের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসবটি পৃথক পৃথক নামে পরিচিত। যেমন, তালমিস বা চাওয়া, অর্থাৎ শিশুদের মিষ্টি কুড়িয়ে বেড়ানো।
শিশুরা এই মাসকে স্বাগত জানাতে হাতে লণ্ঠন নিয়ে এবং গান গেয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। 4128056