IQNA

" ইউরোপজুড়ে তাপ দাহ লক্ষণ মাত্র রোগ পৃথিবী জুড়ে। "

15:01 - July 25, 2023
সংবাদ: 3474103
তেহরান (ইকনা):  নাভিদ সালেহ প্রণীত এ প্রবন্ধ সংক্রান্ত কিছু কথা : বরফ যুগে ( যা ৫০০০০ বছর স্থায়ী হয় ) বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব থাকে সবচেয়ে কম এবং উষ্ণায়নের যুগে ( যা ৫০০০০ বছর স্থায়ী হয় ) বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি। 

কিন্তু শিল্প বিপ্লবের আগে গত ২০ লাখ বছরে এমনকি উষ্ণায়নের যুগেও বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব ২৮০ পিপিএম ছাড়িয়ে যায়নি অথচ এই শিল্প বিপ্লবের পর গত ৩০০ বছরে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব ৪২০ পিপিএম ছাড়িয়ে গেছে ! তার মানে বিশ্ব উষ্ণায়নে প্রকৃতির চাইতে মানুষের বিশেষ করে শিল্পোন্নত পশ্চিমা দেশগুলো ( ব্রিটেন , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , ফ্রান্স , জার্মান ইত্যাদি ) এবং  শিল্পোন্নত প্রাচ্যের ( চীন , জাপান , দক্ষিণ কোরিয়া , ভারত ইত্যাদি ) ভূমিকা ও অবদান অনেক বেশি। শিল্প বিপ্লব বিশেষ করে রাসয়নিক শিল্পের বিকাশ লাভের পর থেকে শুধুমাত্র কার্বন দূষণই হচ্ছে না নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থেরও দূষণ বাড়ছে যেগুলো প্রকৃতিতে বিভাযিত হয়ে আত্তীকৃত হতে বহু বছর এমনকি কয়েক শতাব্দী বা কয়েক হাজার বছরও লেগে যেতে পারে। সুতরাং উষ্ণায়ন ও প্রকৃতি পরিবেশ দূষণের এক অতি জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে । এ বছর (২০২৩ সালে ) গরম অত্যন্ত বেশি এবং বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ও ঘনত্ব দিন দিন বাড়তে থাকলে সামনে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া আরো গরম হতে থাকবে এবং এমন এক ভয়ংকর পর্যায়ে উপনীত হতে পারে যে তখন মানব জাতির পক্ষে পৃথিবীর বুকে টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে যাবে এমনকি মানব জাতির বিলুপ্তি ঘটাও অনাকাঙ্ক্ষিত হবে না । কয়েক বছর আগে বিজ্ঞানী স্টিভেন হকিংও ১০০০ বছরের মধ্যেই মানবজাতির বিলুপ্ত হওয়া সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে , যে শিল্প ও প্রযুক্তি বিপ্লব ৩০০ বছরের মধ্যেই হাজার হাজার বছর ধরে তথাকথিত আধুনিক এ প্রযুক্তি ও শিল্প ছাড়া টিকে থাকা মানব জাতিকে মাত্র ৩০০ বছরের মধ্যে ধ্বংস ও বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা কীভাবে উপকারী শিল্প ও প্রযুক্তি হতে পারে ? !!!  অথচ এই শিল্প ও প্রযুক্তি নিয়ে পাশ্চাত্যের গর্ব ও অহংকারের শেষ নেই !! 
