IQNA

ইসলামী সমাজের সমস্যার মূলে রয়েছে সত্যকে আড়াল করা

8:55 - April 29, 2023
সংবাদ: 3473674
তেহরান (ইকনা): সমাজে যে সকল বিভেদ সৃষ্টি হয় তার মূলে রয়েছে সত্য ও অধিকার আড়াল করা; অবশ্যই, কিছু লোক উদ্দেশ্যমূলকভাবে একাধিক কাজ করে, তবে কিছু লোক অনিচ্ছাকৃতভাবে এবং অজ্ঞতা ও একটি সমস্যার সঠিক ব্যাখ্যার অভাবের কারণে সত্যকে আড়াল করে।
আয়াতুল্লাহ মোহসেন ফকিহি ২৪শে এপ্রিল ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চতর ক্লাসে সূরা বাকারার তাফসিরে আলোচনায়, তিনি ১৭৬ নম্বর আয়াতে মন্তব্য করেছেন, যা নীচে তুলে ধরা হল:
«ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ
অর্থ: এ (শাস্তি কেবল) এজন্য যে, আল্লাহ সত্যের সাথে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন এবং যারা গ্রন্থের ক্ষেত্রে মতভেদ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয় তারা সত্যপথ থেকে বহুদূরে সরে গিয়ে কলহে লিপ্ত হয়েছে। 
গোপন করা হল সবচেয়ে বড় পাপ যা কুরআন কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং যারা এটি করে তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির জন্য কুরআন নির্দেশ করে। এই বিবৃতিটি সমাজে ঘটে যাওয়া বাস্তবতাকে নির্দেশ করে এবং সমাজের জন্য এর খারাপ পরিণতি রয়েছে বলে মহান আল্লাহ এর নিন্দা করেছেন।
. «إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অর্থ: নিশ্চয় যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা (বিধি-বিধান) গোপন করে এবং স্বল্প মূল্যে (পার্থিব লাভে) তা বিক্রয় করে, তারা তো কেবল তাদের উদরে (মুখ দিয়ে) অগ্নি ভক্ষণ করে ; এবং কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কোন কথাও বলবেন না, আর না তাদের (গুনাহ হতে) পবিত্র করবেন। তাদের জন্যই রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
সূরা বাকারা, আয়াত: ১৭৪।
 
 
হক-সন্ধানী মানে ধর্মের সকল বিষয়ের গ্রহণযোগ্যতা
যদি কিছু লোক সত্যকে না বুঝে এবং এর মূলনীতিকে অস্বীকার করে, বা তা গ্রহণ না করে, অথবা সত্যের একটি অংশ গ্রহণ করে এবং অন্য অংশকে গ্রহণ না করে, তবে এর কারণ তারা কুরআনকে আদর্শ ও মডেল হিসাবে বিবেচনা করে না। কিছু লোকের, বিশেষ করে ভন্ডদের একটি কৌশল হল তারা মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য সত্য ও মিথ্যাকে মিশিয়ে দেয়, কারণ তারা শুধুমাত্র মিথ্যা কথা বললে অনেকেই তা সহজে মেনে নেবে, কিন্তু যখন সত্য কথার সাথে মিথ্যা মিশ্রিত হয়, তখন সত্য ও মিথ্যা চেনা কঠিন হয়ে যায়, যা সব মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
অতএব, তিনিই একজন হক-সন্ধানী যিনি পবিত্র কুরআনের সমস্ত অংশ গ্রহণ করে, কারণ কেউ বলে যে আমরা নির্দিষ্ট কিছু সূরা এবং আয়াত গ্রহণ করি, কিন্তু আমরা অন্য আয়াত গ্রহণ করি না, কিন্তু যখন একজন ব্যক্তি সমস্ত আয়াত গ্রহণ করে, তখন সেখানে সত্যের কোন আড়াল থাকে না। এটা বলা যাবে না যে আমি “রুহামা বাইনাহুম” গ্রহণ করি, কিন্তু আমি “আশাদ্দু আলাল কুফ্ফার” গ্রহণ করি না; অথবা আমি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের রহমত ও অনুকম্পা গ্রহণ করি, কিন্তু আমি যে পাপই করি না কেন, আখিরাতে বা দুনিয়াতে তার কোনো শাস্তি নেই। আমি মহান আল্লাহ কাহ্হার ও জব্বার নামক যে সেফাত রয়েছে কা গ্রহণ করি না, কিন্তু আমি তাঁর রহমান নামক সেফাত যার অর্থ করুণা তা গ্রহণ করি।
এখানে বলতে হয় যখন আমরা মুসলমান এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি, তখন অবশ্য ইসলামের সকল বিষয়কে আমাদের মেনে নিতে হবে এবং সেভাবে আমাদের জীবন পরিচালিত করতে হবে।

 

captcha