
এই মসজিদের একটি শিলালিপি থেকে জানা যায় যে সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের পুত্র রুকুন উদ্দিন ফিরোজ শাহ যখন বদায়ুনের প্রাদেশিক শাসনকর্তা, তখন সুলতান কর্তৃক ১২২৩ সালে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১২১০ সালে।
ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ভারতের বৃহত্তম মসজিদগুলোর অন্যতম। এর দৈর্ঘ্য ২৮০ ফুট (৮৫.৩৪ মি.) এবং প্রস্থ ২২৬ ফুট (৬৮.৪৪ মি.)।
মসজিদটিতে একটি নামাজঘর, একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ এবং উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের তিনদিক রিওয়াক পরিবেষ্টিত ছিল। নামাজঘরের দৈর্ঘ্য ২৫৭ ফুট (৭৮.৩৩ মি.) এবং প্রস্থ ৭৫ ফুট (২২-৮৬ মি.)। সাহন বা উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট (৫৪.৮৬ মি.) এবং প্রস্থ ১৪ ফুট (২৮.৬৫ মি.)। কয়েকবার সংস্কারের ফলে মূল রিওয়াকের অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
নামাজঘর তিন আইলবিশিষ্ট। অতিকায় চতুষ্কোণ স্তম্ভরাজির ওপর নামাজঘরের ছাদ ন্যস্ত। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের তিনদিকের রিওয়াক দুই আইলবিশিষ্ট রিওয়াকের ছাদ দুই সারি চতুষ্কোণ স্তম্ভের ওপর ন্যস্ত। নামাজঘরের পশ্চিম দেয়ালের মধ্যস্থলে রয়েছে একটি বর্গাকার মিহরাব। বর্গাকার মিহরাবের ব্যবহার ভারতে সম্ভবত এটাই প্রথম।
এর উভয় পাশে দুটি খর্বাকৃতি স্তম্ভ সংযুক্ত রয়েছে। মিহরাবের ঠিক সম্মুখের ছাদের ওপর একটি গম্বুজ রয়েছে, যা মুগল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) রাজত্বকালের শেষভাগে নির্মিত হয়। নামাজ গৃহে প্রবেশের কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথটিও সম্রাট আকবরের আমলে সংযোজিত। ১৩২৬ খ্রিস্টাব্দে যখন মুহাম্মদ শাহ তুঘলকের আদেশে এর সংস্কার করা হয়, তখন এর চার কোণায় চারটি বুরুজ সংযোজিত হয়। ১২ ফুট (৩.৬৫ মি.) উচ্চতা পর্যন্ত মসজিদটি বেলে পাথর দ্বারা নির্মিত হলেও অবশিষ্টাংশের নির্মাণকাজের জন্য ইট ব্যবহৃত হয়েছে।
ইলতুৎমিশের সময়ে মসজিদটির অলংকরণ বিশেষ আকর্ষণীয় ছিল বলে অনুমান করা হয়। ওই সময় ইটের ওপর উত্কীর্ণ নকশা মসজিদটির গাত্রালংকারের শ্রীবৃদ্ধি করেছিল। দেয়ালের ভেতরের দিক পলেস্তারায় সৃষ্ট উত্থিত নকশা দ্বারা অলংকৃত ছিল। ইলতুৎমিশের সময়ে মসজিদটিতে চকচকে রঙিন টালির দ্বারা জ্যামিতিক ও লতা-পাতার অলংকরণও শোভা পেত। তবে ১৩২৬ খ্রিস্টাব্দে তুঘলক আমলে দুবার সংস্কারের ফলে এই টালি অলংকরণের প্রায় সব কিছুই পলেস্তারার আবরণের নিচে ঢাকা পড়ে যায়।