লেখক নাভিদ সালেহ আলোচ্য নিবন্ধে এ ব্যাপারে কেবল প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। অনেকে হয়তো বলতে পারেন যে প্রযুক্তির চেয়ে শিল্পই এ অবস্থা অর্থাৎ উষ্ণায়ন ও প্রকৃতি পরিবেশের দূষণের জন্য মূলত : দায়ী। কিন্তু এই প্রযুক্তি ব্যতীত আধুনিক শিল্পের বিকাশ ও প্রসার একদম সম্ভবই হত না । কারণ শিল্পের বিকাশ পুরোপুরি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। আর এ প্রযুক্তি ও শিল্প যে মোটেও প্রকৃতি বান্ধব নয় বরং প্রকৃতি বৈরী এবং প্রকৃতি - পরিবেশ দূষণের কারণ তা রেনেসাঁর পরে ইউরোপে বিকাশ লাভ করে এবং পরবর্তীতে প্রাচ্য সহ সমগ্র বিশ্বে তা ছড়িয়ে পড়ে। দরকার ছিল প্রকৃতি বান্ধব প্রযুক্তি ও শিল্পের বিকাশ যা মুসলিম বিশ্বে সাধিত হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে তা এগিয়েও যাচ্ছিল যার প্রমাণ খ্রিষ্টীয় ষড়দশ , সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে অটোম্যান তু্র্কী সাম্রাজ্য , সাফাভী ইরান ও মুঘল শাসিত ভারতবর্ষ ( এ ব্যাপারে বিস্তারিত  আলোচনা এখানে সম্ভব নয় ) । কিন্তু ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের ষড়যন্ত্রে এবং ছলেবলে কৌশলে এ সব মুসলিম সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে এ সব সাম্রাজ্যে বিদ্যমান প্রযুক্তি ও শিল্পকে ধ্বংস করে সেখানে পাশ্চাত্য প্রযুক্তি ও শিল্পের প্রসার ঘটিয়েছে ঐ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ( ব্রিটেন , ফ্রান্স , হল্যান্ড , ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) । বাদবাকি বিশ্বেও যেমন: চীন , জাপান ও কোরিয়া ইত্যাদিতেও একই কাজ করা হয়েছে অর্থাৎ দেশজ শিল্প ও প্রযুক্তির বিলুপ্তি ঘটিয়ে পশ্চিমা প্রযুক্তি ও শিল্পের বিকাশ ঘটানো হয়েছে। দেশীয় বা দেশজ শিল্প ও প্রযুক্তি থাকলে জনগণ বিদেশী প্রযুক্তি ও শিল্প গ্রহণ করবে না এবং তা না করলে ইউরোপীয় পণ্য ও সামগ্রী বাজার পাবে না ( ফলে প্রচুর টাকা পয়সা কামান সম্ভব হবে না ) এবং দেশী প্রযুক্তি ও শিল্প বিদ্যমান থাকলে পশ্চিমারা এ সব দেশ থেকে অনায়াসে কাঁচামাল লুটপাট করে বহুল পরিমাণে নিয়ে যেতেও পারবে না এ কারণে যে ঐ সব কাঁচামাল দেশীয় শিল্পে ব্যবহৃত হবে । 
তাই পশ্চিমা শিল্প ও প্রযুক্তির ব্যাপক চোখ ধাঁধানো বিকাশ সম্ভব হবে না এবং এ কারণেই পশ্চিমা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহ উপনিবেশ সমূহে সর্ব প্রথম দেশীয় শিল্প ও প্রযুক্তির ধ্বংস সাধন করে জনগণের মন-মগজ থেকে সেগুলো সম্পূর্ণ বিস্মৃত করেছে ও মুছে দিয়েছে এবং এমন ভাবে ফরমায়েশী বানোয়াট ইতিহাস রচনা করে দেখাচ্ছে এ সব উপনিবেশে ইউরোপীয়দের আগমনের আগে প্রযুক্তি ও শিল্প একদম ছিল না অথবা থাকলেও তা ছিল খুবই সেকেলে ও অনগ্রসর ঠিক যেমনটা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচার করা হয়ে থাকে। তবে এটা ঠিক যে এ সব দেশীয় প্রযুক্তি ও শিল্পের ধরণ ধারণ পশ্চিমা প্রযুক্তি ও শিল্পের ধরণ ধারণ থেকে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের। বরং দেশজ প্রযুক্তি ও শিল্প ছিল দেশ ও অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশের উপযোগী এবং তা ছিল না প্রকৃতি ও পরিবেশ বৈরী ও ধ্বংসাত্মক। ইউরোপে বিশেষ করে ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লব না হলে প্রাচ্যের প্রযুক্তি ও শিল্প হয়তো বিশ্বে প্রচলিত হত ও প্রসার লাভ করত বা বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের দেশী প্রযুক্তি ও শিল্প গুলোই বিকশিত হত । পশ্চিমা শিল্প ও প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বের কারণে প্রধানত : ও মূলত : বিভিন্ন দেশের এ সব দেশীয় প্রযুক্তি ও শিল্প বিলুপ্ত হয় নি বরং পশ্চিমাদের নিরবচ্ছিন্ন ষড়যন্ত্র , অন্যায় বল প্রয়োগ ও বৈরী নীতিই এ সব দেশী প্রযুক্তি ও শিল্পের বিলুপ্তির জন্য মূলত দায়ী। যেমন উদাহরণ স্বরূপ : ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক সুক্ষ্ম মসলিন বস্ত্রবয়ন কারী তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে দেওয়া এবং ৫৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কারী পুলবন্দী দফতরের বিলুপ্তি । এমন বহু উদাহরণ দেওয়া যাবে ভারত বর্ষ সহ বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে।
মধ্যযুগে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে কৃষি বিপ্লব সাধিত হলে প্রায় ১১ শো - ১২ শো বছরের মধ্যে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় নি। অথচ মুসলিম বিশ্বের ৮০% ভূখণ্ড ও জমি এক রকম পানিশূন্য ও শুষ্ক ( বৃষ্টিপাত কমে হওয়ার জন্য )। কিন্তু মাটির নীচ দিয়ে ক্যানেল তৈরি করে ভূগর্ভস্থ উৎস্য থেকে পানি শস্য ক্ষেত্রে এনে সেচের ব্যবস্থা ( ঐতিহ্য বাহী কানাত ) করে শস্য ও কৃষি পণ্য উৎপাদন করে মুসলিম দেশগুলোতে জনগণ খাদ্য ঘাটতি ও দুর্ভিক্ষ থেকে রেহাই পেয়েছিল । এই কানাত ব্যবস্থা ও বিশেষ পদ্ধতি এবং পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত বরফ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণকারী আধার ( অব আম্বর ) শহরাঞ্চল ও জনপদ সমূহের পানীয় জলের ব্যবস্থা এমনকি প্রাকৃতিক উপায়ে রিফ্রিজারেশন ব্যবস্থা করে পচনশীল খাদ্য দ্রব্য ও মাংস সংরক্ষণ করা হত । এমনকি ইরানের প্রচণ্ড উষ্ণ ও তপ্ত গ্রীষ্মকালে বরফের তৈরি মিষ্টান্ন সুস্বাদু ফালুদা খেয়ে ফরাসী পরিব্রাজক তাভার্নিয়ে ( সপ্তদশ শতাব্দী ) খুবই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন । অথচ  গ্রীষ্মকালে ইউরোপে উঁচু পাহাড় ও পর্বত শৃঙ্গ ছাড়া আর কোথাও বরফ পাওয়া যেত না !! কিন্তু তখন ইরানের শহরগুলোতে তীব্র গরমকালেও বরফ পাওয়া যেত !!
বিভিন্ন ধরনের বাদগীর ( air catcher ) যা পানির ভেতর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করে ঘরের অভ্যন্তরে এনে গরমকালে ঘর শীতল করার পদ্ধতি ও ব্যবস্থা এবং আর্দ্র অঞ্চল যেমন: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ও রাজ্য সমূহে বিশেষ ধরনের শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রচলন ছিল ৫০ °সেলসিয়াসের অধিক গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে বাঁচার জন্য। তাভার্নিয়ে তার সফরনামায় লিখেছেন ( ৩৫০ বছর আগে ) যে , দূরত্ব কমানো ও সফর সহজ করার জন্য ইরানীরা অত্যন্ত বিপজ্জনক স্থানসমূহে অবস্থিত খাড়া উঁচু পাহাড় সমূহ সংযোজনকারী ঝুলন্ত সেতু ও সড়ক নির্মাণ করত যা তার দৃষ্টিতে ছিল খুবই সাহসিকতার পরিচায়ক ও প্রশংসনীয় এবং ইউরোপে তা করা হত না । অথচ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানরা ইরানে এসে কয়েকটি ঝুলন্ত সেতু ও সড়ক নির্মাণ করে !!!  বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া এ ধরনের সেতু ও সড়ক নির্মাণ জার্মানদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু এরও ২৫০ বছর আগে ( ১৬৫০ এর দিকে ) ইরানীরা কীভাবে এবং কোন্ ধরণের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে উঁচু উঁচু পাহাড়কে ঝুলন্ত সেতু, পুল ও সড়ক নির্মাণ করে পরস্পর সংযুক্ত করেছিল ?!!! তারা কি তাহলে জিনদের ব্যবহার করে ওগুলো নির্মাণ করিয়েছিল নাকি এ ক্ষেত্রে কোনো দেশীয় প্রযুক্তি ও কৌশল অবশ্যই ছিল যা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ?!!! 
