
মুসলিম টিভির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘ইন্ডেক্স অব পারসিকিউশন ইন্ডিয়া’ প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ অন্তত ১৩ জন মুসলিম ধর্মীয় ঘৃণামূলক অপরাধের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ঘৃণা প্রচার, পুলিশি নির্যাতন এবং ইসলামী ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে অপরাধীকরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বিহারে, এরপর ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশ ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য, যেখানে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা যোগী আদিত্যনাথ শাসন করছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ে অন্তত চারজন মুসলিম সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশে দুই মুসলিম ভাই পুলিশের সাথে ‘সংঘর্ষে’ নিহত হন, যা আদিত্যনাথের কঠোর নির্দেশের কয়েকদিন পর ঘটে।
জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে একজন মুসলিম যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দিল্লিতে পুলিশ হেফাজতে আরেকজন মুসলিম যুবক মারা যান, যার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ ক্রমশ ইসলামী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের অনুষ্ঠানগুলোকে অপরাধীকরণ করছে।
রমজান মাসে ৪০ জনেরও বেশি মুসলিমকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ১২ জন মুসলিমকে একটি খালি বাড়িতে জুমার নামাজ আদায়ের পর গ্রেপ্তার করা হয়।
আরেকটি ঘটনায়, ১৪ জন যুবক মুসলিমকে গঙ্গা নদীতে নৌকায় ইফতারের পর গ্রেপ্তার করা হয়। একজন বিজেপি নেতা তাদের বিরুদ্ধে মুরগি খাওয়া এবং খাবারের অবশিষ্টাংশ নদীতে ফেলার অভিযোগ এনেছিলেন। 4353205#