
(( যদি আরও পুঁজি বিনিয়োগ ( সার্ময়েগোযরী ) করে ইরান সরকার বিমান শিল্প খাতে বিশেষ করে জেট টারবাইন ইঞ্জিন উৎপাদনে তাহলে ইরান অল্প সময়ের মধ্যেই যাত্রীবাহী বিমানও বানাতে পারবে । আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও স্যাংকশন ( তাহরীম ) ইরানের জন্য নেয়ামত , রহমত ও বরকতই বয়ে এনেছে । কারণ বিমান সেক্টরে এ নিষেধাজ্ঞা ইরানকে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ , মেরামত ও ওভারহল করার ক্ষেত্রে খোদকাফা ( স্বয়ংসম্পূর্ণ ) করেছে । আর এ বিষয়টা রয়টার্সও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে । কারণ রাশিয়া পাশ্চাত্যের নির্মিত একটি যাত্রীবাহী বিমান এয়ারবাস এ ৩৩০-৩০০ মেরামত ও ওভারহলের জন্য ইরানে পাঠিয়েছে । পাহলভী শাহানশাহী আমলে যে ইরান টয়লেটের অফতবেহ্ বা বদনা বানাতে পারত না বলে সুখ্যাতি বা কুখ্যাতি লাভ করেছিল সেই ইরান ইসলামী বিপ্লব এবং ইমাম খোমেইনী ও আয়াতুল্লাহ খামেনেঈর যোগ্য নেতৃত্ব ও ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে থাকার কল্যাণে আজ বড় বড় যাত্রীবাহী বিমান সম্পূর্ণ মেরামত , রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহল করতে সক্ষম । এটা কি বিরাট বড় সাফল্য ও কামিয়াবী নয় ? তার মা'নে পশ্চিমা বিশেষকরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত তাহরীম ( নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও স্যাংকশন ) ইরানকে তাওয়ানমন্দ্ ( সামর্থ্যবান ) ও শক্তিশালী করে তুলেছে । আসলে মহান আল্লাহর পথে দৃঢ়পদ থাকলে এবং জিহাদ ও প্রতিরোধ সংগ্রাম করলে মহান আল্লাহ এ ভাবেই প্রতিদান দেন ও পুরস্কৃত করেন জিহাদকারী ও প্রতিরোধ সংগ্রামীকে ।
وَ لَوْ أَنّ أَهْلَ الْقُرَیٰ آمَنُوْا وَ اتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَرَکَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَ الْأَرْضِ ( الأعراف : ۹۶ )
যদি জনপদ সমূহের অধিবাসী বৃন্দ ঈমান আনত ও তাকওয়া - পরহেযগারী অবলম্বন করত তবে তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করতাম ... ( আল - আরাফ : ৯৬ ) । ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন করার পরিণতি হচ্ছে মহান আল্লাহর নির্দেশে মুমিন মুত্তাকী বান্দাদের জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের কল্যাণ ও বরকত সমূহ উন্মুক্ত
হওয়া । আর ইসলামী বিপ্লব সাধন , ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর পথে সংগ্রাম , জিহাদ , দৃঢ়পদ ও অটল থাকা আসলে গভীর খাঁটি ঈমান ও তাকওয়ারই পরিচায়ক ।
وَ مَنْ یَتَّقِ اللّٰهَ یَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجَاً وَ یَرْزُقْهُ مِنْ حَیْثُ لَا یَحْتَسِبُ وَ مَنْ یَتَوَکَّلْ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللّٰهَ بَالِغ أَمْره قَدْ جَعَلَ اللّٰهُ لِکُلِّ شَیْءٍ قَدْرَاً ( سوره ی طلاق : ۲-۳ )
যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে ( আল্লাহর আযাব থেকে নিজেকে সংরক্ষণ ও রক্ষা করে ) তিনি (আল্লাহ ) তার মুক্তির পথ করে দেন । এবং এমন স্থান (উৎস্য )
থেকে তাকে রিযিক ( জীবনোপায় ও জীবনোপকরণ ) দান করেন যা সে ধারণাও করতে পারে না ; যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওক্কুল ( ভরসা ও নির্ভর ) করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর কর্ম পূর্ণ রূপে সম্পাদন করেন ; আল্লাহ সমস্ত কিছুর জন্যই এক নির্দিষ্ট মাত্রা নির্ধারণ করেছেন । ( সূরা -ই তালাক : ২-৩ )
)) ইসলামী বিপ্লব , ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা , আল্লাহর রাহে সংগ্রাম ও জিহাদ এবং মহান আল্লাহ , ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম , যালেমদের বিরুদ্ধে বিশ্বের মযলূম মুস্তাদাফ জনগণকে ( যেমন ফিলিস্তিনি , লেবাননী , ইরাকী , ইয়েমেনী , সিরীয়দের ) সাহায্য, তাকওয়া - পরহেযগারী অবলম্বন , মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা করার কারণে পশ্চিমাদের বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত দীর্ঘ ৪৪ বছরের কঠিন কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ ইরানকে মুক্তির পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং ইরানী জাতিকে ধারনাতীত রিযিকও দিচ্ছেন এবং তিনিই( মহান আল্লাহ) তাদের জন্য যথেষ্ট এবং তাদের ( প্রতিরোধ সংগ্রামী ইরানী জাতি ) কর্ম সমূহ সম্পূর্ণভাবে সম্পাদন করে দিচ্ছেন ( মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার জন্য ) । স্মর্তব্য রাশিয়াও বিশ্বে বৃহৎ বিমান শিল্পের অধিকারী রাষ্ট্র । আর সেই রাশিয়া কর্তৃক তার যাত্রীবাহী বিমান যেগুলো পাশ্চাত্যের নির্মিত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল করার দায়িত্ব ইরানের ওপর সোপর্দ করা চাট্টিখানি কথা নয় বরং এর অর্থ হচ্ছে যে অত্যন্ত জটিল এ সেক্টরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও অসহযোগিতা সত্ত্বেও ইরানের বিশাল ও উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক , কারিগরী ও প্রাযুক্তিক অগ্রগতি ( substantial development )
সাধিত হয়েছে যা খাটো করে দেখার উপায় নেই। শুধু এ ক্ষেত্রেই নয় আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও খাতেও মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ ও কৃপায় ইরান চোখ ধাঁধানো অভূতপূর্ব উন্নতি ও উৎকর্ষ লাভ করছে। যদি কোনো দেশ পাশ্চাত্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ , মেরামত ও ওভারহল শিল্পে সাফল্য অর্জন করে তাহলে তাতে তেমন কৃতিত্ব নেই । অথচ পাশ্চাত্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়াই বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনেই রয়েছে ইরানের কৃতিত্ব , গৌরব ও মাহাত্ম্য । তাই ইরান এ ক্ষেত্র সহ অন্য সকল ক্ষেত্রে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর আদর্শ ও মডেল হতে পারে।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
বিডি প্রতিদিনের নিম্নোক্ত খবর :
বিমান মেরামত করতে ইরানে পাঠাল রাশিয়া
পাশ্চাত্যে নির্মিত একটি যাত্রীবাহী বিমান মেরামত করার জন্য ইরানে পাঠিয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম বিমান পরিবহন সংস্থা অ্যারোফ্লট এয়ারলাইন্স।
রাশিয়ার ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমানটি মেরামতের জন্য পাশ্চাত্যে পাঠাতে পারেনি কোম্পানিটি।
এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যারোফ্লট। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোম্পানিটির একটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ বিমানকে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ইরানে পাঠানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটির বেশ কিছু রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করতে হবে এবং ইরানের একটি প্রতিষ্ঠান কাজগুলো করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, সনদপত্র এবং ব্যাপক মাত্রায় অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরানি প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাত্রার মান বজায় রেখে কাজ করে। তবে ইরানের ঠিক কোন প্রতিষ্ঠান কাজটি করবে তার নাম বলেনি অ্যারোফ্লট।
কোম্পানিটি এই বিবৃতি প্রকাশ করার আগে রাশিয়ার আরবিসি নিউজ চ্যানেল প্রথম জানিয়েছিল যে, রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমানকে মেরামতের উদ্দেশ্যে ইরানে পাঠানো হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, বিমানটি গত ৫ এপ্রিল ইরানে উড়ে যায় এবং এখনও সেখানে অবস্থান করছে।
এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ গত বছর ঘোষণা করেছিল, রাশিয়ার এয়ারলাইন্সগুলো মেইনটেইনেন্স বা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য তাদের বিমানগুলো ইরানে পাঠাচ্ছে। তবে এই প্রথম রাশিয়ার একটি বড় আকারের যাত্রীবাহী বিমান ইরানে পাঠানো হল।
ইরানের বিমান পরিবহন ব্যবস্থার ওপর গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তেহরান তার বিমানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাশ্চাত্যের সহযোগিতা না পেয়ে নিজেই সে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে এবং রাশিয়ার বিমান মেরামতের ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে যে, ইরান এক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সূত্র: রয়টার্স