ফরাসী পরিব্রাজক তাভার্নিয়ে (সপ্তদশ শতকের ) এবং সপ্তদশ - অষ্টাদশ শতাব্দীর পরিব্রাজক শার্দিন তাদের নিজ নিজ সফর নামায় লিখেছেন যে ইরানীরা খুবই স্বাস্থ্যবান এবং ইউরোপীয় দের তুলনায় ইরানীরা খুব কমই অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত হয় । ইরানে সংক্রামক ব্যাধি নেই বললেই চলে । ইরানী চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল মূলত : প্রতিষেধ মূলক ( prophylactic) যা অধিকতর বৈজ্ঞানিক ও সাশ্রয়ী। এজন্য তখন ইরানে ইউরোপের মতো হাসপাতাল ছিল না । কারণ সেগুলোর তখন প্রয়োজনও হত না । এখন ৩৫০ বছর পরে ইরানে যে সব রোগ আছে সেগুলো তখন ছিল না ( তাভার্নিয়ে ও শার্দিনের বিবরণে ) !! তাই এক অপূর্ব সার্বিক সফল স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল।
যা হোক ঐ সময় মুসলিম বিশ্বে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ হত না । অথচ ঐ একই সময় ইউরোপ , চীন , জাপান ও কোরিয়ায় মুহুর্মুহু দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকত এবং বহু অগণিত লোক মারাও যেত । বলা হয় যে চীনে গত ২০০০ বছরে ১৯০০ এর অধিক দুর্ভিক্ষ হয়েছে । এমনকি বিংশ শতকের প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত ইউরোপ, চীন , কোরিয়া ও জাপানে দুর্ভিক্ষে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অথচ এ সব দেশ বৃষ্টিবহুল এবং সেগুলো মুসলিম দেশগুলোর মতো শুষ্ক ও পানিশূন্য নয় !! 
শুষ্ক ও পানিশূন্য দেশ সমূহে ১০০০ বছরের অধিক কাল ধরে প্রচুর খাদ্যশস্য , ফল ও তরিতরকারি উৎপাদন উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা  ছাড়া সম্ভব ?!! অথচ বাংলাদেশ সহ মুসলিম বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ কবলিত হলেই অষ্টাদশ , ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশে সতেরো হাজার প্রজাতির ধান ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ দু:শাসনের প্রভাবে এবং তৎপ্রবর্তিত আধুনিক পশ্চিমা কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বদৌলতে এখন মাত্র ৩০০০ প্রজাতির ধান টিকে আছে। অথচ ১৭০০০ প্রজাতির ধান কি উন্নত দেশী কৃষি বিজ্ঞানের সাক্ষর নয় যা হাজার হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিল ?! বাংলাদেশেও মাটির নীচে পানি ঠাণ্ডা করে জমিয়ে বরফ তৈরি করা হত মধ্যযুগে । আসলে যে সব শতাব্দীকে ইউরোপীয়রা মধ্যযুগ বলে অভিহিত করে ও নাক সিঁটকায় সেগুলো আসলে প্রাচ্য বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য মধ্যযুগ ছিল না । তবে মুসলিম দেশগুলোর প্রকৃত মধ্যযুগের সূচনা হয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে যা আজও বিদ্যমান।
প্রাচ্য দেশীয় যে গুটিকয়েক প্রযুক্তি ও শিল্প ব্যবস্থার উদাহরণ দেওয়া হল সেগুলো আসলে প্রকৃতি ও পরিবেশ নাশক বা দূষণ সৃষ্টি কারী নয় অথবা সেগুলোয় দূষণের মাত্রা খুবই কম !! তাই পাশ্চাত্যে যদি ভয়ঙ্কর রাক্ষুসী এ প্রযুক্তি ও শিল্প বিপ্লব না হত তাহলে আজ কোনো ভাবেই বায়ু মণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব ৪২০ পিপিএম ছাড়িয়ে যেতই না বরং ২৮০ পিপিএমের চেয়েও অনেক অনেক বেশি নীচে থাকত এবং উষ্ণায়নের যুগে হয়তো এত অধিক তাড়াতাড়ি প্রবেশ করতে হত না। ২০ লাখ বছরে যেখানে কার্বন পিপিএম ছিল ২৮০ এরও বহু নীচে সেখানে মাত্র ৩০০ বছরের মধ্যে  বায়ুমণ্ডলে কার্বনের ঘনত্ব ৪২০ পিপিএম ছাড়িয়ে গেছে এবং এখান থেকে বোঝা যায় যে পাশ্চাত্য সভ্যতা কত ভয়ঙ্কর রাক্ষুসে গোছের ও ভীষণ সর্বনাশী‌ ! এ সভ্যতার ভিত্তিমূলই হচ্ছে বস্তুবাদ , অবাধ যৌনতা , বৈধাবৈধের ধার না ধারা , ভোগবাদ, স্বার্থপরতা , নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করা , হিংস্রতা , রক্তপিপাসা, রক্তপাত , গণহত্যা , প্রজন্ম নিধন , লুণ্ঠন লুটতরাজ এবং কট্টর ধর্মবিরোধিতা ( সেক্যুলারিজম = ধর্মহীনতা ) বিশেষ করে ইসলামের বিরোধিতা । এমন সভ্যতা আসলে গোটা বিশ্ব ও মানব জাতিকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিয়ে যাবেই। আর সেই প্রক্রিয়াই শুরু হয়ে গেছে। 
পাশ্চাত্য অর্থনীতি পুরোপুরি হারাম সুদ ( রিবা ) ভিত্তিক । সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক মুনাফা ( লাভ) এবং ভোগবিলাস ও অপচয় ( মাত্রাতিরিক্ত খরচ ও ব্যয় )ই হচ্ছে অধিক মাত্রাতিরিক্ত শিল্পোৎপাদনের মূল চালিকা শক্তি এবং প্রযুক্তি ব্যতীত এ শিল্পও সম্পূর্ণ অচল । আর অধিক শিল্পোৎপাদন ও অধিক শস্য ও ফসল ফলানোর কারণেই প্রকৃতি পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ও বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ন হচ্ছে । আর পাশ্চাত্য প্রযুক্তি ও শিল্পের ভিত্তিমূল হারাম সুদ (রিবা) ভিত্তিক অর্থনীতি।  হারাম রিবা ও সুদে প্রকৃত কোন বরকত ও কল্যাণ নেই । বরং তাতে রয়েছে শুধু ধ্বংস ও নারকীয় আযাব । আর তাই পশ্চিমা এই প্রযুক্তি ও শিল্প বিশ্বকে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ড বানিয়েই ছাড়বে ( ইতিমধ্যে বানিয়েও ফেলেছে ) যদি বিশ্ববাসী পাশ্চাত্য প্রবর্তিত বস্তুবাদ , স্বার্থপরতা , ধর্মহীনতা , অবাধ যৌনাচার, অশালীনতা, নীতিজ্ঞানহীনতা , অন্যায় - অবিচার , অপচয় , সুদভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রকৃতি পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি ও বিনাশকারী প্রযুক্তি ও শিল্পের অর্গল থেকে মুক্তি না পায় !!!
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

captcha